Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ২০)

0
21
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ১০

বহু বছর ধরে আমি দেখে আসছি, নারী চরিত্র- নারীর কান্না। সমাজ সাধারণ নিয়ম অনুসারে, যে কাঁদে তার কথা শুনে। পুরুষ কাঁদেনা। পুরুষ অর্জন করে। নারী পুরুষে পার্থক্য এখানেই। নারী কারুর কাছে  তার প্রয়োজনীয় বিলাস ব্যসন ও আরাম পেতে চায় দান হিসাবে। এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। আমি দেখেছি, রামায়নে সীতা রামের সাথে বনে চলে এসেছিল। কারণ রাম তার যোনির সুখ, স্বামী। স্বামী ছাড়া নারীর বৈধ সুখ নেই। বনে, রামের কাছে সোনার হরিণ ( যা প্রতারণা, সোনালী রংগের হরিণ নয়, সোনার হরিণ, যা অবাস্তব ও বিপদের প্রথম ধাপ) বাসনা করেছিল। সীতাকে আমি দেখিনি, নিজে কিছু অর্জন করতে। বা রাবণের সাথে চলে যাবার মুহুর্তে কোন বাঁধা সৃষ্টি করতে। সেই আদিম কাল থেকে, ইতিহাসে ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া, খুব সাধারণ নজির নেই মেয়েরা/ নারীরা উপার্জন করে, বা শ্রম দিয়ে বিশেষ কোন বস্তু অর্জন করতে। শিল্প সাহিত্যে দেখা যায়, তারা শুধু হাত বাড়িয়ে পেতে চায় কোন বিশেষ উপহার। এবং পুরুষের কাছে। তার কোন বিশেষ পুরুষের প্রতি মোহ নেই যেমনটা দেখা যায় পুরুষদের টার্গেট বা নিশানা করা। তাকে যার হাতে তুলে দাও তার হাতেই সে ঠিক আছে।  হর-ধনু-ভংগ বা মাছের চোখ নিশানা যে পারবে – কুৎসিত হোক, সুশ্রী হোক, রাজা হোক বা গরীব হোক, তার কোন পরোয়া নেই। সে কোন রাজপুত্রকে বা বিশেষ কোন মানুষকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে অর্জন করে আনেনি। কোন বিপদে পা বাড়ায়নি, বা বিপদে কোন পুরুষকে উদ্ধার করে আনেনি। শিল্প সাহিত্যে নজির পাওয়া যায়না। নারী শুধু পেতে চায়।  কেন পেতে চায়?  তার এই পাওয়ার  উদাহরণ পশু পাখী জগতেও আছে। নারী পশু পাখীরা পুরুষের কাছে কিছু চেয়ে পেয়ে খুশী হয়ে আনন্দ করে।
 নারীর এই পাওয়ার সাথে যৌন সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ অধিকাংশ ঘটনায়, নারীর অস্তিত্ব টিকিয়ে থাকার সাথে নারীর যৌন সম্পর্ক লুকিয়ে থাকে। সমাজ না দেখলে তার বৈধ ও অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে মাথা ব্যাথার কথাও থাকেনা। ক্লিওপেট্রাকে বেশ্যা রাণী বলে কারণ সে পুরুষকে তার যোনির বিনিময়ে দখল করেছিল বা তার প্রধান অস্ত্র/ পুঁজি ছিল শরীর, কোন কিছু কেনার বা অর্জনের।  সমাজে বহু মহিলা তার পরিবারের অজ্ঞাতে শরীর বিনিময়ে  নিজের বিলাস ব্যসন কেনে। এরকম উদাহরণ অজস্র।
ঠিক তার উলটা দিকে, নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনে, বিষয়টা এমন নারী যৌনমিলন চায়না বা তার কোন যৌনবাসনা নেই।   এর সাথে যোগ হয়েছে, নারী সব পারে। মানে সব কাজ করে নিজের উপায় করতে পারে। বা পুরুষের থেকে সহস্র হাত দূরে থাকতে পারে। সচেয়ে দুর্বল ঝগড়া মনে হয়েছে  ২০১৭ সালে ‘মি টুও আন্দোলন (The Me Too movement)’আমি দেখেছি, নারীদের দ্বিচারিতার স্বচ্ছ ছবি।
