|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় জি কে নাথ

0
43
Spread the love

দেবীমাংস

এ শাবকখেকো চিরন্তন হিংসার থেকে অতলে নামতে দেখি আমার বুকের কাছে পাঁজর সবুজে সবুজের ভিতরের শূন্যে খসে গেছে
মৃৎগাংচিলের ডানা

পরিসর ছেড়ে সমদৃষ্টির ভিতর খনিগানের অন্ধকারে মেয়েমানুষের তলায় গড়ে উঠেছে অস্তিত্বে এড়িয়ে যাওয়া চিহ্নচক্র

মাটি ছানা সদ্য প্রতিমা বুক ছড়িয়েছে অবিমিশ্র আকারে , হাওয়ায় গাঁথা করতল ভেসেছে
মাটিদেহ ঘরের অসীম শূন্যের গন্ধে
বাদাম তেলের অবিন্যস্ত আশ্লেষ জুড়ে থাকে ধাতব ধ্বনির সনাতন মুহূর্তের ভাঙা অক্ষরপরবর্তী পরচুলোর মতোন তবড়ানো ভাষা ভাড়ার সংসার
সূচীমেঘলা ক্ষুরের কতো ছলে খুলে ফেললাম পাতাবয়নশিল্পের মুখে পুরে রাখা হলদে বিকেলের অরণ্যহৃদ
নিহত শস্যময়ী ভূমিবীজের শব রেখে মন্ত্রপাত্রে নিচু হয়ে বসি
যোনিভান্ড ঝলসানো অগ্নিপদ্ম সুবাসিত পলির জোছনায় ছিন্ন শির

খসে গেছে কিছুকাল অমোঘ মায়ার বসনে জলবৎ ব্রহ্মদেহের অস্থি আধার
ছায়ার খোলসে আদিসাধকের চিদাকাশে আলোড়িত অরণ্যনদীর ধারায় ভবিষ্যযান চলাচল
প্রত্নশালুকের ঘুমে রাত্রিমনি জ্বলে উঠতে অমৃতঅন্ন ঢেকেছে তৃষ্ণাগর্ভ
আহুতির অখন্ড প্রহর জুড়ে ভেসেছে সমস্ত মৌনশব্দের খোলে রোদভস্মে ভেজা ছায়ার ব্রতকথা
বাসনাসম্ভূত মাংসের মোহে বয়ে যায় আত্মকামের নিঃশ্বাসে স্রোতরক্তনাড়ির ভেলা
বিপুর অজস্র চোখের সূর্যমাঠে নেমে এসেছে হলুদগতির ইচ্ছেবাক

জেগে ওঠে মহামৃত্তিকার পাঁজরে স্থির প্রজ্ঞারূপ বেদের অন্ধকারে নরপুতুল সভ্যতার প্রাণবীজ স্ফুটন
নেভা জপমুদ্রাবহ্নির শরীর জুড়ে আত্মার মাগফেরাত নকশায় আয়ুপ্রশস্ত কুম্ভীরক ভেসেছে হৃৎইষ্টের হরিৎমুখের সাধনায়
জলাত্মারূপ আদিমতার উপচারে মোক্ষের পথ ছেড়ে কাল আবাহনে অতলান্ত উত্তরায়ণ
স্থিতির অক্ষ:পাত , দেহঘোর ভেঙে মিশেছে আদিগৌণসংসারের এষনায়
জীবনমদ্যরন্ধ্রে বাসা গড়ে কৃষ্ণশিলার শ্রাবণরূপ সমার্থক পরমআত্মা
আদ্যাচক্রের মূলে উচ্চারণ ছিঁড়ে

