কবিতায় প্রবীর দাস

0
14
Spread the love

তিতীর্ষু

অসফল দীর্ঘতম কবিতার মতো
টুকরো টুকরো শব্দে, নির্জন অক্ষরে সেজে আছে
অসংখ্য অন্ধকার রাত —
এইখানে একাকিত্ব, ম্রিয়মান নুয়ে থাকা গাছে
নিজস্বতার কথা, অনিঃশেষ অপমানবোধে
সমূহ অবহেলায় কেঁপে ওঠা জীবন—
স্বপ্নদৃশ্যে চকমকি আগুন ঠিকরে পড়ে
জল চিকচিক চোখের পাতায় — যত্নশীল
সতর্কতায় অবশিষ্ট চিত্রনাট্যে
তবুও চিহ্নিত কপালের টিপ
চুপিসারে দেখে নিলে আবারও আত্মহনন …
মজে যাওয়া শীর্ণ নদী জলজ শ্যাওলার প্রেমে
নিরাসক্ত, তবুও মেঘ খোঁজে এই আশ্বিনে
মহাতীর্থে মিলনের সুখ চেয়ে বাউলের হাটে —
ডহরে, ডাঙায় — ঊষর প্রান্তরে —

প্রেম পদাবলি-১

নৈ:শব্দ্যে স্থবিরতা, প্রেম জাগে না মধ্য রাতে —
গতায়ু বসন্ত ও শীতে অর্জিত হা হা হাওয়ায়
উদাসীন পর্যটক আকাশ থেকে সমুদ্রের পথে
জীর্ণ জাহাজের কঙ্কাল কাঠে খুঁজে যায় আলো।
স্বপ্ন-ইতিহাস মোড়া প্রাচীন গল্পগাথায় জিনিয়ার রং
বিষণ্নতার মোড়ক খুলে উড়ানউদ্যত শঙ্খচিলে
শুনে ফেলে মৃদু গুঞ্জনে এই আষাঢ়ের আয়োজন
কুৎসা রটিয়ে দেওয়া যেগুলি ভালো লাগার নয়…

কোথাও বা অপমানবোধ বুঝিবা অলজ্জ প্রাপ্তিযোগ
এখনও পিছমোড়া বারান্দায় বাঁধা অনিচ্ছুক কেউ
আবারও শুরুর কথায় প্রত্যাশিত স্ফীত হওয়া ঢেউ
উত্তেজিত হলে হেরে যাওয়া যুদ্ধের কথা ভাবে
অথচ ক্রমশ চেনাজানা সব অচেনার স্রোতে
মুছে যাওয়া হিসেবনিকেশ, তবুও আরাধ্য প্রেম …

প্রেম পদাবলি-২

চাঁদের আলোয় ম্লান হয়ে থাকা গাছতলায়
হঠাৎ কিছু যেন কুড়িয়ে পাওয়া
গাছটি অশোক না তমাল কিংবা বকুল
সেটি আলোচ্য নয় তবে চকচকে উপলখন্ড
হাত পেতে নেব না এমনই ভাবতেই
কিছু সায়ন্তন সংলাপ, বৃষ্টিভেজা, কিছুটা
উড়ে যাওয়া ধুলো রোদ আর বিষণ্নতায়
ভয়ে ভয়ে চাঁদের দিকে তাকাই, আশেপাশে হতাশা…
তারা নেই মেঘ নেই শুধু উথালপাতাল
স্মৃতিমুখে বেদনাবহ অস্পষ্ট কোলাজ
গায়ে লাগে ব্যক্তিগত ভেজা ভেজা শীত শীত হাওয়া
হৃৎপিণ্ডে ধুকপুক, পাঁজরেও ভেঙে পড়া ধ্বনি
এসময় ভেসে গেলে পৃথিবীর কী বা আসে যায়
ধরে তো নেওয়াই যায় এটিকেই প্রেমে পড়া বলে …

Spread the love