সম্পাদকীয়

 

দক্ষিণ ভারতের বাতানুকুল শহর, টেকনলজির স্বর্গরাজ্য, ব্যাঙ্গালুরু । এককালে সেখানে থাকার সময় দেখেছি সকালে মেয়েরা মাথায় জুঁইয়ের মালা বা বেগোনিয়ার মালা দিয়ে, গাঢ় কমলা, সবুজ, বেগুনী রঙের শাড়ী পরে, কপালে কুমকুম এঁকে, স্কুটারের পেছনে বান্ধবটিকে বসিয়ে নিয়ে দিব্যি কলেজ যাচ্ছে, আপিস করছে, ব্রিগেড রোডের বুলেভার্ডের বেঞ্চিতে, বা কাবোন পার্কের গাছের তলায় বসে গুঞ্জরণের সঙ্গীত ভাজছে, তাদের ছেলের বন্ধুরা আর সেই শহরের ফ্লুরোসেন্টের মত নীল আকাশটা দিব্যি তাতে সঙ্গত দিচ্ছে । তারপর কুড়িটি বছর পেড়িয়ে গেছে । এখনকার শহরে রাস্তা কম, গাড়ী বেশি, রাস্তায় হাঁটা যায় না, ব্রিগ্রেড রোডের বুলেভার্ড মেট্রোর কাজের জন্য ভ্যানিশ হয়ে গেছে, কাবোন পার্ক আছে অবিশ্যি, তবে তাঁর ভিতরে ঢুকলে মনে হয় ইঊরোপে চলে এসেছি, দেশি মাটির ছাপ নেই। আর সেই ছেলেমেয়েগুলো তো এখন নিশ্চয়ই বেশির ভাগই বিদেশে বা ঘোরতর সংসারী । তা এবারে গিয়ে এই আশ্চর্য গতিময় শহরের একটি কলেজের অভুতপূর্ব ব্যবস্থা দেখে কেমন বোমকে, চমকে গেলাম । বিরাট ক্যাম্পাস, হষ্টেলেও বিরাট, হষ্টেলের এক ফ্লোরে ছেলেরা, অন্য ফ্লোরে মেয়েরা থাকে । ছেলেরা যদি কখনো মেয়েদের ফ্লোরে আসতে চায় বা মেয়েরা ছেলেদের ফ্লোরে যেতে চায়, বা অজান্তেও কেউ কারুর এলাকায় পা দিয়ে ফেললে আলো জ্বলতে থাকবে, সঙ্গে সঙ্গে সাইরেনের মত ‘জেন্ডার এলার্ম’ বাজতে থাকবে । মেন্টার প্রফেসর দৌড়ে এসে যা ব্যবস্থা নেবার নেবেন ।
দেখেশুনে সেই থেকে শুধু শুধু মনে মনে বলে যাচ্ছি ‘হায় টেকনোলজি, হায় প্রেম’ । প্রেম করতে গেলেও এখন সাইরেন বাজবে, কোনও মানে হয় ।

ইন্দ্রাণী ঘোষ

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!