T3 || বর্ষ শেষে বর্ষবরণ || সংখ্যায় শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

পয়লা বৈশাখ: সমাজ ও সংস্কৃতি

UNESCOর কনভেনশনগুলি অনুযায়ী, একটি জাতির এবং জনগণের ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে, পয়লা বৈশাখ উৎসবটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গান, ঐতিহ্যবাহী খাবারের সাথে মেলার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। লন্ডন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া-সহ আরো অনেকগুলি প্রতিবেশী দেশেও পয়লা বৈশাখের সমৃদ্ধি নিরন্তর ঘটে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত অনেক সংগঠন রয়েছে। এই দলগুলো প্রত্যেকবারই খুব সুচারুভাবে পয়লা বৈশাখ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে। বে এরিয়া প্রবাসী, বেঙ্গলী এসোসিয়েশন অফ গ্রেটার রচেস্টার, মিলনী (কলোরাডো), বাংলাদেশ সোসাইটি, বিচিত্র এরকম বেশ কয়েকটি সংগঠন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পয়লা বৈশাখ পালন সম্পন্ন করে। এক একটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন শিকড়সহ বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক রূপ, যা একদিকে সংস্কৃতির বৃদ্ধি ঘটায় অন্যদিকে পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকেও উদাসীন হতে দেয় না। বিশেষ করে সারা বিশ্বেই, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পর, অর্থনৈতিক নির্মাণের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোতে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটেছে। এমনকি যে পরিবর্তনগুলি নতুন সাংস্কৃতিক বিন্যাস এবং সংমিশ্রণের ফলে ক্ষুদ্র পকেট আর মাইক্রোকসমের প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছিল, সেগুলিও পয়লা বৈশাখের নব্য চিন্তাধারার এবং লোকশিল্প ঐতিহ্যের উদ্ভবের ফলে আরো নিত্যনতুনভাবে মানুষের জীবনে পরিচয় পাচ্ছে।অস্ট্রেলিয়াতে দ্য বেঙ্গলী এসোসিয়েশন অফ ভিক্টোরিয়া আর মেলবোর্ন বেঙ্গলী এসোসিয়েশন- এই দুটির অবদান এই ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। তারা বাংলা সংস্কৃতির সারমর্ম রক্ষা করে, অভিবাসী বাঙালিদের একটি সাংস্কৃতিক আধার প্রদান করে যা প্রবাসে বাংলার উপাদানগুলিকে লালন করে, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজার মতো বাঙালি উৎসব উদযাপন করে, নতুন পত্রপত্রিকা প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঙালি বুদ্ধির বিকাশকে আরো উৎসাহিত করে।নতুন প্রজন্মের পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক সাধনা তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি থেকে তাদের উপলব্ধির সাথে সরাসরি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে, যা সমস্ত ঐতিহাসিক এবং গবেষণামূলক শাখাগুলির থেকে অসম্ভব মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আদি কৃষি সভ্যতার নির্মাণাধীন বিশাল লোকসংস্কৃতি বিলীন হতে চলেছে সেটা হয়তো না, কিন্তু পয়লা বৈশাখের নিজস্ব গুরুত্ত্বয় ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি হল একটি দেশের বা জাতির সংস্কৃতির ভিত্তি, তাই এর ভিত্তির উপর গবেষণা করার অধীনেও জাতীয় পরিচয় ও স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো কিভাবে এই দিনটি উদযাপিত হয়, এর সাথে বঙ্গকৃষ্টি কিভাবে জড়িত এই সবগুলি বিষয়ের আদানপ্রদান নিয়েই।
R. Williams, তার ‘Culture and Society’ বইটিতে একটি জায়গায় বলেছেন:

“Culture is both the definitions and values which develop among unique social groups and classes, on the basis of their offered historical problems and partnerships, whereby they handle and reply to the conditions of presence; and also as the lived traditions and techniques through which those understandings are shared as well as in which they are personified. It is expressed by means of artifacts throughout human history, and the meaning of heritage is transmitted in the symbolic process of a culture from generation to generation.”

প্রতীক বা সিম্বল পদ্ধতির মাধ্যমে, লোকেরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এবং একে অপরের কাছে চলে যায়, এইভাবে তারা জীবনের প্রতি তাদের জ্ঞান এবং মনোভাব অর্জন করে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলতে অন্যান্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ বা নিজের পরিবেশ এবং ধারণার পরিবর্তনের কারণে বিষয়বস্তু এবং কাঠামোর পরিবর্তনকে বোঝায়, যা প্রত্যেকটি দেশে পয়লা বৈশাখের নিত্যনতুন ধ্যানধারণাকে কেন্দ্র করে জন্মায়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।