সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (পর্ব – ১৯)

স্টেশন থেকে সরাসরি পর্ব ২০

ইংরেজি ২৫শে অক্টোবর ২০২১
বাংলা ৭ই কার্তিক ১৪২৮
সোমবার

আদিম অধ্যায়ের কাছে বসে আছি চুল ছেড়ে। জল আর মাটির মাঝখানে একটা মাদুর। ভেতরঘরের দরজা ভেজিয়ে দিয়ে গেছে কেউ,আমি দেখেছি কিন্তু চিনতে পারিনি তাকে।খুব আবছা মুখ। চোখের নীচে নদী, কাঁধের ওপর আলগোছে ফেলা চাবির গোছা, দুই ভুরুর মাঝে নিরাময়।

সন্ধে হয়ে আসার পর যতক্ষণ ধুনোর গন্ধ ঘিরে রাখে পাতার টান,একটু হাওয়া দিলেই যেভাবে বৃন্ত থেকে খুলে পড়ে পথ ঠিক সেভাবেই খুলতে খুলতে একসময় জল হয়ে যায় সবটা।জলবায়ু বদলায়।আবহাওয়ায় রদবদল হয়। দরজা খোলে না।শনশন বওয়া বাতাস উল্টে দেয় ঘটিবাটি, শিকড় থেকে মাটি চুরি করে তাকে পুরুষজন্ম দিই

অনন্তকাল টিকে থাকার নেশা বড় ভয়ানক।আদিম ডাকে, প্রাচীন পিছনে টানে।রাস্তা ইশারা করে। তবু সব, সবকিছু পেরিয়ে সামনে হাঁটা।উপকরণ গোছানো। আগে পায়ের শব্দ শুনলেই নেচে উঠত ঘাস, এখন সবকিছু হলুদ।যেন আঁচিলের মত লেগে আছে গায়ের চামড়ায়।

আজকাল মন খারাপ হলেই তোমার ঘরটা থেকে ভেসে আসে জগজিৎ সিং, আমি দীর্ঘনিশ্বাস ফেললেই সর্বনাশ ঘটতে পারে এই ভেবে চেপে থাকি চুপচাপ। গজল থেকে গুলাম আলি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডুবে যায় প্রিয়তম। চোখ বন্ধ হয়ে আসে আপনাআপনি, খিদে ঝুলে পড়ে। ঠোঁট কামড়াই।ঘুম আসে নাকি ঘোর আসে সেসব ভাবতে ভাবতে পরবর্তী চুম্বনে ঢুকে যাই। থেমে যেতে শিখিয়েছিল যারা আজ তারাই ঘরের জানালার সামনে একটানা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিবেশী বলেন,”পুকুরঘাটে তোমারে আইজকাল আর ক্যান দ্যাখা যায় না মাইয়া” ডাক্তার বলেন”চোখ নয় জিভ দেখান”।

আমি বলিনা কিছু। বলতে পারি না ,শুধু তাকিয়ে থাকি। ওই লাল রঙ ওই টেপরেকর্ডার ওই চশমা ওই পেপারওয়েট

তুমি এসে দাঁড়ালেই খুলে দিই ঘর, উঠোনের দড়িতে মেলে দিই সমস্ত ভেজা পোশাক…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!