নাতিদূরে দেখা যায় এশিয়াড গ্রাম
ঝিলমিল আলোর লহরী জাগে আচ্ছন্ন বিভায়
মাঠময় ইতস্ততঃ , নবম এশিয়াড ক্রীড়াচক্রের অকুস্থল
আধুনিক সবরকম সুযোগ সুবিধা সমন্বিত, দেশি বিদেশী
দর্শক সমর্থক ভাষ্যকার ইত্যাকার বিশিষ্ট জনেরা
এলেন গেলেন লাখ লাখ , ভিড় সামলাতে
বাইপাস উড়ালপুলে ছেয়ে গেল রাজধানী
আর অক্লেশে উচ্ছেদ হলো হকার ভিক্ষুক উদ্বাস্তু
অবাঞ্ছিত প্রাণীকুল , রাজধানী সুন্দর হলো অসম্ভব
দ্রুততায় জরুরী ভিত্তিতে ।
যথাসাধ্য স্বচ্ছন্দ করা হলো অতিথি-কুলের ভ্রমণ – যাপন।
চিত্ত-আলোড়ক সেই এশিয়াডে আয়োজক দলের সাফল্য
বড়োই করুণ , আশি কোটি ভারতবাসীর মাথা নত অজন্মা অনাথ।
অবশ্য বিশাল এশিয়াড আয়োজন সংগঠন
নিরাপত্তা বিধান বিলক্ষণ গৌরবের বটে ,
বিশেষতঃ জায়মান প্রচার -মাধ্যমে আর সরকারী মহলের
বিত্তদুষ্ট চালচক্রে , আত্মতুষ্ট বেহায়াপনায় ।
এশিয়াড উপলক্ষ্যে দিল্লীর চেহারা হালফিল হলো
প্রসাধন বিনোদন সুরক্ষার সুচারু ব্যবস্থাপনায় , অসহায়
দেশবাসী অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-স্বাস্থ্যের কাঙাল,
এক পা-ও এগোলো না , ক্রীড়া জগতের উন্নয়নে
সরকারী প্রয়াস নাই , মদত নাই ,
পরিকল্পনা নাই , বাজেট বরাদ্দ নাই ,
দীর্ঘমেয়াদী কোনো লক্ষ্য নাই , পরিকাঠামো নাই,
দেখে শুনে মনে হয় এশিয়াড গ্রাম
অধুনা অকেজো । চমৎকার , চমৎকার কেন্দ্রীয় সরকার ।
আকস্মিক সন্ত্রাস রোখার অজুহাতে
আগে থেকে ছকে’-দেওয়া সফর-পঞ্জীর আনুকূল্যে
সীমিত বহরে সাজানো শহর দেখে বিদেশীরা
এদেশের প্রকৃত স্বরূপ দেখার উপায়
পেলেন না কিছু , রাজধানী থেকে অবাঞ্ছিত
উদ্বাস্তু হকার ভিক্ষুক কুলিমজুর
বিমুক্ত রাখার পরিকল্পনার ধন্য সুচারু নিষ্ঠায়, নিশ্ছিদ্র
নিরাপত্তার প্রয়োগে ।
দেশবাসী ধন্য হলো
অগ্নি-পরীক্ষার উত্তরণে , সংবাদের
সাধুবাদে , এশিয়াডের শিক্ষায় , ধন্য ,
ধন্য গণতান্ত্রিক সরকার !!