সাপ্তাহিক ধারাবাহিকা -তে সৌরভ বর্ধন (পর্ব – ১০)

    0
    16
    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  

    কবিতায় আমি কলার তুলতে চাই (পর্ব – ১০)

    দীর্ঘ চেষ্টায়ও ক্যামেরার ফাঁদে ধরা পড়লো না যেসব পাখি, এসময় তাদের ঘরে ফিরে আসা উচিত। ঝড় উঠছে। নিছকই কাল্পনিক সমুদ্রের দিকচক্রবাল থেকে এখনি বিমুক্ত হবে সকল ঘাস, উল্লসিত ফুটকির স্রোতে খোলামেলা এক অসহ্য গন্ধ মিশ্রিত ফুলের রস, আতঙ্কিত উলুধ্বনি মিশ্রিত গজল ভেসে আসবে ; আরাম করে বসে থাকার দিন ফুরিয়ে এলে অন্ধ কানাই রক্তস্রোতে জীবাশ্ম ধারণ করবে, ডেলি প্যাসেঞ্জারি করবে তাঁর মৃত স্ত্রী এবং সন্তান। এরপরে যতটুকু না বললেই নয়, ততটুকুতেই একটা অবয়ব পূর্ণতাপ্রাপ্ত জলাশয়। তেমন ঠোঁট পেলে মনে করো বর্ষা রাত কাছেপিঠেবুকে মেঘের ছবি বাজায়। আঢাকা সিঁদুর উড়ে যেতে যেতে খুব সহজ ভঙ্গি নামে একটা প্রতিষ্ঠান জাঁকিয়ে বসে মেঘের ওপর, ফলে বৃষ্টি ওঠে না, ওঠা শুধু ঝড়ের এক্তিয়ার। সুতরাং বুকের ওপর অসংখ্য পাখি বসে থাকে, এরা প্রত্যেকেই ছোঁ। কথার কথা বলবার জো এদের সাথে নেই। তাই রাত গভীর হলে অনির্বাণ জোনাকির ডানায় জেগে ওঠে নীল নাইক্রোম তারের রোধ। রেললাইনের পাঁজরে আগাছার ভিড় বেড়ে যায় ; সামাজিকভাবে আরও কিছুটা দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, সুতরাং হাতড়ে ওঠে কাপকাঠি। বন্ধ্যা রাত্রির বৃষ্টিপাতে ত্রিপল বিছিয়ে থাকে মনখারাপ, উত্তেজনাহীন, আপেলপ্রবণ। বাষ্পবেলার দিনে রণক্লান্ত প্রেমিকার পায়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আকাশ এনে রাখতে মাগধী অপভ্রংশের সাথে সংখ্যাতল বিনিময় করি, নামকরণের সার্থকতায় শঙ্খ লাগে, ধীরে ধীরে ঘাসেরা নেমে আসে মাটির কাছে, গাছের কাছে যাওয়ার আগে প্রেমিকার স্নান করা দেখে নিই সকালবেলা, নিজেকে শুদ্ধ লাগে। ঘা কতক কুঁড়ি চেয়ে রাখি ওর থেকে, শিকারি ঠোঁটের থেকে মধুর কথা বলি, ধূসর জামার ভেতর দ্যাখা যায় একটা স্বচ্ছ বায়ুথলি স্নানের শব্দে ছটফট্ করছে, আপেলতাড়িত পেটের থেকে উগলে আসছে হজম না-হওয়া অক্ষর, আমি কলের শ্যাওলায় কোনরকমে গা ঢেকে চেষ্টা করছি জলের তোড় বাঁধতে। নৈমিত্তিক এই কফ্-থুতু-মাজন ওয়াক্ থুঃ করে দিয়ে যাই রোজ কলপাড়ে, আসলে আমি অত খিস্তি সইতে পারি না। কেঁচোর স্নায়ুতন্ত্র ডিসেকশন করাও সম্ভব নয় এসময়, তাই স্তূপের যন্ত্রনা সয়ে, আকার আকৃতির গুটিকয় পরিবর্তন করে শক্তির সঞ্চার আমার পুরনো অভ্যেস। এবং তা ভাতেও বাড়বে এই আশায় দিনরাত দুই করছি। এরই মাঝে পায়ুমণ্ডলে একটা মাছের চোখ খুঁজে পেয়েছি, হলুদ চোখ। চোখের দিকে তাঁকাতে আমরা যারা ভয় পাই তাদের জন্য সে দীর্ঘ হজম প্রক্রিয়াকে পরাস্ত করেছে, ফাঁকি দিয়েছে পাকস্থলীর কড়া প্রহরা। তবুও জং-ধরা এই নার্ভের কাছে এসে গড়িয়ে গেছে প্রাণবন্ত লেলিহান…

    ক্রমশ…


    Spread the love
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •  
    •