কবিতায় কুণাল রায়

১। পরিশেষে

বাবার স্বপ্ন ছিল,
মেয়ে এক মস্তবড় খেলোয়াড় হবে,
কঠোর সাধনায় পরিণতি পেয়েছিল,
তার স্বপ্ন সেদিন!
কিন্তু বিধানতার ছিল অন্য ইচ্ছে,
বাড়ির চাপে বসতে হল,
বিয়ের পিঁড়িতে!
শুরু হল এক অন্য খেলা,
ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে গেল টুম্পা!
কটু বাক্যে দিন যাপন,
তবুও বুকে একরাশ ইচ্ছে,
চোখে শুধুই এক মুঠো স্বপ্ন,
বড় হওয়ার!
দিন যেতে থাকে,
রাত নামতে থাকে,
গ্রামের বুকে,
ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে সে,
দগ্ধ হয়ে তার অস্তিত্ব!
তবুও চলতে থাকে জীবনের,
এই প্রবহমান নদী!
বাবার ইচ্ছের ডানা আরেকবার উড়িয়ে দিতে,
সামনে আসে ছোট মেয়ে ঝুম্পা,
বাড়িয়ে দেয় হাত সে,
সুদূর আকাশের দিকে,
এক টুকরো আলো বন্দি হয়ে,
নিবিড় আঁধারের মাঝে!
দিদির প্রতিরূপ সে আজ:
নেই কোন আক্ষেপ,
নেই কোন গ্লানি,
আছে শুধুই এক সঙ্কল্প,
থেমে যেন না যায়-
তার এই বিজয় রথ!!
-কুণাল রায়।

২। এক অভিশপ্ত নারী

শত সহস্র পূর্বের এক ঘটনা,
যা আজও মনকে নাড়া দিয়ে যায়,
গ্রীক পুরাণে যার মহিমা,
আজও কীর্তন হয়ে ঘরে ঘরে,
সেই মেদুসা তুমি,
এক অভিশপ্ত নারী।
এক বিরল সৌন্দর্যের প্রতীক তুমি,
তবু ঈর্ষা ছিল না তোমার হৃদয়ে,
কোনও পাপ কুলষিত করতে পারেনি তোমায়,
এক পবিত্র সত্তা ছিলে তুমি!
তবু গ্ৰীক দেবী এথেনা চয়ন করেন এক ভিন্ন পথ,
তোমার প্রত্যয় স্খলন করেন উনি!
দেবীত্ত নাশ করে,
প্রশ্রয় দেন আপন ঈর্ষা ও হীনমন্যতাকে!
রচিত হয় এক অশ্রুসিক্ত ইতিহাস,
দেবীর অভিশাপে অভিশপ্ত হয়ে,
এক সর্পকন্যায় রূপান্তরিত হলে তুমি,
যার দৃষ্টিতে ছিল বিষ,
এক লহমায় পাথরে পরিবর্তিত হত কোন কায়া!
যে পাপ পসেদিয়ন করেছিলেন,
তোমার সতীত্ব নাশ করল যে সমুদ্র দেবতা,
পেতে হল না কোন শাস্তি তাঁকে,
এক অন্যায়,
এক নির্মম অবিচার!
বহুযুগ আগে বিদায় নিয়েছ তুমি,
তবু আজও মেদুসা প্রতি ঘরে বর্তমান,
নির্যাতিতা, লাঞ্ছিতা!
যা ছিল পুরাণে,
আজ তা বর্তমানে!
তবু প্রতীক্ষায় এই মন,
কবে সেই প্রথম সূর্য কিরণের স্পর্শে,
খণ্ডিত হবে পুরুষের দর্প!
উত্থান হবে এই মানবতার,
অবসান ঘটবে এই আঁধারের,
অবসান ঘটবে এই গ্লানির,
অবসান ঘটবে এই লজ্জার,
অবসান ঘটবে এই যন্ত্রণার!!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।