দৈনিক ধারাবাহিক : মৃদুল শ্রীমানী

    0
    8
    জন্ম- ১৯৬৭, বরানগর। বর্তমানে দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার উপশাসক ও উপসমাহর্তা পদে আসীন। চাকরীসূত্রে ও দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর লেখনী সোচ্চার।
    Spread the love

    জেনেটিক্স ও মহা প্রাচীন ভারত

    (যে লোক জেনেটিক্স আর ইতিহাস কিছুই জানে না, এটা তেমন লোকের কল্পনা বিলাস। রামগরুড়ের ছানাদের অপাঠ্য)

    ১২

    তা হলে আমাদের প্রাচীন শাস্ত্র গ্রন্থ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে খোদ ব্রহ্মার নাতি বিশ্রবা মুনি আর পরমা সুন্দরী কৈকসীর যৌন মিলনে রাবণ জন্মালেন। জন্মালেন কুম্ভকর্ণ , বিভীষণ আর শূর্পণখা, এবং এরা ভাই বোন সব কজন রাক্ষস, আর তার মধ্যে মায়ের কান্নাকাটিতে বিভীষণ এর ধর্মবুদ্ধি ছিল।
    মুনির ছেলে মেয়েরা রাক্ষস হল কেন?
    শাস্ত্রকার বলছেন প্রদোষ কালে যৌন মিলনের জন্য।
    কি সাংঘাতিক! তাহলে কৈকসী কি চার রাক্ষস সন্তানের জন্য চার বার গর্ভ ধারণ করেছিলেন? না কি, এক বারের যৌন সঙ্গমেই চার চারটে রাক্ষস জন্মের সূচনা হয়েছে? বিশ্রবা মুনি যদি এতই জানতেন, তাহলে জেনেশুনে রাক্ষস গুলির জন্মদোষ এড়াতে প্রদোষ কাল কে পাশ কাটালেন না কেন?
    আমাদের গল্পের পিছনে কিন্তু উঁকি মারছে সুমালী। রাবণের মাতামহ। সে কিন্তু রাক্ষস ।
    আমরা কি এভাবেও ভাবতে পারি যে, পিতা মুনি হলেও মা রাক্ষস কন্যা ছিলেন বলে সন্তানেরা সব কয়টা রাক্ষস হল। সে কি মাতৃতান্ত্রিক ব্যাপার স্যাপার? মায়ের পরিচয়েই সন্তানের পরিচয়?
    এমন কিন্তু উদাহরণ আরো একটা মনে পড়ছে। বন্ধুরা বিদুরের কথা ভেবে দেখুন। সেই বিদুর, মহাভারতকার যাকে সর্বদা ধর্মাত্মা বলে চিনিয়েছেন। ধর্মাত্মা , কিন্তু তাকে কেউ কোনোদিন পাত্তা দেয় নি। বিদুরের কথার সামাজিক রাজনৈতিক ওজন দেখতে পাই না কুরুবর্ষে।
    কিন্তু কেন? ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু যে ভাবে মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসের ঔরসে জন্মেছেন, বিদুরও তো সেভাবেই জন্মেছেন। এক মহর্ষি বেদব্যাস তাঁদের জন্মদাতা পিতা। তা হলে বিদুর পাত্তা পান না কেন কুরুবর্ষে ?
    আমরা কি এভাবেও ভাবতে পারি যে, পিতা এক ব্যক্তি হলেও ধৃতরাষ্ট্রের গর্ভধারিণী ছিলেন কাশীরাজের মেজ মেয়ে অম্বিকা , আর পাণ্ডুর গর্ভধারিণী ছিলেন কাশীরাজের ছোট মেয়ে অম্বালিকা; কিন্তু বিদুর ছিলেন দাসীগর্ভজাত সন্তান। পিতৃপরিচয় নয়, কে গর্ভধারণ করলেন, সেই পরিচয় সামনে চলে এল। সারা জীবন পাত্তা পেলেন না মহাজ্ঞানী বিদুর ।
    উপরের দুটি দৃষ্টান্তেই মায়ের পরিচয়েই সন্তানের পরিচয় দিতে চেয়েছে মহা প্রাচীন ভারত।

    চলবে….


    Spread the love