T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় বিচিত্র কুমার

১. উৎসবের আলো
ধূপের ধোঁয়া উঠে গেছে সীমানাহীন আকাশে,
তোমার সিঁথির সিঁদুরের মতো লাল সেই অগ্নিশিখা।
পুজোর ঢাকের বাদ্যি ভেসে আসে দুরন্ত ঢেউয়ে,
তুমি আমার হৃদয়ে যেন বিসর্জনের শঙ্খধ্বনি।
চুলের মৃদু মিষ্টি ঘ্রাণে মিশে আছে ধানের নাড়া,
তুমি যখন মন্দিরের পুষ্পের মতো হেসেছিলে।
সন্ধ্যায় প্রদীপের আলো, তোমার চোখের আকাশে জ্বলেছিল,
তুমি সেই অদেখা আলোর উৎসব, এক অসীম প্রার্থনা।
তোমার হাসি ছিল যেন কাশফুলের শুভ্রতার প্রতিশ্রুতি,
আমাদের ভালোবাসা যেন মহালয়ার নদীতে ভাসা।
২. মধুর চিঠি
তোমার শাড়ির আঁচল, যেন শিউলি ফুলের চাদর,
প্রতিমার সামনে বসে, তুমি যেন দুর্গার প্রতিরূপ।
সিঁদুর খেলায় তুমি হাতের রং তুলে দিলে,
আমার মনে ভরে গেলে বৃষ্টির দিনের গল্প।
আকাশে উঠেছে কাস্তের চাঁদ, তোমার চোখে ছড়াল জ্যোৎস্না,
তুমি যেন পূজার ফুল, যার ঘ্রাণে মাতোয়ারা মন।
প্রতিমা বিসর্জনের করুণ ধ্বনিতে আমাদের বিদায়,
কিন্তু সেই মুহূর্তে তোমার চুপ থাকা যেন আকাশের নীরবতা।
তোমার সাথে পূজার দিনগুলো ছিল নিখুঁত কাব্য,
যেন দেবীর চোখে দেখা ভালোবাসার রহস্য।
৩. বাতাসে প্রেম
মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনিতে মিশে ছিল আমাদের হৃদয়ের কথা,
তুমি আমার কাছে ছিলে পূজার প্রদীপের কোমল আলো।
অঞ্জলি দিতে এসে তোমার চোখে দেখেছিলাম বিস্ময়,
তুমি যেন পুষ্পাঞ্জলির ধূপে জড়ানো অমৃত।
পুজোর সাদা ফুলে তোমার ম্লান হাসির স্মৃতি,
মন্দিরের চারপাশে হাওয়ায় ছড়ায় আমাদের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার কণ্ঠ ছিল দেবীর প্রার্থনার মতো শান্ত,
তুমি যেন পূজার মেঘে ঢাকা স্নিগ্ধ গোধূলি।
বিসর্জনের দিনে সেই শেষ স্পর্শের অনুভূতি,
যেন চিরন্তন প্রেমের এক নিরবধি বিরহগান।
৪. কাশবনের খেলা
পুজোর বিকেলে কাশফুলের রাজ্যে হাঁটতে হাঁটতে,
তোমার খোলা চুলের খেলায় হারিয়ে যাই বারবার।
শরতের মেঘে ঢাকা আকাশের মতো তোমার চোখ,
তোমার হাসির প্রতিটি স্পর্শ ছিল এক অমলিন পূজা।
শিউলি ফুলে ভিজে ওঠা পথের মতো মিষ্টি স্মৃতি,
তুমি যেন এক বসন্তের আভাস পূজার বিকেলে।
তোমার হাতের ছোঁয়া ছিল প্রতিমার মতো পবিত্র,
আমি সেই হাত ধরেই প্রার্থনার পথে হাঁটতে চাই।
তুমি আমার কাছে কাশবনের সাদা মেঘের মতো,
যার প্রতিটি স্রোতে ভেসে আসে পুজোর প্রেমের গান।
৫. অপেক্ষার পালা
সন্ধ্যার আলোয় তুমি মাটির প্রদীপের মতো দীপ্ত,
তোমার মুখে পূজার সিঁদুরের রং যেন দেবীর প্রতিচ্ছবি।
তোমার হাসি ছিল বিজয়ার কোলাহলে মিশে যাওয়া কন্ঠ,
যেন উৎসবের ভিড়ে আমাদের একান্ত ভালোবাসা।
মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে তোমার চোখে দেখেছিলাম পূজার নীরবতা,
তুমি ছিলে বিসর্জনের শেষ প্রণাম, শাশ্বত বিদায়।
পুজোর প্রতিমা যেমন ফিরে যায়, তুমি তেমনি মুছে গেলে,
তবু তোমার স্মৃতি রয়ে গেল প্রদীপের শিখায়।
তোমার স্পর্শ ছিল পুজোর ভোগের মতো মিষ্টি,
আমাদের ভালোবাসা যেন শরতের এক শাশ্বত পূজা।