দৃষ্টিতে ঘুরে দেখা স্বস্তিক রেখায় অগ্নিভূত রিফুর সময় শিকড়ের কাছে ফিরে যায় আপাত সরল পল্লবিত জলের কৌশল
রক্তজবার লাল বন্দি মাটির সৈনিক এখন মেঘের পালকি কাঁধে শ্লোকের কাছে ঝরে পড়া গর্ভমুন্ড শাদা গলিত শয্যাপ্রবাহে পেরিয়ে যায় ধুলোয় আলোয়
জলে ওড়া ঝলসানো ছায়াহাঁসের পাখায় চলমান ছায়ায় সমস্ত বোধের গায়ে পথের গ্রাম
কাহ্নের বাদ্যপ্রহরে ঘনিয়ে আসে দগ্ধ পুত্রের মতো টিলার সন্ধ্যা
জন্মবীজ, রক্তবীজ চুঁয়ে শরীরের উপর শুয়ে আরেক শরীর মৃৎসভ্যতার মতন ফ্যাকাশে
দীর্ঘ জড়ানো জেগে ওঠে নির্মিত বিগত সন্ধ্যার ভ্রূণ ছিন্ন বিমূর্ত লালের পাঁক ঘিরে জলের নীচে ভেসে থাকা স্থির মাংসগাছের শিকড় ওপড়ানো শরীর শিকারের খাদ্যগান

ধীরে ঢুকে যাচ্ছে অনিবার্য সুদূর বাস্ততন্ত্র
অক্ষরনদী তীরে ফিরে যায় সমুদ্রের খুলি, নৌকার হাড়গোড়
ফুটে ওঠে গূঢ় আঁধারে লিপির মাথা তুলে বনজঙ্গলভরা অস্ত্রের ঝনঝনানি
স্বরে ডুবে যাওয়া বালিঘরে সন্ধ্যাঅঙ্গার থেকে হরিণশাবকের মতো ত্রস্ত ছুটে গেছে জটিল শরীর বেয়ে হাজার শিশুর অস্ফুট চিৎকার
পায়ের নিচে নেমে আসে হাত ডোবা নৈঃশব্দের বিবশ নীলআগ্নেয় কুয়াশায়
বীতনিদ্র
ভেতরে ছায়া গোটানো কাঁচা হাড়ের দিকে খাঁজ কেটে কেটে সাজানো তুষযুগের ধ্বংসস্তূপে জন্মায় কপিশ ছত্রাক জন্মানো নক্ষত্রের অন্ধকার

লকলকে লৌহধূমে ভেসে যাওয়া খন্ড হাড়ের মাতৃভূমে বৃক্ষবৃষ্টির স্নায়ু ছিঁড়ে দেহহারা শূন্যের কোটরে অগ্নিলাভায় সারা রাত্রির গা নিভে আসে
পাঁজরহারা সন্তান ভেসেছে খোবলানো আয়ুর মতো বিষাক্ত জলার দিকে
পথে পা খুলে গেছে, মৃত বাকলে পৃথিবীর আর্দ্র কঙ্কাল
সূক্ষ মাংসভূক হাসির শব্দ সরিয়ে দেওয়া পুরুষপর্দার আড়ালে চলে গেছে অনেক ফার্নের অস্থি রঙের জলজ রাত্রি
ত্রিফলার আকাশজল ঝরা পাতার রস আকুতির ভেতর আধখানা অন্ত্রনল ,
অন্ধ পাতালনাভি ভাসমান শ্বেতছাইয়ের ভিতর জিহ্বা বাক্য পাঠ

                         খুলে যায়

জলদ্বার

                        আগুনদ্বার

বাতাসদ্বার

ছিটকে পড়ে গ্রাম প্রান্তরে মুন্ডহীন নীল নিমজ্জন গুহ্যগহ্বর
গ্রাসের তল ভেসে ওঠা অসম্ভব জল জল
স্বপ্নালু অবসর কালো নীচে সমুদ্রের ক্ষয়রত পিণ্ডের দলা
ধুলোর ভূর্যে রাখা অম্লমধুর পেট ফেটে হাত বেরিয়ে আসে, হাত বাড়িয়ে ঊর্ধে করোটির প্রত্ননাচে চমকে ওঠে জমকালো বাসি মড়া
চন্দ্রকাঠের দিগন্তে রক্তলাভাপাত্র ফুঁসছে
সাড়হীন শিলা লাফিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে, গড়িয়ে নামছে জগৎবাড়ির মুখ

এই পূর্নশরীরমূর্তি খুলে নিশ্চুপে অসংবৃত পোড়া শিরার সবুজ পাতারা ওড়ে অস্তের জলে ভিজে
নগ্ন ছায়ার লাশ উদ্ধার করতে করতে রোদের ঘাড়ে কোপ মেরে তা ধিন ধিন লাফিয়ে উঠি
মাটির তলার কুপিত যখের সোনালী উষ্ণ তরলে ভেসে আছি, ফুটন্ত মেঘকাল থেকে উঠে যাই বিদ্যুৎঘিলুর ব্যাধিজন্মকাল ছিন্ন করে উড়ো চুল সরানো পুনর্জন্মের পেটে ভাগ্যলিখন রেখে

শব খোলা গন্ধে ঠ্যাং উল্টে শূন্যে ধসা মাথার উপর বিরাট ফুটোয় ঘুটঘুটে নিশ্ছিদ্র গর্তে খসে পড়ে আছে দেখি বিগত পাপ
গুপ্ত কথা
উপচে এতো গলিত তামালাল যোনিশীতল জড়ক্ষেতের কর্ষিত রাক্ষুসে জাতক নৃত্য করে স্বজনবাতাস ফেটে ঘৃতআগুন জলেরপাহাড়ে
কুন্ডলিত জলজন্মধাতববুকের ভেতর ক্রমশ ঢুকে পড়ে রক্ত মেশা বলিবণিকের জমা বাষ্পের আশ্রয়ে অশরীরি অশ্রু নিঃসৃত মেষের দলরশ্মি
কেবল অঙ্গুলি হেলন করি হারানো জলের পথে হালকা শস্যমুখে সময়রেখা শেষের লগ্ন ভেদ করে সহযাত্রায়
মন্ত্রমূল মিষ্টান্ন সফল তীর্থ এর সূত্রে
কোমরভাঙা আগুনবায়ুর আধোশরীরের দশচক্র থেকে আঘাত রেখে মাটিঅন্ন উৎসবে মেতে ওঠা শূলাঙ্গ জোছনাহারা বিষের সৌরকাদায় ছিটে যায় দুধেলপিন্ড
কাঁচা মাংসের শিয়রে জ্বলে থাকে তারার উপসাগর
গর্ভজলের শূন্যে ছুঁড়ে দেই মাটির মুন্ডু
ভূতলে ভেসে ডুবতে থাকে দেবীর কেশভার

ঘনঘোর বিমর্ষ তারাক্ষেতের অদূরে অশ্রুময় রক্তবীজ পাখায় পাতা উড়ানে থেমে যাওয়া ছুটির কর্ষিত উপনিষদঋতুর লাঙ্গল ভেসে যায় জলমাটি গড়া কৃষকের ঘাসশরীরে
স্থাণুবৎ প্রাচীন শব্দের গুহালেখ চিরে ভাগ হয়ে গেছে বিগতবৃষ্টির জরুল দাগ ছাতিমের আঙিনা থেকে গৈরিক নদীর আরক্তিম ধারায়
জ্বলে ওঠে সহস্র শিখায় আরও একবার রসকলি আঁকা ছায়াঅতীতের বুক ছুঁয়ে স্রোতের আদলে শ্যামলিয়া কুসুম নিবিড়তা

যুবক শরীরের কাঠামো অর্ধেক ঢেকেছে অন্ধের আলোয় পাথর তোলা শূন্যের গিঁট বাঁধা পায়ে
ঝাপসা সমস্ত জলীয় বিশ্রাম শেষ হলে মনে হয় তিরতির বালির চাঙর ভাঙতে ভাঙাতে যেন ঢুকে যাচ্ছি কানকো ঠেলে সজোরে জলের ধাক্কায় দুলে ওঠা ঝলসানো তৃষ্ণা

মন্ত্রসিদ্ধ দৈব তরুণকালের গর্ভে সাজানো তরল হাড়ের বায়ব্য প্রমায় ভেসেছে অপাপবিদ্ধ বিকল শোক শূন্যে ভোগ্য থালা
কবোষ্ণ পারণে নিঃসাড় কথামুখের বিরামহীন জাহাজের অতিক্রান্ত প্রেতছায়া নেমে আসে সান্দ্র অবসাদের নির্বাক বিদায়ে
কাংস্যক্রেঙ্কারিত কালের কন্ঠ ক্রমে
ধুলোর আবর্তনে নৈঃশব্দের ভারে
সমুচ্চ সুবৈহাসিক ঢাল বরাবর বয়ে যায়
সমাহিত সন্তাপে স্ব স্ব নিয়ত ধারায়

ধ্বনিপ্রসারিত সন্ধ্যার কুয়াশায় ঢাকা প্রচ্ছন্ন কালপ্রবাহে
এ আয়োজন কালে নিথর শরীর পতনের শব্দে চোখের পাতালে ভেসে ওঠে ব্রহ্মকমল , খণ্ডিত বুকের আরক ফেটে আগুন পোড়ায় সরল অথচ নিথর কিছু পিছুটান
টেনে নিচ্ছে ভূমিগন্ধে প্রতিটি মানুষপথ
উদোম মহানিমের কনুই বেয়ে খুলির ঘট গড়ায় আকাশ চাকায়
ছড়ায় রক্ততেল
মহামাস শেষে ষোড়শী বজ্রস্তনের অসীম ফুটোয় কেঁপে ওঠে হিমশিশু বলির মুন্ড
নরকালীমাংস
খাঁড়ায় খাঁড়ায় স্বচ্ছ কালো অবশ শরীর পোড়া গোপন আগুন
অমোঘ নিথর পুড়তে পুড়তে মাটির
কোমল
পোড়া জলরেখার ভিতর জেগে ওঠে ফিরতি স্বরে অলীক নিশির মতো ডাক

খসে যায় জন্ম
জন্ম খসে যায়
বিপুল অলীক অনিঃশেষ

সূর্যকরোটি রমণে পাঁজর ভেঙে উঠে আসে ক্ষণকাল
গাঢ় দৃষ্টির একতাল নরম ধূ ধু হাওয়ায়
তরলের সবুজ শিস থেকে তুলে রাখা শিলাজলরেখার সংকেতমুখর অন্তর্দাহ এর ভিতর দাউ দাউ বোধের বাহক উঠে আসে যেন আবহমান থেকে খুদপিপাসাকাতর শৃগাল
ঘন হয়ে ওঠে চূর্ণ জন্মের পরাগ
বিষের চাকায় গড়িয়ে যায় ঋতুস্রাব
প্রস্ফুট এ সমস্ত
জোনাকি নক্ষত্রের তৃষিত ডাকে রক্তমজ্জার উতরোলে ঢেউয়ে ঢেউ ভেঙেছে জনপদ ছেড়ে জ্বলন্ত মৃতমুখের উনুনের মতো কালওষ্ঠের অসহায় চিতার ধ্বনি
মানুষের সাথে জড়িয়ে আছে পাথর পাথর
লতাগুল্মের নিষিদ্ধ জলগন্ধী শ্যাওলার নোনা সংসার
নিদারুণ নিয়তিতাড়িত শুদ্ধ শরীরের গর্ভদ্রোহে অসফল হাহাকারে ঘোরে শবের মাটিচক্র

যুথবদ্ধ মোম আলোর জাদু মায়া , শৈব কিংবা চণ্ডাল মহাঅঙ্গের প্রগালভতায় বারবার ঠেলে দেয় হেমন্তের নকশিকাঁথায় বোনা দেহপটের দীর্ঘ সঙ্গমধুভূক আত্মস্থলির দিকে
মধ্যপথ জুড়ে সহজাত রাঙা সকাল হাঁসফাঁস করে রঙে দূরে উড়ে যায় ভাদ্রের রোদে তৃষ্ণার্ত সতীনের মতো যে কিনা শব্দের থেকে অর্থ চুরি করে জঠর পুড়িয়ে দিয়েছে সংলাপের প্রান্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে জন্মের মতো আশ্চর্য গোধূলিতে
অনাময় ভেসে যায় আয়ুর আখ্যান মৃত পশুর ছাল থেকে অভিজ্ঞান মেখে
জল মোহ আগুন উৎসব উল্লাস
ছাই ছাই ভস্মের ক্রমে দূর থেকে দূরতর গলিতনখের প্রান্তে আবরণহীন রাংতা খসা , খড়, মাটি
গলে পড়ে আকার
আকার গলা
অভ্যাসের কাছে পৌঁছে যাওয়া বিস্ময় এসে থামে জননীর পদচিহ্নের পাশে
লতাগুল্মময় অস্তিত্বের খোলায় সমস্ত কিছুর বিস্তৃত চেতনা ভস্মীভূত মজা কচুরিপানার লুপ্ত সীমান্তে ঢুকে যায় অধরা তন্ত্র জীবন
অগ্নিমেঘ সাঁতরে দেখি শরীরের ভিতর শরীরে ভেসে যায় শনাক্তহীন বোধ নিয়ে অতিশয় ঝাউসূর্যের বন

