গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৩৮)

নীল সবুজের লুকোচুরি

 

হঠাৎ খুব আনন্দ বা দুঃখ হলে এই রকম অনুভূতি সবারই হয়। খুব ইচ্ছে করছিল আরিয়ানের সাথে মন খুলে কথা বলতে। ওকে একটু আদর করতে, আর একটু বেশিক্ষণ আটকে রাখতে। মনে হচ্ছিল আরিয়ান যেন সুমিতারই সন্তান। যেন অনেক দিন পর ছেলে বাড়ি ফিরেছে। যেন সুদীর্ঘ বছর সুমিতা ওর জন্যই অপেক্ষা করে আছে! আসলে ঠিক এইভাবেই তো আয়ানের ফেরার প্রতীক্ষায় সুমিতা দীর্ঘ দিন কাটিয়েছে।

আরিয়ানকে সামনাসামনি দেখে বুকের ভেতরতা বড্ড উথালপাথাল করছিল। বুকটাযেন ফেটে যাবে তক্ষুণি। যেন প্রাণটা গলার গোড়ায় আটকে গিয়েছিল। দম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যেন কিছুক্ষণের জন্য।
যদিও আপাত দৃষ্টিতে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যার জন্য এরকম হতে পারে বা সেরকম কিছু সাধারণত হবারো ছিল না!
কিন্তু সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যার কোন বাস্তবিকতা নেই বা ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আরিয়ান চলে যাবার পর সুমিতার মনে হতে লাগলো যেন ও আবার কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে। এরকম একটা ফিলিংসে ওর বুক ফেটে কান্না পেয়েছিল। তাই ছুটে ওয়াশরুমে গিয়েছিল নোনা জলের বন্যাটাকে বেসিনের জলে মিশিয়ে দিতে। নিজেকে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। নিজের মুখে হাত রেখে কুঁচকে যাওয়া গালের চামড়ার দিকে তাকিয়ে জীবনে আজ প্রথমবার হারিয়ে যাওয়া সময়ের সাথে স্বপ্নগুলোকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণায় চিৎকার করতে ইচ্ছে করছিল। চোখের জলকে কে কবে বেঁধে রাখতে পারে? অনুভূতির সাগরে একটু তরঙ্গ উঠলেই হাসি-কান্না অপ্রতিরোধ্য হয়ে পরে। তাইতো নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখতে সবার আড়ালে চলে যেতে হয়। সুমিতাও তাই করেছিল সেদিন।
অবশ্য আয়ান যেদিন বিদেশের পথে পারি দিয়েছিল সেদিন সুমিতা খুব কেঁদেছিল। তারপর থেকে একা একা রাতের পর রাত জেগে থাকত। আয়ানের ভালোবাসা গায়ে মেখে ছিল বলে নিজেকে নিজের হাতে জড়িয়ে রাখত। আয়ানের ছোঁয়া টুকু আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রাখার চেষ্টা করত। তখন ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে ওয়াশরুমে গিয়ে মাঝে মাঝেই এরকম করত। কলিগরা অনেকেই ওর এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিল। তবে সুমিতা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সারা দেহ মন জুড়ে আয়ানের উপস্থিতিটুকু বাঁচিয়ে রেখেছিল বছরের পর বছর ধরে।

আসছি পরের পর্বে

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!