ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৪৭

0
50
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেরা


দূর্যোগ কেটে গেলেও ঠান্ডা কমেনি। কোনো মতে কাক স্নান সেরে গরম গরম পুরী তরকারিতে জলযোগ সেরে পথে যখন নামলাম তখন বেলা আটটা। প্রথম গন্তব্য চৌদ্দ কিলোমিটার নীচের গৌরীকুন্ড। বোন চেপে বসলো পিঠ্ঠুর পিঠে, আমরা বাকিরা পায়ে হেঁটে। পুরোটাই উৎরাই, কষ্ট হবার কথা নয়। একবার পা ফেললেই আপসে গড়িয়ে যাচ্ছে। মনে হলো ঘন্টা আড়াইয়ের মধ্যে পৌঁছে যাবো। সাত কিলোমিটার দূরবর্তী রামওয়াড়া এক ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম। সেখানে চা খেয়ে আবার পথ চলা। কিন্তু এরপর বোঝা গেল চাপ আছে। আমাদের সমতলের হাঁটু সঙ্গ ছাড়তে শুরু করলো। ব্যথার চোটে গতি স্লথ হলো, বাকি রাস্তা পেরোতে আরো ঘন্টা তিনেক লাগলো। যখন গৌরীকুন্ডের ভারত সেবাশ্রমে ঢুকছি,তখন বেলা একটা, যন্ত্রণায় সবাই কাহিল। তবে ভালো ব্যপার এই যে বাকি ট্রীপে আর কোনো হাঁটা নেই আর সেবাশ্রমে ব্যাগ রেখেই সবাই খোঁড়াতে খোঁড়াতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম উষ্ণ কুণ্ডের জলে। মিনিট দশেকের মধ্যেই সবার ব্যথা গন, শরীর ফিট। খেয়ে নিয়ে গাড়িতে, গন্তব্য ত্রিযুগীনারায়ণ। কথায় আছে পুরাকালে তা রাজা হিমালয়ের রাজধানী ছিলো। শিব পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল এখানে। সেই সময় থেকে বিবাহ অনুষ্ঠানের আগুন সমানে জ্বলছে, আজ ওবধি নেবেনি।এক সময় যখন পুরোই হাঁটা পথ ছিলো, সবাই যেতেন, কিন্তু এখন গাড়ি রাস্তা হয়েছে বলে অধিকাংশ ডি ট্যুর করেননা। যাদের বেশী উৎসাহ তাঁরা যান, একসময়ের গমগম করা তীর্থ আজ পথিকদের আগমন খুঁজে ফেরে। গাড়িতে গৌরীকুন্ড থেকে মিনিট ৪৫,আমরা যখন নামলাম তখন জানলাম সেদিন আমরাই প্রথম যাত্রী, সবাই কেদারনাথ দর্শন করে বদ্রীনাথের দিকে চলে গেছেন, এদিকে কেউ আসেননি। আমরা নামতেই মন্দিরের পান্ডা ছুটে এলেন, আর তারপর যা ঘটলো তা আমরা কল্পনাও করিনি।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •