ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সুদীপ পাঠক (পর্ব – ৬)

    0
    19
    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  

    বুন্দি ও তার অলৌকিক চশমা

    এই পর্যন্ত শুনে যদি কারোর মনে হয় ব্যাপারটা টিপিক্যাল ‘শাস ভি কভি বহু থি’ অথবা ‘গীতা দে সন্ধ্যা রায়’ গোছের কিছু তাহলে মারাত্মক ভুল হবে । এদের সমস্তটাই ওপর ওপর , নারদ নারদ খেলা আর কি । দামিনী জানে শাশুড়ি তার নারকেলের মতন । বাইরে কাঠিন্য বজায় রাখেন ঠিকই কিন্তু অন্তঃকরণ পেলব ও কোমল । বিউটিদেবী আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী সকলের কাছে পঞ্চমুখে পুত্র বধূর প্রশংসা করে বেড়ান ।
    – বৌমা আমার রূপে লক্ষী গুণে সরস্বতী । অনেক ভাগ্য করে জন্মালে তবে ওমন বৌমা পাওয়া যায় । ছেলের বিয়ে দিয়ে ঘরে বৌ এনেছি হেঁসেল ঠেলবে বলে তো নয় ! তাহলে মায়ের আমার সোনার অঙ্গ কালি হয়ে যাবে নাকি ? ওর শিল্পী মন ও সেই চর্চাই করুক । চিরকাল যেনো ঘর আলো করে থাকে । চোখের সামনে আনন্দে হেসে খেলে বেড়াবে দেখেও সুখ । মুখখানি দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায় , আহা । আমার কোজাগরী আর দামিনী কি আলাদা নাকি ?
    সত্যি কথা দামিনী রান্না করতে যাবে কেন দুঃখে ? কারণ তার শাশুড়ি মা টিভি দেখে নিত্য নতুন রেসিপি শিখে মারুতিকে সহকারী করে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যান । শুধু কি তাই ? মাস কাবারি বাজার থেকে শুরু করে শাক সব্জি মাছ মাংস ডিম ফলমূল ঘি মাখন দই মিষ্টি সংসারের যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু বিউটিদেবী নিজে কিনে আনেন । তাঁর হেনা মেহেন্দি শোভিত বয়কাট চুল , চোখে রোদ চশমা , পরনে ফ্লোরাল প্রিন্টের স্লিভলেস টপ ও লং স্কার্ট , পায়ে হাই হিল জুতো । এই সাজে স্কুটি চালিয়ে যখন বাজার করতে বের হন তখন হর্ন বাজানোর দরকার হয় না , রাস্তা এমনই ফাঁকা হয়ে যায় । দু’ ধারের লোক সরে গিয়ে পথ ছেড়ে দেয় ।
    অন্য দিকে দামিনী ছাড়া শশধরবাবু ও বিউটিদেবী সম্পূর্ণ অচল । দু’জনেই ব্লাড প্রেসার ও ব্লাড সুগারের রুগী । এছাড়াও বয়স জনিত কারণে নানা রকমের শারীরিক সমস্যা আছে । নিয়মিত ওষুধ পথ্যি সেবন করতে হয় । সে চিন্তার ভার বৌমার ওপর ছেড়ে দিয়ে বুড়োবুড়ি পরম নিশ্চিন্ত থাকেন । বৌমা যেনো তাঁদের অন্দ্ধের যষ্ঠী । সে নিত্য দিন সকলের মঙ্গলার্থে পূজা অর্চনা করে । পরম মমতায় পরিবারের সকলকে আগলে রেখেছে । বাইরে থেকে নতুন মানুষ কেউ এলে হতভম্ব হয়ে যায় ! শাশুড়ি নাইটি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বৌমার পরনে শাড়ি , তার ওপর আবার মাথায় ঘোমটা ! একি আজব কাণ্ড রে ভাই ? আসলে তারা যেটা বুঝে উঠতে পারে না তা হলো রেষারেষি বজায় রাখতেই হবে কারণ সেটা মর্যাদার প্রশ্ন । একে অপরের বিপরীত কার্য না করলে নিজস্বতা বজায় থাকে কি করে ? তাইতো বিউটিদেবীর থ্রো করা নিউ ইয়ার্স ইভের পার্টির জগঝম্পর ঠেলায় এলাকার লোকের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় । ঠিক তার এক দেড় মাসের মধ্যেই দামিনী সাড়ম্বরে মহা সমারোহে সরস্বতী পূজার আয়োজন করে । গোটা পাড়া পাত পেড়ে বসে ভোগ খায় আর ধন্যি ধন্যি করে । এই অম্ল মধুর সম্পর্ক শুধু ওরা দুজনেই নয় সকলেই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে ।
    এখনো অবধি সব ঠিকঠাকই চলছিল । ব্যাপারটা ঘোরালো হলো সেদিন যখন খেলতে গিয়ে বুন্দি একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসলো । দলের মধ্যে উচ্চতা তার সব থেকে কম । গুড়গুড়ি বেটি লাফ দিয়ে উঠে বল হেড করে গোল দিতে চেষ্টা করলো । ব্যাস আর কি ! যা হবার তাই হলো । হিসেবের সামান্য গরমিলে চশমা ভেঙে খান খান । বাম চোখের তলায় কাঁচের টুকরো ফুটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে । কোনো মতে বরফ কুচি চেপে ছোট ছোট ডাক্তার খানায় । তিনটে স্টিচ হলো । বরাত জোর চোখের কোনো ক্ষতি হয় নি । ঠাকুমার আস্কারা পেয়ে পেয়ে বুন্দি বেপরোয়া হয়ে উঠছে । করোকই তোয়াক্কা করে না । তাকে ফুটবল কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়েছেন স্বয়ং তার ঠাকুমা ।

    চলবে


    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •