উৎসব সংখ্যায় প্রবন্ধ – পূর্বা কুমার

    0
    5
    Spread the love

    ক্ষত

    এক যে ছিল দেশ। সেই দেশে ছিল একটা নদী। আর ছিল একটা ছেলে। ছেলেটা বড় দুষ্টু। যখন তখন জলে ঝাঁপিয়ে জল তোলপাড় করত। নদী কিন্তু বেশ পছন্দ করত দামাল ছেলেটাকে। ছেলেটার অপেক্ষায় হাঁ করে বসে থাকত। ছেলেটা বেশ কিছুদিন আসে না। তারপর হঠাৎ একদিন এল। হাতে একটা ছোট জাল। একটু যেন বড় হয়ে গেছে সে। রোগাও দেখাচ্ছে যেন। নদী বলল, “এতদিন আসনি কেন খোকা?”
    ছেলেটা বলল,”তুমি আমাকে তোমার মাছ দেবে? বাজারে বিক্রি করব। আমরা যে খুব গরিব।”
    নদী বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ। এ আর এমন কি কথা! নাও নাও। যত খুশি নাও।”
    তারপর ছেলেটা রোজ আসে আর মাছ ধরে। একদিন সব মাছ গেল ফুরিয়ে। তারপর সে আর এল না।
    দিন যায়……রাত যায়……..নদী হা- পিত্যেশ করে বসে থাকে।
    এবার ছেলেটা এল বহুদিন পর। এখন সে যুবক। কি সুন্দর সুঠাম চেহারা তার! চোখ ফেরে না।
    নদী বলল, “এতদিন কোথায় ছিলে খোকা?”
    ছেলেটি বলল,”আমি এবার বিয়ে করব। আমার ঘর চাই, টাকা চাই। আমি তোমার বুকের বালি তুলব। ব্যবসা করব।”
    নদী বলল,” বেশ তো, নাও না, যা তোমার লাগে। কিন্তু তুমি আর আসো না কেন?”
    তারপর সে বছর দাঙ্গা হল। দেশভাগ হল। কত লোক ওদেশে চলে গেল। জীর্ণ নদী একপ্রান্তে একলা পড়ে রইল। বছরের পর বছর এল, গেল। ছেলেটা আর এল না। তবে কি সে ঐদেশে চলে গেল? নদী তার আশা ছেড়ে দিল।
    তারপর……. একদিন……এক নিস্তব্ধ বিকেলে নদী প্রান্তরে তাকে দেখা গেল। ধীর পায়ে সে নদীর সামনে এসে দাঁড়াল। তার এখন চুলে পাক। চামড়া শিথিল। কিন্তু কি এক অলৌকিক উপায়ে বেশ ফুরফুরে, চকচকে।
    “কি গো খোকা! এতদিন পরে মনে পড়ল?”
    দীর্ঘশ্বাস ফেলে নদী বলল, “কিন্তু তোমাকে দেবার মতো তো এখন আমার আর কিছুই নেই।”
    ছেলেটি বলল,”আমি এখন ও দেশের মন্ত্রী। বাঁধবার যন্ত্র পরিয়ে আমি তোমার অবশিষ্ট জলটুকু ওদেশে নিয়ে যাব।”

    Spread the love