ফলে ১ মিনিট নীরবতার পর পুরুষ কোকিলের খাম্বাজ শুরু হল । সে কি রাগ আর সুরের মূর্ছনা । রাণি মৌমাছির চোখে তখন জল । শ্রমিক মৌমাছির দলও কাঁদছিল । সুরে সুরে যেন অনেক কথা বলা হয়ে গেল ।
‘পক্ষীরাজ, পক্ষীরাজ ডাকছিল মন ।
তার সেই ডাক শুনে বৃষ্টি নামল ঝমঝমিয়ে ।
বাবা বলল, যা মন – বৃষ্টিতে ভিজলে আবার তোর জ্বর হবে । মা তখন রাগ করবে ।
মনের বাবার কথা শুনে বৃষ্টি গেল থেমে । আবার রোদ উঠল ঝলমলিয়ে, তবে সেই রোদে তাত নেই ।
মন আবার ডাকল – পক্ষীরাজ, পক্ষীরাজ ।
পক্ষীরাজ এলো না ঠিক কিন্তু এলো বুধু । সে এসে বিমান অর্থাৎ মনের বাবার দোকানের সামনে চিঁচিঁ করতে থাকল ।
মন তখন বলল, বাবা – বুধুই কি তবে পক্ষীরাজ!
জ্যোৎস্না রাতে ওর কি ডানা গজায় !
বিমান রাগ করে বলল,
বুদ্ধু মেয়ে একটা । এসব আজগুবি তোকে কে বলেছে !
কৈলাস বোস লেনের সেই দাদু !
বিমান বুঝতে পারল না, মনেও করতে পারল না কাউকে ।
সে একটু বিরক্তি নিয়ে বলল –
কোন দাদু!
সেই কোলকাতার দাদু । মাথায় সব সাদা চুল, আমায় চুমু দিয়েছিল । আইসক্রিম কিনে দিয়েছিল ।
এবার বিমানের মনে পড়ল। তার মায়ের এক মামা । বিমানরা দাদু বলে । মনও দাদু বলে ডাকে ।
এরপর চমকে উঠল বিমান । সেই দাদুতো বেশ কয়েকদিন হল মারা গেছেন ।