শূন্য ওড়া আগুলের ফুলকি ভিতরে ভিতরে হাওয়ায় ওড়ে
জলকণা
ভাঙা রক্তের শুকনো দাওয়ায় এলানো পতনের পিঠে মাঠের আলে ঘাস
ঘাসের মধ্যে পিঠে কেটে নিচ্ছে চুলের শিকড়
ক্ষয়ে যাওয়া ওই মাটির গভীরে অন্ধকার প্রত্নছায়া আলোর হলুদ হাড়
খাসজমি পেরিয়ে আসি অসম্পূর্ণ সাঁকো মাটিতে রাখা হাত বরাবর কাঁটা ভরতি পায়ে চলা পথ আরও নীচে নেমে গেছে
গলা অবধি ডুবে ঘোলা রং
মাটির ছাদ
আলো হাতে ফেরত রথচক্র
পূর্বপুরুষের
সর্বসহা ছায়ার ফোঁটায় ঠান্ডা গন্ধের স্বীয়মুখে পতঙ্গচিহ্নের রঙে মুক্ত দূরে দূরে মাটির দেশ
ঝোপেরজল থেকে উঁকি দিয়ে কাশের জনপদ চলে গিয়েছে ইশারায় ভিতর
ফাটল ফাটলে জলে শুয়ে আছে হেমন্তের মাঠ
অন্ধ গূঢ় পাতার মেঘে সবুজ পোড়া ছাইয়ের স্রোত উচ্ছাস
দূরত্ব খোলেনি পাশাপাশি
পাশাপাশি ফুটন্ত রোদ
আকাশছাদ
জটিল নাভি , স্তন, ত্বক শ্বেত স্বপ্ন হরকরা
পথের শেষে নিচু বিকেল
শুষে নেয় জলদীপ্ত
বিবেকের গভীর তলায় অসীম শরীর ফেলে উঠে আসে ধুলোর জঙ্গল কলস

বাজে ক্ষুধাবাদ্য
বাজে তৃষ্ণাবাদ্য
ঘা মারে

ধুলো হয়ে মাঠ পেরিয়ে বিদ্যুৎ কালো জানালা ওপারে
শিখরে ঘাড় গুঁজে জ্বলে সহজ শবের নীলাভ শোধন
পরিখার আলম্ব উড়ে গিয়ে ধোঁয়ায় রক্ত পোহাতে পোহাতে চিরকাল উঠে আসে যে পথ হাত পাত
রক্তপ্লুত রোপওয়ে সত্যটানা সাঁতশ সন্তানের ধাত্রীমায়ের মতোন বাঁকা শরীরের আকাশ জুড়ে রক্তিম ঝুলন্ত অসীম গহ্বরে ঢুকে গেছে পিপাসার নরপিশাচ
বালিরকাদায় গাঁথা হাড়ের জঙ্গলে মাংসের ঢিবির উপর বসে খুঁটে নিচ্ছে ক্ষুধার জাল ছিঁড়ে গলা অবধি নুড়ি ,নুড়ি
ধুলোর মেঘপাখি

অগোচরে ভেজা স্বপ্ননিম্নে উপবিষ্ট নামার শয্যায় ব্রহ্মঘুমের বাতি নিভিয়ে ফেলে রেখে যাওয়া ভয়ের বাণী কিছু
ভস্মের তোড় এসে ভাসিয়ে গেছে, নিয়ে গেছে জ্বলন্ত জন্ম, কতো পরিচয় সুদূর পতনের দূর অবেলায়
মাটির অনন্ত মাটির সমাধি ছেয়ে গেছে সমস্ত নাভির খড়ে
উঁচু সূর্যের পালক ওড়ে

