গল্পেরা জোনাকি তে স্মার্ত পরিয়াল – ৩

আই ফিল দ্য এন্ডিং, বিফোর ইট ইভেন স্টার্টস
বর্তমান সময়,
অংশুমান বলল,’হ্যাঁ,রীতেশ যেদিন মারা যায় সেদিন তোর ঘরে তালা দেওয়া ছিল। তার মানে এই না যে আমিই তোর অ্যালিবাই।’
আমি বললাম,’তুইই তো ঘরের দরজা খুলেছিলিস।’
-‘আমি তো আর সারারাত থাকিনি তোর সাথে। কীকরে জানব তুই….’
-‘আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় দরজা খোলার। আর ফিংগারপ্রিন্ট তো চয়নের পাওয়া গেছে।’
-‘যদি চয়ন ওদের দুজনকে খুন করে থাকে তাহলে ও নিজে কেন খুন হল?’
-‘আমি জানি না,কিচ্ছু জানি না।’
-‘তুই কাল আবার স্বপ্ন দেখেছিলিস। ঠিক যেভাবে বলেছিলিস সেভাবেই মারা গেছে।’
একদিন আগে,
চয়নকে জেলে নিয়ে যাওয়ার পর ওকে নানারকমভাবে প্রশ্ন করা হয়। কিন্ত চয়ন নিজে থেকে কিছুই স্বীকার করেনি। তবে ফিংগারপ্রিন্ট পাওয়ার জন্য ওকে জেলে থাকতেই হবে। হয়তো কেসও উঠবে। এইসবের জন্যই আমি আর অংশুমান গেছিলাম ওর সাথে কথা বলতে। তবে একসাথে নয়। অংশুমান ভিসিটিং আওয়ারেই গেছিল। তবে আমি গেছিলাম সন্ধ্যাবেলা। উকিলের সাথে গেছিলাম বলে দেখা করতে সমস্যা হয়নি। দেখা করার পরেই অংশুমানের বাড়িতে আসি। ও বলল,’দেখা হল?’
আমি বললাম,’হুমম।’
-‘কী অবস্থা?’
-‘যা হওয়ার কথা। আর কী,তবে….’
-‘তবে কী?’
-‘আমি….আমি..আবার…’
-‘আবার স্বপ্ন দেখেছিস!এতক্ষণ বলিসনি কেন!’
-‘কারণ এবারে…’
-‘বল,কী দেখেছিস বল।’
-‘আমি নিজেকে দেখেছি।’
-‘ সর্বনাশ ! কীভাবে?’
-‘না আমি নিজেকে খুন হতে দেখিনি। বরং করতে দেখেছি। আমি দেখলাম আমি চয়নকে খুন করছি। একটা ঘরের মধ্যে। চয়নের মাথা থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। ঘর ভেসে যাচ্ছে সেই রক্তে। কী ভয়ানক সে দৃশ্য!’
অংশুমান আর কিছু বলল না। আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করে ঘরে নিয়ে গেল। আর বলল,’তুই থাক। আমি আসছি। একদম কিচ্ছু ভালো লাগছে না। ঘুরে আসছি একটু। তুই দরজা দিয়ে ঘুমিয়ে পর। চাবি আছে আমার কাছে।’
এই বলে গাড়ি নিয়ে চলে গেল অংশুমান। জেগে ছিলাম অনেকক্ষণ। ঘুম আসছিল না। রাত তিনটে বেজে গেল। অংশুমান এখনও ফেরেনি। আমার মাথায় অনেক কিছু চলছিল। আচ্ছা যদি আমি না ঘুমোই তবে নিশ্চয়ই আমি কোনো স্বপ্ন দেখব না। আর স্বপ্ন না দেখলে কারুর মৃত্যুও হবে না। তাহলে আজ রাতটা জেগেই কাটাই। কিন্ত কতদিনই বা এমন করব? কখনও না কখনও তো ঘুমোতেই হবে। নাহ,আজ জাগতেই হবে। কোনো বই পড়ি। নীচ থেকে একটা বই নিয়ে আসলাম,’The Theories of Parallel Universe’। হুমম,ইন্টারেস্টিং। এই সম্পর্কে সামান্য ধারনা আছে বটে। বলা হয় এই একটা পৃথিবী ছাড়াও আরও অনেক পৃথিবী আছে। যাক গে,বইটার প্রথম পাতাতেই লেখা আছে,’ I feel the ending, before it even starts’।হঠাৎই আমার মাথায় একটা কথা খেলে গেল। হ্যাঁ ঠিকই তো এটাই তো আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে। মানে প্রথমদিন যেদিন আমাদের রিইউনিয়ন হল আমার মনে হয়েছিল কেউ বাঁচবে না। পরপর কৃষ্ণা আর রীতেশ মারা গেল। চয়নও জেলে। গতকাল স্বপ্ন দেখলাম আমিই ওকে খুন করছি। মানে আমি নিজে অনুভব করতে পেরেছিলাম সব কিছু শুরু হওয়ার আগেই। আমি বইটা আরও পড়তে থাকলাম।
পনেরো মিনিট আগে,
পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। দরজা ধাক্কা দেওয়ার শব্দেই ঘুম ভেঙে গেল। অংশুমান যতসম্ভব। দরজা খোলার পর ঘরে এল অংশুমান। মুখচোখ দেখে মনে হচ্ছে সারারাত ঘুম হয়নি ঠিক করে। হতাশ হয়ে আছে এদিকে মুখে অস্বস্তির ভাবও স্পষ্ট। এরপর ও হঠাৎ বলে উঠল, ‘বাকি রইলাম শুধু আমি আর তুই।’