প্রেমজ আলিঙ্গনে কবিতা যাপনে নব কুমার দে

ছেলেটির ক্লাস নাইন , পনেরো চলছে
শোমাদির ন‍্যাওটা , শোমাদি ইলেভেন
শোমাদি জিজ্ঞেস করে
তোদের তো কোয়েড স্কুল , কোনো মেয়ে বন্ধু নেই
আছেতো রিয়াঙ্কা , দীপান্বিতা , ঝুমা
ঝুমা তো ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল
আর প্রেমিকা নেই
লজ্জা পায় ছেলেটা
একই পাড়ায় থাকে শোমাদি আর ছেলেটা
সারাদিন শোমাদির পেছনে ঘুরঘুর
কৎবেল মাখা , পাকা তেঁতুল , রয়াল , করমচা
ছেলেটা জানে শোমাদি কি খেতে ভালোবাসে
বিকেলে শোমাদিকে সাইকেলে চাপিয়ে ঘুরতে নিয়ে যায়
খুব ইচ্ছে হয় বলতে , ও শোমাদি
সামনে বসবে
কিন্তু বলে না , ভয় পায় যে
কেমন জানি শোমাদি , ফর্সা ফর্সা
গালে টোল পড়ে , ঝকঝকে চোখ
ছোট্ট একটা নাভী , সরু কোমর
স্কুল শাড়িতে দেখলে , কেমন জানি হয়
হ‍্যারে , সারাক্ষণ যে আমার সাথে থাকিস
খেলতে যাস না , আড্ডা মারিস না
বন্ধুরা রাগ করেনা
ছেলেটি জানে
ওকে নিয়ে ওর বন্ধুরা হাসাহাসি করে
ওর বন্ধুরা অসভ্য বই পড়ে , বিড়ি খায়
শোমাদিকে নিয়েও নোংরা কথা বলে
তাই ও যায়না
তবু মিছিমিছি বলে , হুম যাইতো , খেলিতো
একদিন শোমাদি বললো
কাল তুই আর আমি সিনেমা যাবো
বাড়িতেও বলে রেখেছি
আনন্দে কান্না পেয়ে যায়
ও শোমাদি , তিনটে টিকিট কাটলে কেন
আমরা তো দুজন
সবাই ঢুকছে চলো না ঢুকে পড়ি
ঠিক তখনই একটা দাদা এলো
লম্বা ফর্সা ফর্সা , সিনেমার হিরোদের মত দেখতে
আলাপ করিয়ে দিলো শোমাদি
এর নাম রানা , তুই রানাদাই ডাকিস
মাথার ভেতর দপদপ করছে ছেলেটার
সিনেমায় মন নেই
মনে হল রানাদা চুমু খেলো শোমাদিকে
হাতটা কাঁধেই রেখেছিলো
নাকি আরও একটু নেমেছিলো বুকের দিকে
মাথাটা দপদপ করছে
সিনেমা শেষে শোমাদি বললো
তুই সাইকেল নিয়ে চলে যা , ঠিক আধঘণ্টা পর
বাড়ির মোড়ে দাঁড়াবি , তোর সাথেই ফিরবো
আমি রানাদার সাথে বাইকে যাচ্ছি
কি সুন্দর দেখতে রানাদা
ছেলেটা নিজেকে দেখলো
কালো রোগা লিকলিকে
গাল চোপড়া ভাঙা , হনু বেড়িয়ে
যেন আগুন জ্বলছে মাথায়
রানাদা হাতে দশটি টাকা দিয়ে বললো
কিছু কিনে খেয়ো বাবু
এ যেন ভস্মে ঘি
ঝড়ের গতিতে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে গেছে ছেলেটি
টাকাটা না নিয়েই
সোজা বন্ধুদের কাছে
সেদিন প্রথম বিড়ি খেয়েছে
কাশতে কাশতে চোখমুখ লাল
ঠিক সময়ে দাঁড়িয়ে ছিল পাড়ার মোড়ে
শোমাদিকে পৌঁছে দিয়েছে বাড়ি
ছেলেটার লাল চোখ , চোখ এড়ায়নি শোমাদির
আ্যাই তোর চোখ লাল হল কি করে
আমি বিড়ি খেয়েছি
বিড়ি খেয়েছিস কেন , ছিঃ
আবার বলছিস আমায় , লজ্জা করছে না
রানাদাও তো তখন সিগারেট খেলো , তার বেলা
ওরে গর্দভ সে বড় , সে চাকরি করে খেতেই পারে
আমিও বড় হয়ে গেছি
আমিও বড় হয়ে গেছি
চিৎকার করতে থাকে , আমিও বড় হয়ে গেছি
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।