রাঙা দেহ তুলে বিনিদ্র শুয়ে আছি ভাসান তীরে মোহিত জল অন্ধকার ঘর থেকে বিরত নদীর চাকায়

                      ভাঙা নারী 
                      ভাঙা যোনি 

ভাঙার ফাটল ধরেছে স্তনের আকারে দ্বীপ

……….‘ওঁ ক্রীং ক্রীং হৃং হৃং হিং হিং দক্ষিণে কালীকে ক্রীং ক্রীং ক্রীং হৃং হৃং হ্রীং হ্রীং হ্রীং স্বহা।
…….
ভেসে যায় জল বেয়ে আবহমান
তরঙ্গপাতে ফেনায় ফেনায় হাতযশ এর পথে ঢেলে রাখা মাংসবৃত্তান্ত
শেষ ভাঙা অসম্পূর্ণ অকূলের চিতায় উল্লাসে ফিরে আসে অবসর
অজস্র বিষের স্বভূমি
উবে যাওয়া স্বপ্ন সমুদ্রের পায়েসে উড়েছে নিহত দূর অন্ধকারে জোনাকির রং
পুঁথির স্বদেশ ধুয়ে যায় রোদের নীচে দাঁড়ানো অনেক জলের ছায়ায়

আকাশ শেখা মাথার উপর নির্ভর করে দৃশ্যের জলে সেঁধিয়ে পথের অবতারণা
আল যত্নের বাঁধা জমির শূন্যে মুক্তিখন্ডের শূন্য দোলায় লাফিয়ে উঠে পাঁজরে মেশা মাটির গর্জন
পা ঘেঁষে লুপ্ত হয় স্বচ্ছ ভ্রূণের মতো মরা সমস্ত দেশ
নম্র বহুদূর চোখ গেলা গণচিতায় সঙ্গী বন্ধু ভাই
দেখি রক্তের মাদুরে আকাশ ছুঁয়েছে রসগর্ভ
চাঁদ পৃথিবীর উদ্বাস্তু সহস্র বছরের মদের আশ্রয়
পোশাক খুলে উলঙ্গ নারীরা বসে অগ্নিমুখোশ ঘিরে
চুর্নীর জলে জন্মশিকল বাঁধা ভেসে উঠে আসে শুধু
কল্যাণমুদ্রা
রক্তে
রক্তে অগণন
খোদিত আমার সমস্ত শিল্প
ক্রমশ পাখির আঁধারে জড়িয়ে গেছে দেখি আলোর এ মহাস্বদেশ ,
ধোঁয়া ধুলোর ছাইয়ে আমার ফিরে আসা

পকেটহীন গড়পড়তা ছায়া ধরে মেলে ধরি
আমার আকর লৌহজং
বন্ধুতা , আঘাত কিংবা শত্রুতা
আটপৌরে আড়াল থেকে বাঁচিয়ে রাখি দেবীর নগ্ন বিগ্রহ , ধর্মের পাশে পড়ে থাকা অন্ধকার ভাঙা খড়ে দেবীর অগোছালো বসন
এ মায়ামৈথুন স্থির দৃশ্যে
উড়ানহীন অন্ধকারের সাধনখন্ডে আটকা হত্যা শরীরের ভস্ম ওড়ে
আয়না ভাঙা পালকের স্পর্শ ভাঙচুর
সব খিদে শেষ হলে সদ্য ত্রিশ পেরোনো হাতে
নির্মাণ কাঠামো
ভাসে রক্তচন্দনের বসন্তকাল
এখন অনৃত সূর্যচিতার কারোটির ভিতর হেসে ওঠে নিস্পৃহ ত্রিকালসন্ধ্যাশিশু হি হি
মহাউৎসবের স্নায়ু , শিরা জড়িয়ে ওঠে ,
বৃষ্টির নৌকা ভেসে যায় একে একে দূর দিনের গভীরে
গনগনে আগুন ঝরা হাঁ মুখে নিভে আসে রাত
ফুঁ অশান্ত জলের কবরে বেজে ওঠে হাড়ের শিঙা
কাঁকর জন্মের ঘ্রাণ লেগে থাকা যাত্রার আধার গড়িয়ে পড়ে
শেষ প্রবাহ
ক্ষত
বিদায় ।।


Spread the love