T3 || কোজাগরী || বিশেষ সংখ্যায় দীপশিখা চক্রবর্তী

কোজাগরী সন্ধে
এতগুলো বছর পর হঠাৎ সন্ধে এলো ঘরে,
আলো ও অন্ধকারের মাঝে যে অসৎ ঝড়,
তাতে কবেই মৃত্যু হয়েছে ভোর আর সন্ধের!
স্নান সেরে বারান্দায় দাঁড়াই কিছুক্ষণ,
দেখি, আকাশের লালে উপুর হয়ে শুয়ে আছে আগুন;
রান্নাঘরে তখন ফুটন্ত জলের অপেক্ষা-
তুলসীপাতার শরীর ছিঁড়ে ছিঁড়ে তৈরী হবে এক কাপ উষ্ণতা,
ভীষণ মনে পড়ে,
সন্ধ্যাপ্রদীপ হাতে প্রতিদিন মায়ের ছাদে উঠে যাওয়া,
নূপুরের আওয়াজে অদ্ভুতভাবে মিশে যাওয়া চন্দন আর ঘিয়ের গন্ধ,
উদাস হয়ে যেতাম,
অথচ আমার হাতেই ভিজে যেত প্রদীপের শরীর,
বুক পুড়িয়ে কোনোদিন ক্ষণিকের শোক লিখতে পারেনি সলতের মিছিল,
হঠাৎ চমকে উঠি,
সত্যিই আজ এতগুলো বছর পর সন্ধে এসেছে ঘরে,
আর আমি আজও নির্বাসিত,
ঈশ্বরের চোখে।