সাপ্তাহিক টুকরো হাসিতে কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় – ছেচল্লিশ

0
99
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


টুকরো হাসি-ছেচল্লিশ

টাকাটা ধার চেয়েছে

ছটফট করছে পটাই। সে কিছুতেই এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। এক ঘন্টা হয়ে গেল। ফুল্লরার আসার নাম নেই। মাঝে মাঝে যে কি করে মেয়েটা! কেন এত দেরি করছে?
   সেদিন পটাই বলেছিল, ‘তোমার বাবার সঙ্গে আমাদের বিষয়ে কথা হয়েছে?’
    ‘না এখনও বলে উঠতে পারিনি।’ ফুল্লরা বলেছিল।
   পটাই তখন হতাশ হয়েছিল। বলল,  ‘কি যে করো তুমি। এখনও বলতে পারলে না? তুমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বল না?’
    ‘বলি তো।’
    ‘কি কথা বল?’
    ‘কালই তো রাতে বললাম।’
    ‘কাল রাতে বললে? বল না কি বললে?’
    ফুল্লরা বলল, ‘বললাম, বাবা ডিনার রেডি। খেতে এসো।’
    ‘তারপর?’
    ‘তারপর আর কী। বাবা এল। খেল। তারপর গম্ভীর মুখে পায়চারি করতে শুরু করল।’
    ‘কেন গম্ভীর মুখ কেন?’
    ‘বাবার মুখ গম্ভীর কেন তা  আমি বলব কি করে? তবে।’
    ‘তবে! তবে কি?’
    ফুল্লরা বলল, ‘ব্যবসার কথা ভাবতে গিয়ে বাবাকে বেশিরভাগ সময় গম্ভীর হয়েই থাকতে হয়। তখন তো আমার কথা বলতে ভয় করে।’
   ‘তাহলে তো তুমি দেখছি কখনোই কথা বলতে পারবে না। তবে আমাদের কি হবে? আমাদের বিয়ের কথাটা কি পাকা হবে না?’ একটু থেমে হতাশ হয়ে পটাই বলল, ‘আচ্ছা ফুল্লরা তোমার বাবা আমার বিষয়ে কি জানতে চাইবে তুমি কিছু আন্দাজ করতে পার?’
   ফুল্লরা খানিকক্ষণ ভাবল। তারপর বলল, ‘বাবা হয়ত তোমার ব্যাংকে কত টাকা আছে জানতে চাইবে। আমার নানারকম খরচ তুমি সামলাতে পারবে কী না এটা হয়ত বুঝতে চাইবে। তোমার ব্যাংকে কত আছে আমি তখন বলব কি করে? আমি নিজেই তো জানি না।’
    পটাই বলল, ‘ঠিক আছে আমি আজই তোমাকে বলব। ভেবেছিলাম তোমাকে পরে বলে আচমকা চমকে দেব।তাই এতদিন বলিনি। এখন তোমাকে না বলে উপায় নেই। তোমার বাবা নিশ্চয়ই আমার ব্যাংকে যা আছে শুনে তোমাকে বিয়ে দিতে আর আপত্তি করবে না। জানো আমার তোমার সঙ্গে এইভাবে ইনস্টলমেন্টে দেখা করতে ভালো লাগে না। তোমাকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারলে তুমি তখন সবসময়ের জন্য আমার।’
   ফুল্লরা হাসল। বলল, ‘তাহলে বল।’
    ফুল্লরার হাসি দেখে মুগ্ধ হয়ে পটাই বলল, ‘এভাবে বলা যাবে না। চলো কোথাও বসা যাক। আমার খুব খিদে পেয়েছে।’
পটাইয়ের খিদে পেয়েছে শুনে ফুল্লরা খুব খুশি হল। এবার বেশ ভালো মন্দ খাওয়া হবে। ব্যাংকে কত টাকা আছে তাও জানা যাবে।
   পটাই খুব খুশি। তার যা টাকা আছে তা শুনে নিশ্চয়ই ফুল্লরার বাবা তার হাতে মেয়েকে তুলে দিতে  আপত্তি করবে না। ফুল্লরা বাবার একমাত্র মেয়ে। একবার যদি ঠাকুর ঠাকুর বলে ঝুলে যেতে পারে তাহলে আজীবনের একটা হিল্লে হয়ে যাবে। বালি,স্টোন চিপস্‌ এইসব সাপ্লাইয়ের ব্যবসায় আর খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না। একটা এলাকায় দশটা গোষ্ঠী। সারাক্ষণ কোন্দল। সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। কাজ হতে হতেও হচ্ছে না। কত আর কাছের লোক হওয়া যায়। অথচ তার মধ্যেই দু’বার করে বস্তা বস্তা আবির সাপ্লাই দিতে হল। ব্যবসায় টিকে থাকার কোনো উপায় নেই। আজকাল তো কথায় কথায় গুলির চালানোর চল হয়েছে। কে কখন টপকে দেবে। তখন বাপ মা কাঁদবে। ফুল্লরা কি তখন আর তার কথা মনে রাখবে? অন্য কোথাও ঝুলে পড়বে। এ যে কি টেনশন কাউকে বোঝাতে পারছে না পটাই। ফুল্লরাকে সে সারাক্ষণই তোয়াজ করে যাচ্ছে। একবার যদি ওর বাবাকে ম্যানেজ করতে পারে তবে একেবারে বাধ্য জামাই হবে। ফুল্লরার বাবার  ব্যবসায় ঢুকে ভালো করে কাজ শিখে খুব কাছের হওয়ার চেষ্টা করবে। আরও অনেক বেশি টাকার কথা বলতে পারত ফুল্লরাকে। ওর বাবা শুনে খুশি হত। পারল না। কত টাকা যে কত ভাবে গচ্চা গেছে। লোকে ব্যবসার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছে ফেরত দেয়নি। কত টাকা কাটমানি দিতে হয়েছে। তবু কাজ পায়নি। উলটে খুলি উড়িয়ে দেবে বলেছে। 
    ফুল্লরা কেন এত দেরি করছে কে জানে! তবে কি কোনো খারাপ খবর? ওর বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি? আবার এমন হয়নি তো যে তার ব্যাংকে যা টাকা আছে তার বাবাকে জানাতেই হয়ত বলেছে, ‘তুমি এইরকম একটা ভিখিরি ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করছ? আবার তার কথা বলতে এসেছ। আমার মেয়ে হয়ে তোমার লজ্জা করল না?’
   এইসব ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ হবার অবস্থা পটাইয়ের। হঠাৎ দেখল ফুল্লরা আসছে। মনে হল ভগবান আছে। ভগবানকে তার গান শোনাতে ইচ্ছে হল, তুমি আছো ভগবান। এবার আমার পরীক্ষা ভগবান।
     ফুল্লরা কিছু বলতে যাওয়ার আগেই পটাই বলল, ‘এখানে নয়। চল আজ আমরা তোমার অনেক দিনের পছন্দের জায়গায় বসব। খাওয়া দাওয়ার পর সব ধীরে সুস্থে শুনব।’
     ফুল্লরা আপত্তি করল না। বরং খুব খুশি হল।
    খাওয়া হয়ে গেলে পটাই আরও বেশি সময় বসার জন্য বেয়ারাকে বেশি করে টিপস্‌ দিল।
    পটাই বলল, ‘ফুল্লরা তোমার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে?’ 
    ‘হ্যাঁ।’
   ‘সত্যি! তুমি আমার ব্যাংকে যে ৫০ লাখ টাকা আছে তা বলেছ?’
   ‘বলেছি।’
   ‘তোমার বাবা শুনে কি বলল?
   ‘বাবা নিজের ব্যবসার কাজে লাগাবে বলে টাকাটা ধার চেয়েছে।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •