বালিগঞ্জের সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারের কথা হয়তো অনেকেই শুনে থাকবে । এই দত্ত পরিবারের পঞ্চানন দত্তের বড় ছেলে বিনয়কান্ত দত্ত খুব রগ চটা প্রকৃতির ছিল । যার জন্য মাঝে মাঝেই পিতার সঙ্গে ঝগড়া গণ্ডগোল হত । কিন্তু তার স্ত্রী ছিল প্রকৃতই গৃহিনী ।
একদিন বিনয়কান্ত পিতার সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর ছাড়া হল । নিরুপায় হয়ে তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে সহ স্বামীর অনুগামী হতে বাধ্য হয় । তার পর ঢাকুরিয়া স্টেশন থেকে কিছু দূরে দোতলা একটি বাড়ি তৈরী করে বসবাস করতে থাকে ।
নতুন বাড়িতে আসার তিন মাস পরে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয় । মেজ মেয়ে সবে কলেজে আর ছোট মেয়ের বয়স বছর বারো হবে ।
কিন্তু , এই পরিবারেই নেমে এলো এক মহা দুর্যোগ । সামান্য রোগ ভোগের পর পঞ্চানন দত্তের মৃত্যু হয় । বড় ছেলে হওয়া সত্বেও বিনয় পিতার মুখাগ্নি করতে যায়নি । কিন্তু পরিবারের আর সকলেই পরক্রিয়ায় যায় ।
এই ঘটনার মাস খানেক পর থেকেই বিনয়ের ঢাকুরিয়ার বাড়িতে বিভিন্ন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে থাকে । দোতলা বাড়ি হওয়া সত্বেও সকলে নিচেই থাকতো । মাঝরাতে উপর তলা থেকে বিভিন্ন রকম শব্দ হতে শুরু করল । প্রথম প্রথম ব্যাপারটা গুরুত্ব না দিলেও দিনকে দিন ঘটনাটা জটিল হতে থাকলো ।
হঠাৎ করে একদিন বিনয়ের মেজ মেয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে লরিতে পিষে দিয়ে যায় । দিনকে দিন বিনয়ের শরীরটাও খারাপ হতে থাকে । তারপর হঠাৎ একদিন দোতলার সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে মারা যায় ।
এই অবস্থায় বিনয়ের বিধবা স্ত্রী ছোট মেয়েকে নিয়ে বালিগঞ্জের বাড়িতে চলে যায় ।
তারপর থেকে সেই বাড়ির দরজা আর কেউ খোলেনি । কিন্তু এখনো পর্যন্ত আশ পাশের পরিবার গুলো মাঝে মধ্যে মাঝ রাতে দুজন পুরুষের তুমুল ঝগড়া আর একটি মেয়ের কান্না শুনতে পায় ।