কর্ণফুলির গল্প বলায় আব্দুল বাকী

কমলা

ওর নাম কমলা।যে কোনো নাম হতে পারতো।দেখতে ছোট বেলাতে ঠিক কমলা লেবুর মতো ছিল।তাই দাদু শখ করে নাম রেখেছিলেন কমলা।

কমলা পাড়ার আট দশটা মেয়ের থেকে আলাদা।কখনও উচ্চ স্বরে হাসতে দেখিনি আমরা।শান্ত একটি মেয়ে ও।

হঠাৎ ক্লাস এইটে ওর বিয়ে হয়ে গেলো।বিশাল এক বড়লোকের ঘরে।বড় ঘরে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া বাবা মার কাছে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো ।যদি মেয়ে দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ সুন্দরী হয়।

আর ছেলেদের বিয়ে দেওয়া মুশকিল। যদি আবার ছেলে মেধাবী হয় বড় ঘরের খুতা মেয়ের বর হওয়া ওয়ান টু’র ব্যাপার স্যাপার।

কমলার বিয়ের ব্যাপারে তাই ঘটলো। এক বাপের এক বেটা।শহরের মধ্যে নামীদামী প্রতাপশালী বাবার একমাত্র ছেলের সাথে ওর বিয়ে হয়ে গেলো।

দিনে কথা রাতেই কমলার বিয়ে হয়ে গেলো।তার কারণ কমলার বাবা দিনমজুর। এমন ঘরে মেয়ের
বিয়ে দেওয়া একটা ভাগ্যেরও ব্যাপার।

দরিদ্র ঘরে ধনীর ছেলের বিয়ের প্রস্তাব এলে মেয়ের বাবা স্থির থাকতে পারে না।পাত্রের স্বভাব চরিত্র গুণ বিচারের সময় থাকে না।ছেলের বাপের সম্পদের বিষয়টাকে বড় করে দেখা হয়।কমলার বিয়েতেও তাই দেখা হলো।

আজ কমলা কেমন আছে।বিষয়টা বলতে গিয়ে
ওর বাবা মা বোবা বনে যান।তাঁদের জামাই তুহিন
প্রায় প্রতিদিন নেশা করে বাসায় ফিরে।

তুহিনের এ স্বভাব আজ নতুন নয়।ছেলেকে ভালো
করতে বাবা মা গরীব ঘরের মেয়ে কমলাকে বউ ঘরে তোলেন।কিন্তু সেই আজ আশা গুড়ে বালি।

তুহিন ইদানীং নেশা নিয়েই পড়ে থাকে।কমলার
খোঁজ খবর এমনকি ওর সাথে রাতে এক বেডে
ঘুমাতেও নারাজ।অশিক্ষিত, মূর্খ গেঁয়ো বলে তিরস্কার করে।

এদিকে কমলা ছয়মাসের গর্ভবতী ।তুহিন তো অবাক!মেয়ে বলে কী!ওর পেটে নাকি আমার বাচ্চা। কমলার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করে না।

মাতাল স্বামীর জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করেও কমলা বাসার সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলে।কিন্তু সারাদিন যতো খাটুনি করতে হয় ওকে।কোনো
বাসার কাজের মেয়েও এমন খাটে না।

বাবা মা সাতদিনে একদিন ফোন করে মেয়ে কেমন আছে জানতে চান।কমলা হাসি মুখে বাবা মার সাথে মিষ্টি করে বলে খুব ভালো আছে ও।ফোন ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবে। গরীবের মেয়ে ধনীর ঘরে বিয়ে হলে হয় দাসী।আর ধনীর মেয়ে গরীবের ঘরে বিয়ে হলে হয় দেবী।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।