T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় আরণ্যক বসু

পৌষ-পাবনের গন্ধে !
সকাল বিকেল রাত্তিরে রোজ
খাচ্ছি মোটামুটি,
একটু আধটু খেলাধুলো ,
স্কুল তো এখন ছুটি।
ওমা হঠাৎ পাটিসাপটা !
কাজল পিসির হাসি,
কোথায় যেন দৌড়ে পালায়
করোনা রোগের কাশি।
থাকলো পড়ে স্মার্টফোন, আর,
বাড়িতে বসে পড়া;
কাজল পিসি,ডাল বাটবে ?
রসবড়া রসবড়া…
বন্ধ থাকুক ছোটো পর্দায়
ঢিসুম ঢিসুম সিন,
মা বলেছে আজকে নাকি
পৌষ-পাবনের দিন!
ওরে আমার মুগসামলি ,
তোর দুগালে হামু ;
হাহা-হিহি’র সেই সিনেমায়,
মাসিমা, মালপো খামু ..
নতুন গুড়ে ডুব মেরেছে
ভাপা পিঠের ঘুম ,
কাদের কুলের বৌ চলেছে,
হুমনা হুহুম হুম !
মিঁয়া সাহেব আর ভট্টাচায্যি
খুশিতে কুটোপাটি,
মা দিয়েছে গোকুল পিঠে,
ভরা পায়েসের বাটি ।
বাঁশবনে সেই ঘ্যানঘ্যানে ভূত
বলছে–কী বর নিবি ?
আসকে পিঠে,খেজুর রসের
গামলা চাটতে দিবি ?
স্বর্গ নরক কোথাও যাইনি,
গ্রামেই পড়ে আছি ;
পৌষ-পাবনের গন্ধে হবো
হাড় হাভাতে মাছি।
কাজল পিসি-ই-ই-ই,ভয় পেয়োনা,
ভূত এসেছে ঘরে,
দু একটা দিন থাকতে দাওনা,
বাসি দুধের সরে ।
ক্ষীর মাখানো খইয়ের মোয়া,
সবুজ পেস্তা আঁকা ;
কাজল পিসি, এটাই হলো,
পিঠে পুলিতে থাকা !
দুঃখী ভূত গো, গাঁয়েই থেকো,
শ্মশানতলার পাশে ;
নদীর জলে চিঠি পাঠাবো–
পাটিসাপটার মাসে।