অণুগল্পে মেখলা ঘোষদস্তিদার

মনের মানুষ

আবীরা এমবিএ শেষ করে দিন পনেরো হলো বিলেত থেকে ফিরেছে, এসেই ফোনে ফোনে সব বন্ধুদের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে, সবাই এসে আবীরার সঙ্গে দেখাও করে গেছে, শুধু দুই প্রিয়বন্ধু ও মনের মানুষ বাদে।

ওভার ফোনে আবীরা ঠিক করলো লালগড় স্কুল লাগোয়া মাঠে পল্লীমেলা দেখতে যাবে আর সেই সাথে প্রিয় দুই বন্ধুর সাথে দেখা করার কাজটাও সেরে নেবে, সন্ধ্যা ছ-টার মধ্যে পৌঁছে গেলো মেলা প্রাঙ্গনে, মেলা জুড়ে রকমারি খাবারের দোকান, হরেকমালের দোকান থেকে শুরু করে কাঁচের চুড়ির দোকান, বুটিক শাড়ির স্টল, কাঠের ও ইলেকট্রিক নাগরদোলা, ফার্নিচারের স্টল, শীতকালীন জামা-কাপড় থেকে শুরু করে ম্যাজিক শো ও একদিকে স্টেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আবৃত্তি, নাচ, গান, নাটক ইত্যাদি।

প্রচুর লোকের ভীড়, তার মধ্যেই ঘটে গেলো এক অভাবনীয় ঘটনা, একটা ছেলে দৌড়ে এসে এক সুন্দরী মেয়ের ব্যাগ ছিনতাই করে যেই পালাতে যাবে সঙ্গে সঙ্গে দুই পুলিশ এসে হাজির ছেলেটিকে ধরবে বলে আর ছেলেটিও ততক্ষণে পকেট থেকে পিস্তল বের করে মেয়েটির কপালে ঠেকিয়েছে, সেই দেখে যে যেখানে পারলো ছুটে পালাতে লাগলো,কয়েকটা দোকানের ঝাঁপ পড়ে গেলো, এমতাবস্থায় কি করবে আবীরা বুঝে ওঠার আগেই পিছন থেকে কে একজন আবীরাকে টোকা মারলো, মুখ ফেরাতেই দেখে শিমুল ও পলাশ দুই প্রিয়বন্ধু আবীরাকে ডাকছে, আবীরা ওদের দেখে একটু স্বস্তি পেলো, তারপর ওদের সঙ্গে আবীরা মেলার থেকে একটু দূরে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়ালো, আবীরা মেলায় ঘটে যাওয়া সব ঘটনা ওদের বললো, পলাশ হেসে বললো ও কিছু নয়রে শ্যুটিং চলছিলো হয়ে গেছে, আবীরা তো শুনে অবাক, খানিক বাদে শিমুল আসছি বলে চলে গেলো, আর পলাশ একটু জরুরি দরকারে বেরিয়ে পড়লো, ঠিক সেই মুহূর্তে বোরখা পরা এক মহিলা আবীরাকে হাত ধরে টানতে টানতে মেলার ভিতরে নিয়ে চললো, একেবারে ইলেকট্রিক নাগরদোলার সামনে গিয়ে জোর করে আবীরাকে নিয়ে নাগরদোলায় চেপে বসলো, নাগরদোলা ঘুরে চলেছে স্পীডে, এদিকে আবীরার মাথাটাও যেন ক্রমশঃ পাক খাচ্ছে ভীষণ ভয়ংকরভাবে, এমন সময় বোরখা সরিয়ে মুখটা বের করে আগন্তুক আবীরার দিকে তাকাতেই একেবারে ভূত দেখার মতো আবীরা চমকে উঠলো… একি, এ যে কোনো মহিলা নয়, এ হলো শিশুবেলার বন্ধু, কিশোরীবেলার সঙ্গী, যৌবনের স্বপ্ন পুরুষ মানে আবীরার একান্ত আপনার মনের মানুষ রণজয়দা,

আবীরাকে সব খুলে বললো রণজয়,” এছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলো না, এখানে আজকে আমার শ্যুটিং ছিলো, আমিই শিমুলকে বলেছিলাম তোমার সঙ্গে দেখা করবো কিভাবে সেটা সম্ভব হবে, পলাশ বলেছিলো আবীরাকে মেলায় আসতে বলবো আমরা দেখা করতে চাই এই বাহানায়, ফ্যানেদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাকে বোরখা পরতে হয়েছে, আমাকে ভুল বুঝো না আবীরা, আমি এতোদিন তোমাকে ছেড়ে থেকেছি, তোমাকে ডিস্টার্ব করিনি কিন্তু যখন শুনেছি তুমি ফিরে এসেছো এমবিএ কমপ্লিট করে তখন আর ধৈর্য রাখতে পারিনি গো, এই সুযোগটা তাই হাতছাড়া করিনি, আমি তোমাকে ভালোবাসি আবীরা”, আবীরা জড়িয়ে ধরে বললো ” রণজয়দা তুমিই আমার মনের মানুষ, আই লাভ ইউ টু, তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না “

রণজয় মেলা থেকে আবীরার পছন্দের গরম জিলিপি, চিনাবাদাম কিনে ক্যাবে উঠলো, আবীরাকে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বললো, “আগামীকাল বাবা – মাকে নিয়ে আমাদের বিয়ের পাকা কথাটা বলতে আসবো আবীরা, তুমিই যে আমার মনের মানুষ, আগামীর জীবন সাথী”।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।