ক্যাফে কাব্যে নীলাঞ্জন চক্রবর্তী

ধর্মান্তর

ঈশ্বর আছেন না নেই
কখনো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজিনি।

গভীর অন্ধকারে
পথিকের হাতের নিবে যাওয়া লন্ঠনে
কেউ আলো জ্বেলে দিয়েছিল।
প্রত্যুত্তরের এক বিফল প্রত্যাশায়,
পথিক প্রশ্ন করেছিল—
কে?
কে দাঁড়িয়ে?

নিরুত্তর বাতাসের মৌনতায়
পথিকের কর্ণকূহর ঈষৎ আলোড়িত হল মাত্র!

তারপর থেকে জ্বরের ঘোরে
যখনই বন্ধ হয়েছে চোখ—
কেউ অদৃশ্য হাতে জলপট্টি দিয়ে গেছে।

বুকের ব্যাথায় মৌনপ্রায় হৃদয়ে
এক অদৃশ্য আলিঙ্গন,
উষ্ণতা এনেছে বারেবার।

যতবার আতঙ্কে বেড়েছে হৃদ-উৎপাত
ততবার প্রতিটি তরঙ্গে—
ঐশ্বরিক অস্তিত্বের আস্থা অনুভব করেছি।

তোমাদের মতো প্রমাণের অযোগ্য
এই ধাপ্পাবাজিকে যতদিন অবহেলা করেছিলাম,
ততদিন ফুলের পর ফুল ছিঁড়ে
কুটিকুটি করেছি।
বিজয় উল্লাসে বলেছি,
কোথায় কী?
কে কোথায়?
ঈশ্বর কে?

যেন হিরণ্যকশিপু হয়ে বেঁচেছিলাম।
পেট ভরে ধুলো খেয়ে করেছি দিনযাপন,
আর বুক ভরে বর্জন করেছি অক্সিজেন!

অবশেষে কাষ্ঠল যুক্তির শিলাভূমে
যেদিন হাত পেতে দিলাম,
তিনি উজাড় করে দিলেন—
একটা আস্ত ফুলের বাগান।

আমি আর ফুল ছিঁড়ে কুটিকুটি করে
যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ খুঁজিনা—
ঈশ্বর আছেন না নেই!

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!