অণুগল্পে পার্থপ্রতিম পাঁজা

পরকীয়া
–ফালতু কথা একদম বলবেনা। আমি তোমার কোন অভাবটা রেখেছি?জন্মদিন,বিবাহবর্ষিকীতে দামী সোনার গয়না,মাঝে-মধ্যেই মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা ,শহরের সেরা রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো ,বছরে অন্তত দুটো বড় ট্যুর –আর কী চাই তোমার ?
–তোমাকে চাই তোমাকে। তোমার মন, তোমার শরীকে –সেই আগের মতো ।সত্যি,ভাবতে অবাক লাগে, আমরা নাকি বিয়ের আগে আট বছর প্রেম করে কাটিয়েছি !
–মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজের ওয়ার্কলোড বোঝো ? সারদিনের নাকে দড়ি দেওয়া দৌড়ঝাঁপের পরে শরীর-মনের কিছু অবশিষ্ট থাকে ? আমি বলেই তারপরেও এতকিছু করি তোমার জন্যে। আমার পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব নয়, ব্যাস !
–তা সম্ভব হবে কী করে ! তৃষা, সৃজিতা ,রুমনিদের জন্যে তো তোমার ঠিক সময় বেরিয়ে যায়?
–দেখো,কলিগ আর বন্ধুর বউদের নামে এই সব আলফাল কথা একদম বলবেনা।
–কী করবে, মারবে ?মারবে আমাকে ?মারো, মেরে শেষ করে দাও। মরে বাঁচি আমি। আমার তো আর কোনো দাম নেই তোমার কাছে। এখন তুমি নতুন আবিষ্কারের খেলায় মেতেছো না !
–কী !…. তোমার যা মনে হয় বলো, যা ইচ্ছে হয় তাই করো,আমার কিচ্ছু বলার নেই। আমি ভীষণ টায়ার্ড, খুব ঘুম পাচ্ছে। কাল ভোরেই মুম্বাই ছুটতে হবে। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সত্যি সত্যিই ঘুমিয়ে পড়ে অভিক অথবা ঘুমিয়ে পড়ার ভান করে। বালিশে বুক চেপে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে সৌমি। কোথাও একটা পাড় ভাঙার শব্দ সে শুনতে পায়।
মাস দুয়েক পর। সৌমির হাতে দুটো গোয়ার টিকিট–ভায়া মুম্বাই । এসি ট্রেনের কামরায় দুজনে অনেক কাছাকাছি। তারপর গোয়ার নামী হোটেলের বিলাসবহুল কামরায় শরীরী ঘনিষ্টতা –আবেগ ,আশ্লেষ! উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকতে সমুদ্র স্নান, ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা।…….সৌমির বুকের থেকে ধুয়ে যাচ্ছে সব গুমট অন্ধকার। অদ্ভুত তৃপ্তি তার চোখে -মুখে, অদাহ্য শরীরে । চুমু আর আদরের উষ্ণ লোনা স্রোতে ভাসতে ভাসতে আবিষ্ট সৌমি বলে –এই জন্যে তোমায় এত ভালোবাসি প্রশান্ত !