দৈনিক ধারাবাহিক : মৃদুল শ্রীমানী

    0
    13
    জন্ম- ১৯৬৭, বরানগর। বর্তমানে দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার উপশাসক ও উপসমাহর্তা পদে আসীন। চাকরীসূত্রে ও দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর লেখনী সোচ্চার।
    Spread the love

    জেনেটিক্স ও মহা প্রাচীন ভারত

    (যে লোক জেনেটিক্স আর ইতিহাস কিছুই জানে না, এটা তেমন লোকের কল্পনা বিলাস। রামগরুড়ের ছানাদের অপাঠ্য)

    প্রাচীন ভারত যে বিজ্ঞানের বহু শাখায় আধুনিক ভারতকে টেক্কা দিত তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই। কুন্তী ছিলেন অসামান্য সেক্সি মহিলা। অবিবাহিতা অবস্থাতেই তিনি সূর্যের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সেই সুযোগে গর্ভবতী হন। কুন্তীর আর একটি নাম পৃথা। তিনি পৃথু রাজার কন্যা ছিলেন। পৃথার ছেলে বলেই অর্জুনের আর একটি নাম পার্থ। পৃথিবী থেকে সূর্যের বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করার কায়দা পৃথা কুন্তীর জানা ছিল। দেড়শ কোটি কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে আলোর লাগে সাড়ে আট মিনিট। পৃথা কুন্তীর তাও লাগত না। হুট বলতেই সূর্যের কোলে পৃথা। যাই হোক কুন্তীর বিয়ে হল পাণ্ডুর সাথে। সাথে সতীন কাঁটা মাদ্রী। পাণ্ডুর আবার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাই নেই। তো শুধু পাণ্ডু কেন, ওঁর বৈমাত্রেয় ভাই ধৃতরাষ্ট্রের ও ওই ক্ষমতাটি ছিল না। এদিকে টুকটুকে বৌ আনা চাই। বিষ নেই তার কুলোপানা চক্কর। কুন্তীর উপর বর ছিল যে যে কোনো পুরুষ কুন্তী ডাকলেই সঙ্গমের জন্য হাজির হবেন। তো কুন্তী তাঁর বৈধ স্বামীর পুত্রোৎপাদন ক্ষমতাহীনতার সুযোগে খুশিমতো দেবতাদের সাথে যৌন সঙ্গমের ব্যবস্থা করে নিলেন। তিন তিন খানা অভিজাত দেবতা ধর্ম, বায়ু আর ইন্দ্র, পৃথা কুন্তীর ডাকে হাজির। তিন তিনটা পুত্র সন্তান হল পৃথা কুন্তীর। সতীন মাদ্রী পৃথার সৌভাগ্য দেখে বায়না করে, ও দিদি আমাকেও একটা সুপুরুষ দেবতা ম্যানেজ করে দাও। কুন্তী তো মাদ্রী কে অতো সুযোগ দেবেন না। শেষ কালে সব দিক ভেবে বললেন … আচ্ছা, নে, একটি মাত্র চান্স পাবি। আমার মতো যত খুশি সুযোগ তোর হবে না।… মাদ্রী ওপরে ওপরে কুন্তীকে চটালো না। বলল হ্যাঁ দিদি, তোমার মতো তিন চারটে মদ্দা দরকার নেই, আমার একটা হলেই হল। কুন্তী তখন সেই দেবতা পটানো পাশ ওয়ার্ড মাদ্রী কে দিলেন। মাদ্রী জানে পাশ ওয়ার্ড সে একবারই পেয়েছে। আর পাবে না। সে মাথা খাটিয়ে দেখল এমন একটা কায়দায় পাশ ওয়ার্ড কাজে লাগাতে হবে যাতে দুইবার সেক্স করা যায়। মাথা খাটিয়ে মাদ্রী ডাকলেন অশ্বিনীকুমারদ্বয় কে। ওঁরা একটা, আবার দুটো। দুটো মিলে একটা। মাদ্রী এক পাসওয়ার্ড এ দুই দেবতা ম্যানেজ করলেন। জন্মাল দু দুটো ছেলে। দুই সতীনেরই সব ছেলে কিন্তু। নো মেয়ে। দশরথের চরু পায়েসেরও ওই গুণ। অনলি ছেলে। নো গার্ল চাইল্ড। তিন তিনটে রানী চরু পায়েস খেল, তবু নো গার্ল চাইল্ড ।
    মাদ্রীর কাণ্ড দেখে কুন্তীর একটু রাগ হল। কুন্তীর তিনটে ছেলে। সেই ছেলের সংখ্যা দিয়ে হেজিমনি বজায় রাখতে চায় কুন্তী। আর মাদ্রী তার সাথে টক্কর দিতে চায় না কি? মুখে কুন্তী আপাতত কিছু বলল না। মাদ্রী যদি একটা চিচিং ফাঁকে দু দুটো দেবতা বাগাতে পারে, সে ওঁর কিসমতের খেল। বা গ্রে ম্যাটারের সৌজন্য। পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার দায়ে আপাততঃ পৃথা কুন্তী চুপ। সে উশুল করেছিল পরে। একদিন মাদ্রীকে দেখে কামোত্তেজনা জাগে পুত্রোৎপাদন ক্ষমতাহীন পাণ্ডুর। এদিকে ডাক্তারের স্পষ্ট নিষেধ ছিল পলকা শরীরের উপর চাপ পড়ে, এমন কোনো জিনিস করা চলবে না। এদিকে মাদ্রীর প্রতি কামোত্তেজনা এসে যেতে পাণ্ডু আর টিকলেন না। মারা পড়লেন। বর পাণ্ডুর মৃত্যুর জন্যে প্রকারান্তরে মাদ্রীকেই দায়ী করে কুন্তী তাকে পাঠিয়ে দিলেন সহমরণে। যাক সে সব মন খারাপ করা কথা।
    ওদিকে জায়েদের পাঁচ পাঁচটা ছেলে হয়েছে শুনে গান্ধারীর মন খারাপ। সেও ভারি সুন্দর দেখতে মেয়ে। বর দৃষ্টিগত প্রতিবন্ধী, তাই সৌজন্য দেখিয়ে গান্ধারীও চোখে রুমাল বেঁধে থাকে। মহাভারতকার বলেছেন। তো চোখে রুমাল বাঁধলে যে কানেও রুমাল ঢাকা দিতে হবে তার তো বাধ্য বাধকতা নেই। সুতরাং গান্ধারীর কান খোলা। আর সেই শ্রবণ যন্ত্র দিয়ে জায়েদের ছেলে হয়ে গিয়েছে এই কথা গান্ধারীর মরমে পশিল রে, আকুল করিল তার প্রাণ। আকুল হবার যথেষ্ট কারণ আছে। জন্মগত দৃষ্টিহীন হওয়ায় ধৃতরাষ্ট্র সিংহাসনে চড়তে পান নি। পাণ্ডু রাজা ছিলেন। রাজরানী হবার সৌভাগ্য গান্ধারী মিস করেছিলেন। এবারেও তার ছেলে দেরিতে হলে রাজার মা হওয়াটাও ফসকে গেল। রাগ তো গান্ধারীর হতেই পারে। আর রাগ হলে নানা মানুষ নানা ভাবে রিঅ্যাক্ট করে। অসহায় মানুষ নিজেকেই আঘাত করে। গান্ধারীর স্বামীর দৃষ্টিশক্তি নেই , পুত্রোৎপাদন ক্ষমতা নেই, কুন্তীর মতো চিচিং ফাঁক বর নেই, গান্ধারী কোথায় যাবেন? সবার দয়ার পাত্রী হয়েই বাঁচতে হবে না কি?
    রাগে ক্ষোভে নিজের তলপেটে আঘাত করলেন গান্ধারী। ধিক এই নারীজন্ম, ধিক এই নিষ্ফলা যৌন আকুতি … আঘাতের ফলে গান্ধারীর পেটে একটা মাংস পিণ্ড গজালো। মাংস পিণ্ড ক্রমে বড় হয়। গান্ধারী কি ভাবলেন কে জানে, যৌনমিলন ছাড়াই সন্তান? সে কি করে হয়? ব্যাসের ডাক পড়ল। সেই কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস। সেই যিনি সঙ্গম করে ধৃতরাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন অম্বিকা গর্ভে আর পাণ্ডুর জন্ম দিয়েছেন অম্বালিকা গর্ভে আর বিদুরের জন্ম দিয়েছেন দাসী গর্ভে , নিজে যিনি জন্মেছেন মৎস্যগন্ধা সত্যবতীর কন্যা অবস্থায় ঋষি পরাশরের যৌন সঙ্গমে, সেই ব্যাসকে ডেকে আনা হল।
    ব্যাস তাঁর পুত্রবধূ গান্ধারীর তলপেট থেকে সেই মাংসপিণ্ড মোচন করলেন। তার পর সেই পিণ্ড কুচি কুচি করে কেটে একশো খানি আলাদা আলাদা পাত্রে পুষ্টিকর রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রেখে দিলেন। কালে সেখান থেকে গান্ধারীর পুত্রগণ জন্মালো। আর জন্মালো একটি কন্যা। তার নাম দুঃশলা।
    আপনারা কি এর পরেও বলবেন টেস্ট টিউব বেবির সৃজনশীল শিল্পী আমাদের ব্যাসদেব নন?
    (সম্পূর্ণ লেখাটি আগামী ১৩ দিন ধরে প্রকাশিত হবে, প্রতিদিন সকাল আটটায়) 

    Spread the love