ছোটদের জন্যে বড়দের লেখায় গৌতম বাড়ই

    0
    22
    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  

    শালিখবন্ধু ঝাঙ্কুমাঙ্কু

    তোমরা তো সবাই চেনো শালিখ বা শালিক পাখি।চড়ুই কাক যেমন।আমাদের বাড়িঘরের আশপাশেই ওরা থাকে ঝোপঝাড়ে গাছের ডালে।শালিখ রয়েছে ১০৪ রকমের প্রজাতির।চিত্রা শালিখ,গোবরে শালিখ,ভাত শালিখ ইত্যাদি।আমার গল্পটি ঐ ভাত শালিখ কে নিয়ে।আমরা সচরাচর যে শালিখ দেখি আমাদের জানালায় এসে বসে ওরাই ভাত শালিখ।তবে তাদের কথা মনে পড়লে এখনও আমার চোখ বেয়ে জলের দু এক ফোঁটা ঝরে পড়ে।আজ সেই গল্প তোমাদেরকে শেয়ার করছি। আজকাল তো তোমরা হরহামেশাই শুনে থাকবে এই শেয়ার করা শব্দটি।
    ” তিনটে শালিখ ঝগড়া করে রান্নাঘরের চালে”
    এও তেমনি।একটা শালিখ পাখি। আসতো বাসার কাছাকাছি। জানালার ধারে।
    মা বলতো চেঁচিয়ে-ওরে দোসর পেলি না?
    আমি বলতাম- কী মা?মা বলতো ওরা জোড়ায় এলে গৃহস্থের মঙ্গল।দিনটা শুভ হয়।
    -তাই না কি?মায়ের কথা ধ্রুব সত্য ঐ বয়সটা জানে।তাই আমিও এগিয়ে গেলাম।ক্রমে ক্রমে ভাব।একদিন দেখি।ওকি!ওরা জোড়ায় বসে রান্না ঘরের ধারে।ততদিনে আমি এগিয়ে গেলেও চুপটি করে প্রথমজনা হাতের পাশেই ছোলা খেতো।মুড়ি খেতো।একটা বেশ বন্ধুত্ব হলো।এতো দেখলাম দ্বিতীয় জনও প্রথম থেকেই স্মার্ট।তাহলে ওরা কি নিজেদের ভাষায় কথা বলে নিজেদের ভেতর? হতেও পারে! তা না হলে প্রথম থেকেই না ডরপুক দ্বিতীয় পাখিটি।আমি সকাল সকাল আটটা পনেরো হলে রান্নাঘরে একছুটে যাই চলে। কোনদিন বর্ষাটর্ষা হলে দেখতে পেতাম না।আমার ঝাঙ্কু মাঙ্কুকে।মনটা খারাপ হতো।মা বলতো-ওরা আজ ওদের বাসা ছেড়েই বেরোয় নি।এই ঘনঘোর ঝড় বাদলে।তারপর সব ফর্সা হলে ওরাও যখন আসতো আমার মনটা বন্ধুদের দেখে ভীষণ আনন্দে ভাসতো।এমনি করেই যাচ্ছিলো সব দিন।সময় গেলো বয়ে।একদিন বাবা অফিস থেকে এসে জানালো-আমরা আবার এ জায়গা ছেড়ে নতুন কোথাও যাচ্ছি।বাবার বদলীর চাকরী।বদলীর অর্ডার হয়েছে।
    মনটা হলো ভার। ঝাঙ্কু মাঙ্কুর সাথে তখন আমার বেদম বন্ধুত্ব।যাওয়ার দু চারদিন আগে গলা বাড়িয়ে বললাম-বিদায়! বন্ধুরা চললাম।
    তারপর দিন অবাক হলাম ঝাঙ্কু মাঙ্কু নেই।পরের দিনও তাই।ওখান ছেড়ে আসবার শেষের আগের দিন—-মা কোথায় ঝাঙ্কু মাঙ্কু?মা বললো তাইতো!তুই কি কিছু বলেছিলি?বললাম— হাঁ।বিদায় জানিয়েছিলাম।
    মা বললো-আরে ওরা মানুষের মতন কথা না বললেও,ওরা আমাদের থেকেও মনের ভেতর বেশি বুঝতে পারে।
    সেই বিদায়টা আজও ব্যথা হয়ে আছে।ছোটো আমার পাখীবন্ধু দুটো ঝাঙ্কু আর মাঙ্কু এখনো হৃদয় ছুঁয়ে আছে।ভুলতে পারি না যে আমার ঝাঙ্কু আর মাঙ্কুকে!

    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •