ফিচার-এ প্রিয়ব্রত সাহা

0
11
Spread the love

শান্তিনিকেত, সোনাঝুড়ি ও একা আমি

এই সময়  বাইরের ভ্রমণার্থী ও শান্তিনিকেতনবাসী মানুষজনদের কাছে ‘সোনাঝুড়ি’-র শনিবারের হাট অতি পরিচিত। খোয়াই এর পাড়ে সারিবদ্ধ সোনাঝুড়ি গাছের তলদেশে  বসে এই হাট। মূলত গ্রাম্য শিল্পীদের হাতে তৈরি নিজস্ব শিল্পকর্ম বিকিকিনির একটা জায়গা। একসময় গুরুদেবের শান্তিনিকেতন মুক্তবায়ুর ক্লাস-চত্বর পাঠভবন, কলাভবন,সংগীত ভবন ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা রামকিঙ্কর বেইজের সেই অসাধারণ শিল্পকর্মগুলি আকর্ষণ করত আগত ভ্রমণার্থীদের, আর আজ শান্তিনিকেতন পৌছেই ভ্রমণার্থীরা গুগলে প্রথম লোকেশন খোঁজে সোনাঝুড়ি হাটের। ছেলেবেলায়  মাঝেমধ্যে গিয়েছি সোনাঝুড়ি হাটে তখন সপ্তাহে শনিবারই  বসত এই হাট। বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়- এর হাট সম্পর্কিত একটি লেখাও আছে সেটার সাথে কিছুটা মিলও পেতাম সেসময়। যদিও ঐ হাট আর সোনাঝুড়ি হাটের বিস্তর ভৌগোলিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যর পার্থক্য আছে। সে যাইহোক মোট কথা হাট একটা মিলনক্ষেত্র আনন্দের জায়গা। বিগত দশ বছর আগের হাট আর এখনকার হাটের বিস্তর ফারাক। এখন  শান্তিনিকেতন -এর সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা ‘সোনাঝুড়ি’র হাট।ক্রমে  ক্রমে ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষজনদের আনাগোনা বাড়তে লাগল। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠল লজ, রেস্টুরেন্ট। যে রাস্তায় পা-চালিত রিক্সা চলত। সেই লাল-ধুলো কাঁকড়ের রাস্তা দ্রুত পাকা হয়ে গেল, আরো উদ্যোগী মানুষজনদের ভিড় বাড়ল।সরকারী সাহায্য মিলল। গড়ে উঠল পর্যটন। ঢালাও বিনোদনের মঞ্চ সাজানো হল।  এখন আর শুধু শনিবার নয়, হাট বসে প্রত্যহ, নিয়মিত। আগে গ্রামের মানুষজন নিজেদের হাতে  তৈরী জিনিসপত্র আনত হাটে বেচতে। এখনও আনে বিক্রি করে তবে এখন মধ্যভোগী  ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে। এখন আর পিঠে, পাটিসাপটায় মন ভোলে না আগন্তুকদের।  চায় রঙিন সুরভিত সুরা। সেটাও হাটের পাশে দিব্যি মেলে। সুরা তো হল এবার একটু হাট ঘোরা হোক…  চড়া দামে জিনিস কেনে প্রিয়জনদের উদ্যেশ্যে। DSLR এ কিছু ছবিও তোলে, আচ্ছা ঐ দিক থেকে একটা শব্দ আসছে চলুন দেখা যাক কিসের শব্দ?  এক গৃহী বাউল গান ধরেছে আপন খেয়ালে, এ গান কার প্রশ্ন করে আগন্তুকরা,  সাথে সাথে উত্তর আসে এ গান রবি ঠাকুরের গো আমাদের রবি ঠাকুর। আচ্ছা দাদা ঐ দিকটায় কি আছে গো- এত মানুষ আসছে যাচ্ছে যাই একটু ওদিকে – স্থানীয় আদিবাসী মেয়েরা হাটে আসে তাদের নিজস্ব নাচ প্রদর্শনে তাদের সাথে শহুরে হুজুগে আগন্তুকরা মিশে যেতে চায় পা মেলাতে চায়  মাদলের তালে তালে। আচ্ছা অতই সোজা নাকি এসব। এগুলো পশ্চিমি দেশের অনুপ্রাণিত থুড়ি  inspire নয় এ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। যাইহোক বেশ কিছু ছবি তোলা চলে নানান কায়দায়। মাদল বাজতে থাকে আপন বোলে। বাউলও গাইতে থাকে গগন হরকরা থেকে দ্বিজভূষণ। ব্যবসায়ীরাও জিনিস গোটাতে থাকে। সন্ধ্যা নামে, পাখির দল ফিরে আসতে থাকে বাসায় সকলকেই ফিরতে হবে নিজের জায়গায় কিন্তু মাদল আর একতারায় কি সুর বাজে?  বিষাদ নাকি DSLR ক্যামেরার মতো সাজানো ছবির মতো আনন্দ এর…….?

Spread the love