কবিতায় নবকুমার মাইতি

এ রাত্রি উজ্জ্বল হোক
কুসংস্কার-অজ্ঞতার পাহাড় কেটে ওগো ভগীরথ
এনেছ বসুধাবক্ষে সমুজ্জ্বল জ্ঞান গঙ্গার স্রোত,
বিদ্যা-বিনয়-দান ও সংস্কৃতি চতুঃসত্তার সমন্বয়ে
আজীবন পথচলা, শাশ্বত সে তোমার শপথ।
উচ্চ শির, অজেয় পৌরুষ, অস্ত্র তব সত্যের সন্ধান,
লেখনী তোমার খুঁচিয়েছে, বৈধব্যের জ্বালা, নির্যাতন
কুল হারা যুবতীর অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের অভিশাপ হতে করে
পরিত্রাণ রাঙিয়েছে রক্তটিকা দুঃখিনীর শূন্য-সিঁথি ‘পরে-
মঙ্গলের ঘট ভরে বালবধূ পুনঃ এলো ঘরে।
রোগ শোক জরাগ্রস্ত আদ্বিজ চণ্ডালে নিলে কোলে-
আদিগন্ত ব্যাপী তাই মুখরিত সেই কীর্ত্তির কলরোলে
মাতা সম, পিতা-পুত্র-গুরু সম ত্যাগের বিভূতি হেম
হে যুগ ভীষ্ম!নিন্দার শরশয্যায় শুয়ে দান করে গেছ প্রেম।
আজ শতাব্দীর শেষ রশ্মিপাতে-
দেশব্যাপী ঘনিয়েছে ক্রুর কুণ্ডলিত অন্ধকার:
জ্বলছে বিদ্বেষবহ্নি, তাজা মানব রক্তে দুষিত
মহাসমুদ্রের অমৃতস্রোত; অন্যায় অধর্মের
নির্মম কশাঘাতে সদ্যশিশু জর্জরিত অস্থির-
কোন দিকে পথ নেই, খাদ আছে, জলপ্রপাত
ডাইনোসোরের বিস্ফারিত চোয়াল, দিগন্ত ছাড়া
সাহারা মরুভূমি; আফ্রিকার হিংস্র অরণ্য-
শক্তিকেন্দ্রে ঝুলছে নিউক্লিয়াসের ভয়ঙ্কর খাঁড়া!
জীবনের কাল যেন শেষ হয়…..
ঐ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত !
এ গ্রহের জীব-পালাবে কোথায়?
হে জাগ্রত ধ্যান,
নবোদিত কল্যাণ,
দহন চিত্তের মাঝে দৃষ্টি জ্বালো:
এ রাত্রি হোক উজ্জ্বল আলো।