মার্গে অনন্য সম্মান মিনতি গোস্বামী (সম্পাদকীয় কলম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১১৪
বিষয় – শান্ত প্রতিবাদ

প্রত্যাবর্তন

বিয়ের পরদিন সন্ধ্যেবেলায় সোমার শাশুড়ি সোমাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে খিল লাগিয়ে দিলেন। সোমাকে শান্ত স্বরে বললেন, ” আজ থেকে আমি যা বলবো, শুনে চলার চেষ্টা করবে। আমাদের যৌথ পরিবার, একসঙ্গে থাকি বটে, তবে পাঁচজনে পাঁচ রকম। তুমি আমার কথা শুনে চললে বিপদে পড়বে না কোনদিন। এ বাড়িতে পা দিতে তোমার তো বেলা বারোটা বেজে গেল, তাই তখনই তোমাকে বলা হয়নি। তুমি ও তো কিছু জিজ্ঞেস করনি আমাকে, তাই আমি ভুলে গেছিলাম। তোমার এই ভারি গয়না গুলো আমার কাছে এখন খুলে রাখো। কাল রিসেপশনের জন্য সাজাতে এলে, তখন সব গয়না আমি গিয়ে দিয়ে আসবো। চোখের সামনেই সব পরিয়ে দেবে। দিনকাল তো ভালো নয়, পাঁচটার ঘর, নিজের জিনিস সামলে রাখাই ভালো।

সোমা নতুন বউ, শাশুড়ির কথামত সে একটা সরু হার, দু গাছা চুরি, শাঁখা, নোয়া ছাড়া সব গয়না খুলে শাশুড়ির হাতে দিল। শাশুড়ি আরো বললেন, আমার একটা ছেলে, ছেলের ভালো-মন্দ চিরদিন আমি দেখে এসেছি, আমিই দেখব। মেয়ে আছে বটে, সে তো ঘরে থাকে না, তবে রোজ আসে । তার দিকে কিন্তু তুমি খেয়াল রেখো।
তোমাদের ভাব ভালোবাসার বিয়ে, কর্তার তো মনই ছিল না, একমাত্র ছেলে বলে আমিই এই বিয়েতে রাজি করিয়েছি। তাই আমার কথা শুনে চলবে। সোমা সব কথায়, শুধু ঘাড় নেড়ে গেল।

সোমা ঘর থেকে বেরোতেই, খুড় শাশুড়িরা বললেন, একি নতুন বউ, সব গয়না খুলে রাখলে কেন? শাশুড়ি বললে বুঝি? সোমা মুচকি হেসে বলল, না না, আমি নিজেই খুলে রেখে এলাম। ভারী গয়নায় খুব অসুবিধা হচ্ছিল।

রিসেপশনের বিকেলে সাজের পর সৌমেনের মা এসে গয়নার বাক্স হাতে দিল। সব গয়না পরার পর বালা দু জোড়া না দেখতে পেয়ে সোমা শাশুড়িকে ডেকে পাঠালো। শাশুড়ি অবাক হয়ে বললেন, সেকি বউমা, তুমি নিজে হাতে তুলে যা দিয়েছো, আমি তাই রেখেছি। আমাকে চোর সাজাবার ধান্দা তোমার? সঙ্গে সঙ্গে ছেলেকে এবং বাড়ির সবাইকে ডেকে কথাটা বলে চিৎকার করতে লাগলেন। আমি চোর? এই মেয়েকে ঘর ঢুকিয়ে আমি ভুল করেছি। ওর সঙ্গে খুড়তুতো বোন এসেছিল, সে কেন সকালে পালালো এবার পরিষ্কার হয়েছে। সৌমেন ও হঠাৎ সোমাকে বলে, তুমি নিজের গয়না ঠিক করে রাখতে পারোনি! আবার মায়ের নামে দোষ দিচ্ছ?

সৌমেনের মেজো কাকা এগিয়ে এসে বলেন, বৌদি তোমার সবেতেই বাড়াবাড়ি. তুমি কেন ওর গয়না খুলে রাখতে গেছো? ওতো বালা পরে এসেছিল। ঘর থেকে তো উড়ে যাবে না? তুমি আমার ছোট ভাইয়ের বউয়ের বেলাতেও এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলে। বেচারাকে সারা জীবন বদনাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

সোমা এবার নিজের চেয়ার ছেড়ে সৌমেনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, তুমি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো, তোমার মত। মা যখন বলছে, কিছু তো একটা করেছো। তোমার মতলব তো আমিও বুঝতে পারছি না।

টেট পরীক্ষা বলে আমার বোন সকালে চলে গেছে। আর তোমার মায়ের গয়নার যে ডিমান্ড ছিল, তার বেশি ই বাবা দিয়েছে। ফুলের মুকুট, ফুলের গয়না পরে, গয়নার বাক্স সঙ্গে নিয়ে, সবার সামনে দিয়ে ঠিক সন্ধ্যেবেলায় সোমা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেল, আমি চললাম না বলেই।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।