সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে দেবদাস কুন্ডু (পর্ব – ১৯)

লড়াইয়ের মিছিল

পর্ব – ১৯

সুদর্শন জানতো বাবা পার্মানেন্ট তার কাছে থাকবে না।আজ না হয় কাল ঠিক চলে যাবে।তিনি মুক্ত মানুষ।কারো অধীনে কারো কাছে থাকতে তার ইগো প্রবলেম হয়। বিয়ের রাতটুকু শুধু শ্বশুর বাড়ি কাটিয়ে ছেন। শ্বশুর তো ছিল না।পিসে শ্বশুর আদর যত্ন করতেন। প্রথম বছর জামাই ষষ্ঠী তে গিয়ে ছিলেন।রাতটা থাকেন নি। পিসে শ্বশুর মারা যাওয়া পর আর যাওয়ার কথা ওঠে না।মা এসব বলেছেন। বাবার পেটের অসুখ।এ ডাক্তার সে ডাক্তার দেখিয়েও সুস্থ হচ্ছেন না।তখন কেউ একজন বললো-হাওযা চেঞ্চ করে আসুন।
কোথায় যাবো?
কেন পশ্চিমে।
জায়গায় নাম বলবেন তো?
মধুপুর দেওঘর ঘাটশীলা। একমাস থাকতে হবে। একেবারে সুস্থ হয়ে আসবেন।
বাবার ডেকরেশনের দোকানে এসে আড্ডা দিতেন কেশব কাকু।বাবার ঘনিষ্ট বন্ধু।দোকান পাড়ায় থাকতেন। পেশায় ছিলেন ইলেকটিসিযান।আরো দুজন বন্ধু ছিল বাবার। দোকান বন্ধের পর চারজন মিলে তাস খেলছেন।ঐ একটা নেশা ছিল বাবার।আর হুঁকো খেতেন।ঐ দেশে থাকতে দাদুর ফুটোয় মুখ দিতেন কিশোর বয়সে।সেই নেশা নিয়ে এসেছেন এই বাংলায়।কেশব কাকুকে নিয়ে বেড়াতে গেলেন। দোকান দেখার ভার পড়ল আমার ওপর।সংগে নিলেন জামা কাপড়।এক মাসের রাহা খরচ। কিছু শুকনো খাবার নিলেন সংগে।বাব চলে যাবার পর মা বললেন-তোর বাবা একমাস মধুপুরে থাকবেন আমার বিশ্বাস হয় না।দেখবি কদিন পর ফিরে আসবেন।
কেন?
যে মানুষ টা বিয়ের রাত ছাড়া একটা দিন শ্বশুর বাড়ি রাত কাটালৃ না। কোনদিন কোন আত্মীয় বাড়ি থাকলো না সে কিনা একমাস দোকান ফেলে মধুপুরে থাকবেন?
মার কথাই সত্যি হলো। সাতদিনের মাথায় এক সকালে চলে এলেন।আমরা সবাই অবাক।এ কি? একমাসে র বদলে সাতদিন!
কি ব্যাপার চলে এলেন যে তোমার তো একমাস থাকার কথা?
আর বলো না। সাতদিনে টাকা পয়সা শেষ।
কেন?সেখানে বুঝি জিনিস পত্রের দাম খুব বেশি?
আরে না না।বরং সস্তা।
তাহলে চলে এলে কেন?
খিদে।জল হাওয়া এতো ভালো ঘন্টায় ঘন্টায় খিদে পায়।তা টাকা আর থাকে?
সে জানালে মানি অর্ডার করে পাঠানো যেতে।এই জন্য কেউ চলে আসে?
দূর কাজকর্ম নেই।শ শুধু খাওয়া আর খাওয়া।ভালো লাগে?
এখানে তো তুমি ভালো লাগার জন্যে যাওনি।গেছে শরীর সুস্থ করতে। সাতদিন না হতে চলে এলে!কি রে খোকা আমি বলেছিলাম না।দেখলি তো। আমার কথা কেমন মিলে গেল।
দূর বসে বসে শুধু খাওয়া।ওভাবে থাকলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম।আমি কাজের মধ্যে থেকে সুস্থ হবো।বেড়ানো কুড়ে মানুষের কাজ।
তুমি ভুল বলছো তুমি বেড়াতে যাওনি।
ঐ হলো।ছেলে দোকান সামলাতে পারে নাকি?
আসল কথাটা বলো। দোকানের টানে চলে এসেছো।
সেই বাবা আজ চলে যাবে।আমি বললাম-এখানে তোমার অসুবিধা হচ্ছিল?
না।
তাহলে?
বাড়ি টা খালি পড়ে আছে।ও তো ভূতলে বাড়ি হয়ে যাবে।
আমি লোক পাঠিয়ে পরিস্কার করে দেবো।
না না তাই হয় না।লোক দিয়ে সব হয় না।আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে।
এটা তোমার বাড়ি না?
না।এটা তোর বাড়ি।
নিজের বাড়ি কেন ভাবছো না?
সত্যটা অস্বীকার করি কি করে?
বাবা আপনি চলে যাচ্ছেন? আমার খুব খারাপ লাগছে।
আবার আসবো মন খারাপ করো না বৌমা ।দাদুভাইকে নিয়ে যেও।কটা দিন থেকে এসো।
দাদুভাই র সংগে দেখা করবেন না?
দাদুভাই তো স্কুলে।তাহলে ও বেলা যাবো।
তবু যাবেন? দাদুভাই র জ্ন্য মন খারাপ লাগবে না?
লাগবে তো।
তাহলে?
মাঝে মাঝে আসবো।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।