Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১৭)

বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ৭

বিয়ে প্রথা বাস্তবিক  নারী পুরুষকে ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে। অথচ আমরা এমন একটা যুগে বাস করি, যেখানে মানুষ, নারী বা পুরুষ, ব্যক্তিগত উৎকর্ষ বিকাশের সুযোগ ও ব্যক্তিগত সুখী জীবন চায়। সুখী জীবন কি  পৃথিবীতে আদৌ কোনদিন আসবে? জীবন ক্রমশঃ জটিল থেকে জটিলতম আকার ধারণ করছে। কারণ মানুষ যখন সভ্যতার আলো দেখেনি তখন ছিল সরল জীবন। বন্যজীবন। আদিম জীবন। আজও মানুষের নিকটতম প্রজাতি বাঁদর শ্রেণিরা অনেক সুখে আছে। তাদের মধ্যে রাজনীতি বা দূষণ নেই। মানুষ কি তাদের চেয়ে ভাল আছে?
মগজের উৎকর্ষতা গ্রামে গঞ্জের মানুষদের নিরাপত্তা  দিয়েছে? ভাবুন যুদ্ধ, মহামারী, আতঙ্কবাদ, জাতিগত দাংগা, রাজনৈতিক হত্যা ছাড়াও স্রেফ খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় পৃথিবীর লোকসংখ্যার কতজনের আছে? পরিসংখ্যন বলছে, ২০২১ সাল, আজকে ৭৮৩ কোটি জনসংখ্যা, সূত্রঃ https://www.worldometers.info/world-population/ তার মধ্যে ৬৯কোটি লোকে র জীবিকা গরীব রেখার নীচে, মাসে ৪৫০০ ভারতীয় টাকা রোজগার হয়না।
সূত্র – https://www.worldbank.org/en/topic/poverty/overview
শুধু তাই নয়, মানুষের ক্ষমতা কে সামাজিক আইন খর্ব করে দিয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলেই কিছু করতে পারবেননা। সভ্যতা এই নিরিখে ভয়ঙ্কর অসভ্যতা। বাঁদর প্রজাতি এর চেয়ে অনেক ভাল।
বাঁদর প্রজাতির বিয়ে হয়না, তাদের কি সন্তান বা বংশধারা আবহমান কাল চলছেনা? সেখানে সুপ্রীমকোর্ট নেই, সেখানে জেলখানা নেই, সেখানে নারীবাদ ও পুরুষবাদ নেই, নিজের অস্তিত্বরক্ষার যুদ্ধ আছে। এই যুদ্ধ আছে বলেই জন্মে মানুষ বা প্রাণিরা চঞ্চল।
নারীবাদীরা অনেকদিন থেকেই বলে আসছে, বিয়ে প্রথা হল, পৈত্রিক তন্ত্রের মালিকানা সৃষ্টি বা দাসীগিরি। ফলে বৌ ভুল করলে, কথা না শুনলে তাকে পিটাও, বকাবকি কর, শাসন কর।
মহিলারা এই কথা স্বীকার করে নিয়ে নিজেকে অসহায় শিকার ভাবেন । দুঃখ বড় উপভোগের! মহিলারা কেঁদে কেঁদেও একপ্রকার সুখ পান।
দাম্পত্য কলহ সমাজে নতুন নয়, বা এমনিতেও সামাজিক কলহ আদিমকাল থেকে। কলহ মানে দুই পক্ষের মধ্যে কোন বিষয়বস্তুর সূত্রে অনৈক্য স্থাপন ও তারপর লড়াই করে নিজের শান্তি প্রতিষ্ঠা। সংসারে অর্থনীতি সমস্ত কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। পুরুষ অর্থ উপায় করে ও সে বাহুবলে মহিলাদের থেকে শক্তিশালী। ফলে সে চাইবেই তার ঘরের মহিলা তার কথা শুনে চলুক।
আমরা দেখেছি বাচ্চারা মায়ের কথা না শুনে চললে, বাচ্চাদের চেয়ে মায়েরা অধিক বাহুবলী হয় ও শক্তি শালী, এবং শাসন করতে চায়। বাচ্চাদের পেটানো হয়। মানে মহিলারাও বাহুবল প্রয়োগ ভালই করে।
 এই নিয়মটা প্রাকৃতিক। বাচ্চারা নিজেদের শিকার বা বলি ভাবেনা, মহিলারা ভাবে। কারণ মহিলারা অযথা পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
এটা ঘটনা, বিয়ে প্রথা শুরু হয়েছিল, নিজের উত্তরাধিকারিকে চিহ্নিত করার জন্য। মহিলার গর্ভে যে শিশু জন্মাবে সে যেন অন্যপুরুষের না হয়। কিছুটা স্বার্থপরতা জুড়ে থাকা। অন্য পুরুষের হলে শিশুর চরিত্রও গূণাবলী অন্যরকম হবে। এই মানব জাতির মধ্যে বংশ ও উত্তরাধিকার আকাঙ্খা লক্ষ লক্ষ বছরের পুরাণো। ফলে নারী পুরুষ যৌন সংগমে নিজেকে নিশ্চিত করে নিতে চায়, একটী সন্তান তার যৌনসংগমে পৃথিবীর আলো দেখবে।
গবেষকরা বলেছেন, নারী এতই সন্তান প্রসবের জন্য নিজেকে  বহু পুরুষের সাথে সংগমের জন্য তৈরী রেখেছে যে একই যৌন সেশনে একাধিক প্রচণ্ড উত্তেজনা(orgasms) পাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। মাসিক ঋতু স্রাবের সময়েও যে কোনও সময় যৌন মিলন করা এবং যৌনমিলনের সময় মহিলাদের প্রচুর াওয়াজ তোলার বাতিক বা  প্রবণতা রয়েছে।  এর পিছনে রয়েছে, আদিমকাল থেকেই মহিলারা এই আওয়াজ তুলে আরো পুরুষ কে আমন্ত্রণ জানাত যাতে, তার যৌন সংগম ব্যর্থ না হয়, কোন না কোন পুরুষের দ্বারা সে গর্ভবতী হয়।( propensity to make a lot of noise during sex — which they argue is a prehistoric mating call to encourage more men to come and join in. These evolutionary traits have occurred, they argue, to ensure breeding is successful)

আজ থেকে ১০ থেকে ৮ হাজার বছর আগে, যখন চাষবাস ও ক্ষমতা বান হয়ে উঠল কিছু মানুষ তখন সম্পত্তির বলে ১৭টি মহিলাকে ১জন পুরুষ গর্ভবতী করত। বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করে দেখেছেন।

These two graphs show the number of men (left) and women (right) who reproduced throughout human history. (Chart: Monika Karmin et al./Genome Research)

এর পিছনে একটা কারণ অনুমাণ করছেন গবেষকরা, যার কাছে সম্পত্তি ছিল বেশি সেই মহিলাদের বেশি কিছু দিতে পারত, আর মহিলারাও যার কাছে বেশি পেত তার অনুরক্তই ছিল।
আমি এখানে এটাই দেখাচ্ছি, নারী পুরুষ, যৌনকাঙ্খাতে বংশধর চেয়েছে এবং তা চিরন্তন সত্য। এবং নারী সেই পুরুষকেই বেশি যৌনসংগী বানায় যে তার অপরিহার্য প্রিয়বস্তু দিতে পারে। এবং বিয়েতে সেগুলিই মূল গুরুত্ব পায়।
কবে থেকে বিবাহের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল? ধরা হয় ১২৫০ থেকে ১৩০০ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান চালু ছিল, কিন্তু শুরু সম্ভবত আরো আগে হয়ে থাকবে। মূল লক্ষ ছিল পারিবারিক মৈত্রী, আত্মীয়তা বাড়িয়ে সুযোগ সুবিধা নেওয়া। অনেকে অর্থনৈতিক কারণে বিয়ে করে উথতে পারতনা কিন্তু প্রেম বা নরনারীর সম্পর্ক রাখত। সূত্রঃ The Spruce 10/02/19
ক্যাথলিক চার্চ ত্রয়োদশ শতাব্দী 13th century অবধি বিবাহকে কোনও ধর্মানুষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলেনি, এবং কেবল ষোড়শ শতাব্দীতে 16th century বিবাহের ক্ষেত্রে কঠোর ধর্মীয় আনুগত্য প্রয়োগ করা শুরু করেছিল প্রোটেস্ট্যান্টদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে।
বর্তমানে বিবাহের বিভিন্ন রূপ বিদ্যমান:
Common Law Marriage সাধারণ আইন বিবাহ: একটি অনানুষ্ঠানিক বিবাহ এবং আইনী নেটওয়ার্ক যা কিছু সময়ের জন্য একসাথে থাকার কারণে মানুষকে বিবাহিত করে।
Cousin Marriage কাজিনের বিবাহ: চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই অথবা বোন; বাবা বা মায়ের চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই বা বোনের ছেলে বা মেয়ে  (2) দূর আত্মীয়; (3) সংশ্লিষ্ট জাতিভুক্ত কোনো ব্যক্তি;  মধ্যে একটি বিবাহ।বহুরাজ্য প্রথম মামাতো ভাইয়ের (First cousins share a grandparent, either maternal or paternal. The children of your uncles and aunts are therefore your cousins or first cousins) বিবাহের অনুমতি দেয়।
  • Endogamy এন্ডোগ্যামি: সমজাতির মধ্যে বিবাহ-প্রথা; অন্তর্বিবাহ। শুধুমাত্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের সীমার মধ্যেই বিবাহ করার রীতি।
Exogamy এক্সোগ্যামি:অসবর্ণবিবাহ।  আপনি যখন নির্দিষ্ট বংশ বা গোত্রের বাইরে বিবাহ করেন।
Monogamy একত্রীকরণ: একসাথে একজনকে বিয়ে করা।
Polyandry বহুভুক্তি: একাধিক স্বামী রয়েছে এমন মহিলাদের।
 Polygamy বহুগামী: একই সাথে একাধিক স্বামী / স্ত্রী থাকার অভ্যাস।
Polygyny বহুবিদ: একাধিক স্ত্রী রয়েছে এমন এক ব্যক্তি।
Same-sex Marriage সমকামী বিবাহ: বিবাহিত একই লিঙ্গের অংশীদার।
বিবাহের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদেরকে পুরুষের সাথে বন্ধন করা, এবং এইভাবে গ্যারান্টি দেওয়া যে, কোনও পুরুষের সন্তান সত্যই তার জৈবিক উত্তরাধিকারী biological heirs । ফলে বিয়ের মাধ্যমে একজন মহিলা একজন পুরুষের সম্পত্তি হয়ে যায়। প্রাচীন গ্রিসের বিবাহোৎসব অনুষ্ঠানে একজন বাবা  তাঁর কন্যাকে সম্প্রদানের সময় শপথের মতন বলতেন: “আমি বৈধ সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার কন্যাকে দিচ্ছি।(“I pledge my daughter for the purpose of producing legitimate offspring.”)” প্রাচীন ইব্রীয়দের মধ্যে পুরুষরা বেশ কয়েকটি স্ত্রী গ্রহণে স্বাধীন ছিল; বিবাহিত গ্রীক এবং রোমানরা উপপত্নী, পতিতা এবং এমনকি কিশোর পুরুষ প্রেমিকদের সাথে তাদের যৌন আবেদন মেটানোর জন্য স্বাধীন ছিল, যদিও তাদের স্ত্রীরা ঘরে থাকতে এবং বাড়ির কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতে হত। স্ত্রীরা যদি সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হত তবে তাদের স্বামীরা তাদের ফিরিয়ে দিত এবং অন্য কারও সাথে বিবাহ করতে পারত।
বিবাহ এবং ধর্ম
বিবাহের একটি সংস্কৃতি বা ধর্মীয় সংস্কার (sacrament) হিসাবে ধারণা করা হয়, এবং  শুধুমাত্র একটি চুক্তি নয়, এর সংযোগ দেখা যায় প্রথম শতাব্দীতে, সেন্ট পলকে (সাধু পৌল) যায় যিনি একজন স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ককে খ্রিস্ট এবং তাঁর গির্জার সাথে তুলনা করেছিলেন (এফিষিয় ২৩-৩২)(Eph. v, 23-32).।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।