T3 || প্রভাত ফেরি || বিশেষ সংখ্যায় অনিন্দ্য পাল

প্রভাতদা, আপনি আছেন

পরিচয় হয়েছিল বইমেলাতে। বলেছিলেন লেখা দিতে। কিন্তু এই পরিচয়ের অনেক আগেই ছিল অন্য পরিচয়। আপনার “কবিতাপাক্ষিক ” -এর সৌজন্যে। সেই ২০০৭ সাল থেকে। এখনও তারা আমার বই-এর তাকে সযত্নে সুরক্ষিত আছে।
দূর থেকে দেখিয়েছিল এক কবিবন্ধু। “উনি প্রভাত চৌধুরী। সম্পূর্ণ অন্য ধারার কবি। ওনার পত্রিকাতে প্রকাশিত কবিতার চরিত্রও আলাদা।” পরে কবিতাপাক্ষিক পড়ে বুঝেছিলাম, সত্যিই তাই। ভালো লেগেছিল। সব কবিতা যখন একরকম মনে হয়, তখন একটু অন্য ধারার কবিতা অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
রুফটপ আড্ডায় যাবার নিমন্ত্রণ পেলাম একদিন, কিন্তু চাকরির টানাপোড়েনে যেতে পারি নি। আজ সেজন্য আফসোস হয় বৈকি।
আর একদিন, কলেজস্ট্রিটে, একটি বুকস্টলে আপনি “কবিতাপাক্ষিক” দিচ্ছিলেন। আপনার ঠিক পিছনে ছিলাম আমি। হঠাৎ এক অর্বাচীন প্রশ্ন করল “আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি, আপনি কোথা থেকে আসছেন? ” আপনি কয়েক মুহুর্তের জন্য তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারপর বললেন, ” আমি মঙ্গলগ্রহ থেকে আসছি! ” তারপর সোজা চলে গেলেন অন্য কোন দিকে।
চলে গেলেন। চলে যেতেই হয়, সবাই আমরা চলে যাব, কিন্তু কোন কোন চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয়। আপনার চলে যাওয়ার সময় এখনও হয়েছিল কি? জানি না কার ক্রুর চক্রান্তে এই শূন্যতা এল! এই ক’বছর নাগাড়ে রোগজর্জর পৃথিবীতে অঘটনের শেষ নেই, একে একে আমাদের অভিভাবকদের হারাচ্ছি। যাদের অনুরণনে আমাদের শব্দ-ছন্দ-সুর, তাদের এই ভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে, সহ্য করতে পারছি না।
আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন, আমাদের সৃষ্টির উপর আপনার আশীর্বাদ বরাবরের মতই বর্ষিত হোক।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।