কোন পুরুষ যদি কোন মহিলাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংগম করে, মহিলা সেই পুরুষের কাছে দ্বিতীয় বার যাবেনা। এবং সে তার অন্যায়ের কথা আইন আদালতকে জানাবে। শাস্তির ব্যবস্থা নেবে।  দেখা গেছে, হার্ভে উইন্সটেইনের সাথে মহিলারা হার্ভের ধর্ষণের পরও তার সাথে হাসি মস্করা করেছে বছরের পর বছর, তার সাথে কাজ করেছে ও পুরস্কার নিয়েছে অস্কার। অর্থাৎ হারভের সাথে কাজ না করলে তাদের বিখ্যাত হওয়া অসম্ভব ছিল আমি মনে করি। একটা সুযোগ কারুর কাছে একজীবনের লটারী/ ভাগ্য। কোটি কোটি মানুষের মধ্য কোন করিৎকর্মা পুরুষের সাথে চলে ভাগ্য খুলে। মহিলার সাথে চলে ভাগ্য খুলেছে এমন ঘটনা শুনিনি। যৌনসহবাস বিশাল কোন ঘটনা নয়। আমি যতটুকু নৃতত্ব ও বিবর্তনের ইতিহাস পড়েছি, নারী একসাথে বহু পুরুষের সাথে যৌনসংগম করতে পারে। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা এসব নানা শাস্ত্রে তার উল্লেখ করেছেন।  এছাড়া কম বেশি ৭৬০ কোটির মানুষের মধ্যে   অর্ধেক নারী তার প্রায় ১০ কোটি বেশ্যা বা যৌনকর্মী। এবং তারা যৌন কর্ম স্বীকৃতি নিয়ে নানা রাস্ট্রে আন্দোলন করছেন। যৌন কর্ম কঠিন হলে মহিলারা অন্য পেশাতে যেত।
সমাজে গত কয়েক দশক ধরে নারী পুরুষের দ্বন্দ্ব বেড়েছে।এইসব দ্বন্দ্ব থেকে পৃথিবীর মানুষকে আমি শান্তির পথ দেখাতে চাই। তাই নিয়ে আমার ভাবনা ও গবেষণা। এটা আমার থিসিস/যুক্তিতত্ত্ব।  আমি প্রমাণ করতে চাই, বিয়ে প্রথা উচ্ছেদ করে, দুটি প্রথা চালু হোক তাহলে সকল রকম নরনারীর দ্বন্দ্ব মিটে যাবে। বা প্রায় শূন্য হয়ে যাবে।
১। ঘর কর্মী (নারী বা পুরুষ) (Home maker) ২। শরিকী জীবন (Partnership)। দুটি ব্যবস্থায় সামাজিক জীবন অধিক সুরক্ষা পাবে। সন্তান ও পিতামাতার সুরক্ষা অধিক হবে।
১। ঘর কর্মী হল, কোন নারী বা পুরুষ দুজনের মধ্যে, নির্দিষ্ট সময় বা  তাদের যতদিন ইচ্ছা, ততদিনের জন্য মাইনে দিয়ে বিপরীত লিংগের মানুষকে চাকরি দেবে। সেই চাকরিতে যৌনজীবন সহ ঘর সামলানোর সকল কাজ, সপ্তাহ ভরা ২৪ ঘন্টা করে তাকে পরিষেবা থাকবে। মাইনে কত হবে, কি কি শর্ত থাকবে তা নির্দিষ্ট চুক্তিপত্র ও সমাজের কোন বিশেষ অফিসের দ্বারা মধ্যস্থতা থাকবে। যেকোন স্বল্প সময়ের নোটিসে তা খারিজ যে কেউ করেও দিতে পারে। কেউ কারুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়ী থাকবেনা। সন্তান আনতে চাইলে, আগে লিখিত চুক্তি থাকবে (শুধু সন্তানের) ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী ১৮ বছরের মানুষ করার প্রযোজনা কেমন থাকবে। কার কত টাকা খাটবে ও অধিকার নিয়ে পরিষ্কার চুক্তিপত্র।
২। শরিকীজীবন।  নারী পুরুষ  দুজন দুজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তি। এখানে মাইনে কেউ পাবেনা। দুজন দুজনের টাকাপয়সা ও সম্পত্তির পরিমাণ হিসাব করে শরিকী জীবনে লগ্নি করবে।  যে যতটুকু  শরিকী জীবনে আর্থিক মূল্যে (ব্যক্তিগত উপার্জনের হিসাব ও শরিকী জীবনের আগের সম্পত্তির হিসাব ) অবদান রাখবে, তার হিসাব  স্থানীয় অফিসে প্রতি বছর রিটার্ণের মত অডিট দেবে।  সন্তান চাইলে  সন্তান সম্পর্কে বড় করে তোলার আগামী ১৮ বছর তার  বিবৃতি থাকবে চুক্তিপত্রের মত। শরিকী জীবনে কেউ ‘স্বামী’ বা ‘স্ত্রী’ শব্দ ব্যবহার করতে পারবেনা। যেকোন সিদ্ধান্তে দুজনের সহমত ছাড়া কাজ করা যাবেনা। শরিকী জীবন থেকে  স্বল্প সময়ের নোটিসে বিচ্ছেদ চাওয়া যাবে। যে বিশেষ অফিসে তাদের জীবন চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল তেমন কোন অফিস থেকে বিচ্ছেদও পাওয়া যাবে।  কেউ কারুর প্রাপ্য অংশ না পেলে বিচ্ছেদের সময় তা নিয়ে আদালতে মামলা করা যাবে। কোন কিছু স্থাবর অস্থাবর কিছু না থাকলে কিছুই দাবী থাকবেনা।
মোটামুটি এমন কিছু বিয়ের পরিবর্তে আমি ভেবেছি, সমাজে নারীপুরুষের বিবাদ মেটাবার জন্য।
 আমাদের সমাজে বর্তমানে বিয়ে সহজেই হয়। তাকে যৌতুক নিতে গেলে অপরাধ মানা হয়, কিন্তু বিচ্ছেদের সময় মহিলা পুরুষের সম্পত্তি চুরি করে যেন নিয়ে পালায়, তখন তার খরপোষের নামে  যেন শহরের তোলাবাজ মাস্তানের মত কাজ আদালতের চোখে অপরাধ হয়না। এগুলি বন্ধ হওয়া দরকার।
 এছাড়া অধিকাংশ মহিলা অভিযোগ করে বলে সংসার করে তার জীবন নষ্ট হয়ে গেল। সে বিশাল কিছু হতে পারত, ব্যক্তিগত বিকাশ হত, বা তার সংসারের শ্রম বৃথা যায় গোনা হয়না। এই সব অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।
 আমার দেখানো পথে  প্রত্যেক মানুষ তার শ্রমের বিনিময়ে রোজগার করে খাচ্ছে। কেউ কারুর দয়ায় খাবেনা।
ধরুন কোন মহিলারা পড়াশুনা/খেলাধূলার/শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞানের সখ ছিল। সে ঘর কর্মী হয়ে কোন পুরুষের কাছে কাজ করলে, তার জীবনকে রুটিনে এনে পড়াশুনা চালিয়ে যাবে। তার অভিযোগ করা বা শোনার জায়গা তৈরি হবেনা। বয়সের সাথে সাথে তার জৈবিক চাহিদাগুলিও মেটাতে পারবে। সে যা মাইনে পাবে তা দিয়ে সে চলবে সেইভাবে। যেহেতু তার হাতে অর্থ আসার ব্যবস্থা থাকবে। সে নিজের নামে অর্থ সঞ্চয় করে ব্যাংকে রাখতে পারবে। যখন তার মনে হবে ঘরকর্মীর কাজ ভালো লাগছেনা, বা অন্যলোকের কাছে কাজ নেবে/নিজের ইচ্ছে স্বার্থ পূরণ করবে/ স্বাবলম্বী হবে, বা নিজের পায়ে নিজের ইচ্ছে মতো দাড়াতে চাইবে, তখন সে ঘরকর্মী চাকরি থেকে ইস্তফা দেবে। অনুরুপ ভাবে পুরুষও তাই করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় একজন মালিক অন্যজন ভৃত্য।
২। শরিকী জীবনে, দুজন সমান অংশীদার। সে ঘরের কাজ করুক বা বাইরের কাজ করুক, দুজনের আয় ব্যয় হিসাবখাতা থাকবে ও বছর বছর অডিট হবে। ঘরের কাজ করলে কত মূল্য নির্ধারিত হবে, তার উল্লেখ শরিকী জীবনে আসার আগেই স্থির করে আসতে হবে। এটা এমন হবেনা, মহিলা কোন চাকরি করল বিরাট অংক মাইনে পেল আর পুরুষ ঘরের কাজ করল দুজনের সমান মূল্য ধরা হবে। ঘরের কাজে দাম কত সেই সময়ে তার উপর ধরা হবে। শুধু দুজন দুজনকে মানুষ হিসাবে সমান ব্যবহার করবে, শ্রদ্ধা করবে, যেদিন এই ব্যবহার  হবেনা সেদিন চুক্তি বাতিল করে নেবে। বাতিলের সময়/ বিচ্ছেদের সময় খরপোষ বলে কিছু থাকবেনা যার যার প্রাপ্য মেটানো হয়েছে নথি তৈরি করে সই দিয়ে ছেড়ে যাবে। কেউ কারুর কাছে সমান ব্যবহার ছাড়া প্রত্যাশা কিছু করতে পারবেনা।
দুটি ব্যবস্থায় সন্তানের বিষয় সন্তান আসার আগেই চুক্তি পত্র করে নেওয়া উচিত। কার কিরকম  দাবি থাকবে, দায়ীত্ব থাকবে
পিতামাতার ক্ষেত্রে যার যার পিতামাতার কর্তব্য সে করবে। নারীর পিতামাতার ভরণপোষণ নারী করবে, অনুরূপ পুরুষের পিতামাতার দায়ীত্ব পুরুষ করবে।
আবেগে, ভালবেসে কেউ কিছু অবদান রাখলে তা চুক্তি পত্রে মূল্যায়িত হবেনা। সামাজিক ভাবে মূল্যায়িত হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •