ভয় করে , সারাক্ষণ অদ্ভুত এক ভয় জড়িয়ে থাকে। এই বুঝি মাঝরাতে কেউ কড়া নাড়লো, আমার পেছনেই কে যেন ছায়ার মত ঘুরঘুর করছে আর ঘাড় ঘোরালেই অন্ধকার , ফাকা। পালাবার চেষ্টা করি , কিছু লিখতে বসি। লিখতে বসলেই মনে হয় সব আগেই লেখা হয়ে গেছে, আমার সবটা জুড়ে শুধু একটা অতীত আর বর্তমান বলতে শুধু এই গা ছমছমে ভয়।
কি একটা মনে করার চেষ্টা করি , একটা গন্ধ। কিছু কিছু গন্ধতেও মায়া থাকে , আমরা আধুনিক করে বলি নস্টালজিয়া। এই যেমন , মা কি একটা পাতা বাটা দিত খেতে গরম ভাতের সাথে। মাখতে শুরু করলেই গন্ধটা ছড়িয়ে পড়তো।
বুকটা কেমন ধড়াস করে উঠলো। আমাকে ভয় লিখতে হবে। বড় বিচ্ছিরি ভয়, মা ঠিক আছে তো। আলো জ্বেলে মেয়েকে দেখে নিলাম একবার। ঘুমোচ্ছে , আহা, না ভয়ের কিছু নেই।
আলো নিভিয়ে , জানালায় দাঁড়িয়ে সিগারেট জ্বালালাম। ওপাশের ছাদে কেউ যেন দাড়িয়ে ছিলো , সরে গেলো।
খালি মনে হচ্ছে অনেকগুলো চোখ আড়াল থেকে আমায় দেখছে। কারা যেন ডাকবে শেষ রাতে আর আমাকে যেতেই হবে। তার আগে আমায় একটা কবিতা লিখতে হবে।
ভয় করছে , খুব ভয় , আমি কাগজ কলম হাতে অপেক্ষা করছি একটু পরেই ভোর হবে আর আমি লিখে ফেলবো আমার শেষ কবিতার প্রথম লাইন।