সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ১৫)

0
89
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হৈমন্তী তোমাকে

কেমন উপচে পরা রূপ তোমার। প্রগলভতার উর্দ্ধে, মেকি চমকের অনেক উপরে. অভিজ্ঞতায় পূর্ণ ডালি । ফসলের প্রাচূর্যে ভরপুর মাঠ, ক্ষেত । হলুদ ধানেরা আঁচল বিছিয়ে আছে দিগন্তে । কুয়াসার চাদরে ফোঁড়, ও ফোঁড় করে তোলা নক্সা । নরম রোদ্দুরের জড়ি । এই রোদ্দুরের ছেলেমানুষী নেই । সে নক্সা তোলে শিল্পীর মত, যে নিমগ্ন তাঁর শিল্পের ধ্যানে । মনমোহিনী নক্সা । নীলের উপর নীল সুতো, হলুদের উপর হলুদ সুতোর নক্সা । শস্যের বোঝা নিয়ে হেটে যাচ্ছে গাঁয়ের বৌরা । এই শস্য ভাঁড়ারে নিয়ে যাবে, তাঁরা যে সাক্ষাত অন্নপূর্ণা । ভাড়ারের কাজে দেরি হয়ে যাওয়াতে সে নারাজ । এই দলের সঙ্গে জোর কদমে পা চালায় দামিনী, দাশুর বৌ।
লাল, হলুদ পাতা ঝরে পড়ে আনমনে । দামিনী দ্রুত ঢুকে পড়ে তাঁর হেঁসেলে । আঁচের সাথে তাঁর বেজায় বন্ধুত্ব । গনগনে আঁচের পাশে পড়ে থাকে তির্যক রোদ্দুর । দাশু আর দামিনী যাতায়াত করে এই রোদ্দুরের পথ বেয়ে । এখন দামিনী খুব ব্যাস্ত, রোদ্দুর তাই তাঁকে আকাশের খবর দিয়ে যায় । শস্যের বোঝা মাথা থেকে ভাঁড়ারে নামিয়ে এসেছে দামিনী । খানিক দুধ জোগাড় করেছে দামিনী । পিঠে করবে । ভাতের হাঁড়ি।
উনুনে বসায় দামিনী । উনুনের আঁচে টগবগ করে ফুটতে থাকে জল । চাল ছেড়ে তার খলবলানি দেখে সে । আজ কুমড়ো ভাতে দেবে খানিকটা । আসার সময় খানিক কুচো চিংড়ি পেয়েছে সে । কুচো চিংড়ি সেদ্ধ করে বেটে কুমড়ো পাতায় মুড়ে, পাতুড়ি করবে সে । দাশু ভালবাসে । সঙ্গে করে একগন্ডা বন্ধু নিয়েও ঢুকতে পারে । জোগাড় বেশি রাখে দামিনী । দাশুর মতিগতি সে ভালোই বোঝে । আলনা থেকে শাড়ি নামিয়ে তড়িৎ পায়ে পুকুড়ে যায় সে । ডুব দিয়ে এসে রান্নাঘরে যাবে আবার, দামিনী সার্থকনামা, বিদ্যুতলতার গতিতেই সে কাজ সারে । তবে এ সময়টা তাঁর নিজের সময় । সংসারের ছন্দে রোদ্দুরের চলার ছন্দ দিব্যি মিশিয়ে দিতে পারে । রোদ মিতালি তাঁর বড় পছন্দের । ভাঁড়ারে ধান তোলার সময় রোদ্দুরের কথাই মনে পড়ে তাঁর ।
ঝুপুস ডুব দেয় দামিনী । ভেসে উঠেই দেখে নীলাঞ্জনা মাছরাঙা এক বিশাল তেলাপিয়া ঠোঁটে ঝুলিয়ে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে ।
দামিনী গুনগুন করে সুর ধরে ‘কখন কে জানে, পথে চলে যেতে যেতে, তোমার পরশ আসে,কখন কে জানে, কখন পথে চলে যেতে যেতে ‘..
রোদ্দুরের সাথে খেলা ফুরোতে চায় না তাঁর । ভাঁড়ার গুছিয়ে শস্যের রূপ লাবণ্য চুঁইয়ে তাঁর রস জারিয়ে নিয়ে রেখে দেওয়ার সময় এখন ।
দামিনীর এখন মেলা কাজ । নবান্ন আসছে ।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •