কবিতা সিরিজে রতন বসাক

১| মেয়ের আক্ষেপ

কূজন শুনে চুপটি করে
বসে আছে মেয়ে,
দূরের দিকে নয়ন মেলে
উদাস মনে চেয়ে।
ভেবে যাচ্ছে একা একাই
কেমন দেখতে পাখি,
সবার মতো আমার যদি
থাকতো দুটো আঁখি!
শুনতে পেয়ে শব্দগুলো
ইচ্ছে মনে জাগে,
পাই না দেখা কি যে করি
হৃদে বড্ড লাগে।
তবু ভালো শুনতে পাচ্ছি
কানটা দিয়ে অামি,
হতাশ ছেড়ে তার কারণে
দুঃখ পেয়েও থামি।
সবার ইচ্ছে হয় না পূরণ
জ্ঞানী মানুষ বলে,
কেন জানি মনে পড়লে
ভাসি অশ্রু জলে!

২| সুস্থ থাকতে

গ্রীষ্ম এলো গরম নিয়ে
গাছে ভর্তি ফল,
নদী নালা খালে বিলে
কমে যাবে জল।
উষ্ণ বাতাস গায়ে লেগে
ঝরে পরে ঘাম,
সব্জিগুলো কম হওয়াতে
বেড়ে যাবে দাম।
রোদে পুড়ে জমির পরে
কৃষক করে চাষ,
প্রখর তাপে মাটির বুকে
শুকিয়ে যায় ঘাস।
বাইরে গেলে ছাতা চশমা
পরতে হবে ভাই,
ফাঁকা রাস্তা ধূ-ধূ করছে
মানুষ কেহ নাই।
রোদ কমলে খেলা করে
ছেলে মেয়ে সব,
চারিদিকে শোনা যাচ্ছে
ভোটের শুধু রব।
ঠান্ডা এবং অল্প খাবার
করতে হবে রোজ,
মাস্কটা পরে বাইরে যাবে
হাতটা ধুয়ে ভোজ।

৩। ঋতুর খেলা

ধরার বুকে ঋতুর খেলা
চলছে বছর ভর,
বসন্ত আজ এসে গেছে
ঠান্ডা যাবার পর।
গগন ভরা রবির আলো
ঝল মলিয়ে ওই,
ফুলের মেলা বৃক্ষ শাখে
শুধুই চেয়ে রই।
পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়া
ফুলের রঙটা লাল,
কচি সবুজ নতুন পাতা
ভরছে গাছের ডাল।
কোকিল করে কুহু কুহু
মধুর লাগে ডাক,
ফুলের সুবাস বয়ে চলে
গন্ধ পাচ্ছে নাক।
আমের গাছে হলুদ রঙে
ছড়িয়ে রয় বোল,
বসন্তে হয় রঙের খেলা
যারে বলে দোল।
অল্প ঠান্ডা হালকা গরম
দারুণ লাগে গায়,
এমন মধুর সুন্দর দিনে
তারে কাছে চায়।

৪। কবিতা হলো

কবিতা আমার মায়ের মতোন
সুখে দুখে থাকে পাশে,
লিখছি বলেই দেশ বিদেশের
বহু জন ভালোবাসে।
কবিতা আমার মনের মানুষ
ভাবনা ভালোই বোঝে,
অনেক সুন্দর লেখার জন্যই
ছন্দ মাত্রাগুলো খোঁজে।
কবিতা আমার সময়ের সাথী
সাথে থেকে কথা বলে,
যেখানে যাই না কেনো সদাই
আদেশ পেলেই চলে।
কবিতা আমার বন্ধুর মতোন
সব মেনে নেয় কথা,
শোনার পরেই বিচার করেই
বলে ভালো মন্দ যথা।
কবিতা আমার সন্তান সমান
ভবিষ্যৎ আর আশা,
জমা যত সুখ দুখ লিখে বলি
আমার মনের ভাষা।
কবিতা আমার জীবন সঙ্গীত
সুরিলা মধুর গান,
লেখার কারণ সম্মাননা পেয়ে
বেরেছে অনেক মান।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।