গল্পেরা জোনাকি তে বিপ্লব দত্ত

রাত প্রতিদিন – ১১

অথ লিঙ্গ কথা

এই শুনছো আকাশে ঘন মেঘ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরো কিন্তু।
আচ্ছা রে। আচ্ছা। বাবুদের বাগানের কাজটা হলেই চলে আসবো। কমল জ্যাঠা আজ না গেলে রাগ করবেন। তুই সাবধানে থাকিস।
দুগ্গা। দুগ্গা।
গত রাত …..
বেড়েছে কেরোসিনের দাম। সম্বল লম্ফ আর হারিকেন। অভাবী সময়। লেদের কারখানার কাজটা গেছে। দিন মাস বছর পেরিয়ে আজ কুশলের পেটের গর্ত গভীরে। চাবুক শরীরের বউটাও কেমন ঝুঁকে যাচ্ছে। বেঁচে আছে তবুও। পাচ্ছে রেশন থেকে চাল আটা ডাল চিনি প্রতিমাসে। কিন্তু উনুন আর পাকানোর খরচ? কম পয়সায় বেশি খাটনিতেও ওদের সুখে ভাটা নেই। হারিকেনটা দপ করে নিভে গেল। অন্ধকার ঘর। ভয়ে জাপটে ধরলো সীমা। সুখানুভূতি আর ভোরের পাখির শব্দেও ঘুম ভাঙেনি আজ। আবরণহীন শরীরে দুজন। সীমার ঘুম ভাঙতেই একান্ত লজ্জায় নিবিড় আর সে বাম হাতে কাপড়টা টেনে গায়ে জড়িয়ে শতছিন্ন লুঙ্গিটা কুশলের শরীরে বিছিয়ে দেয়। সুখ অভাবেও আসে। বুঝিয়ে দিল রাত। যে রাতে দীপশিখা এক সুখানুভূতির অতল গভীরে। এ রেখা নিয়ন্ত্রণ মানে না। মানে না বন্ধুকের বেয়নেট। কেবল জানায় আঁকড়ে থাকতে জানার জাদু দন্ড। এখানেই আছে জীবনের অহংকার।
বেঁচে তো আছে নিয়ম মাফিক।
আর …..
জীবন যেখানে।
পেটের জ্বালাতেও অন্য খাদকেরা। যাদের চোখ ঘুরছে অহর্নিশ। সুযোগে আর নির্ভয়ে বিচরণ। এদের শব্দহীন চাহনি বেঁচে থাকতে দেয় না ভালোবাসার আকাশকে। রাঙিয়ে দেয় স্বচ্ছ আকাশকে লালে। এরা জানে না শুদ্ধ বাতাস বেঁচে থাকার অক্সিজেন। আমার এই স্বপ্নের রাত আজ আনন্দে। এই রাত বলে দেয় বাঁচার অধিকার। আমরা তো মানুষ। পাশবিক রূপান্তর কেন? কেন পারি না রিপু দমনে। এই সমাজে কুশল আর সীমারা আছে। যারা প্রতিনিয়ত লড়াইয়েও মৃত্যুর হাত ছানিকে উপেক্ষা করে। বেঁধে বেঁধে থাকে। কিন্তু……
বৃষ্টিতে এখন।
কুশল কাজে গেলেও মনে থাকে সীমা। উচাটনে বাবুদের কাজ ফেলে বাড়ির দিকে। এই বৃষ্টিতে সীমা ভালো আছে তো? কাজ ফেলে দৌড়। কাঁচা রাস্তায় পা হরকাচ্ছে তবুও যে তাকে যেতেই হবে। একাত্ম হৃদয় বড় টানে। কিছুটা গেলেই বাড়ি। বাড়ির থেকে বেরিয়ে আসছে এক মানুষ যে দুহাতে চেপে আছে প্যান্টের উর্ধাংশ। রক্তে ভেজা। কুশল আমল না দিয়ে বাড়িতে ঢোকার আগেই ডাক দেয় – সীমা ও সীমা।
উঠোনে দাঁড়িয়ে সীমা। দুটো হাত উর্দ্ধে। বিস্ফারিত লাল চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসছে। ব্লাউজ ছিঁড়ে স্তনযুগলে লাঙ্গলের খনন। বাম হাতে পুরুষাঙ্গ আর ডান হাতে কাস্তে।
দ্রুত জড়িয়ে ধরে কুশল।
হাত থেকে পড়ে যায় লিঙ্গ আর কাস্তে।
সীমার মুখ শব্দ …
বেঁচে আছে গো তোমার সীমা।
নাহ। আজ এই রাত সুন্দরের রাত যে রাতে আছে বেঁচে থাকার রূপরেখা। দমকা হাওয়ায় জানালাটা খুলে এক ঝলক পরিশুদ্ধ হাওয়ায় আমার শরীর এখন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।