মুড়িমুড়কিতে ঈশা দেব পাল

    0
    6
    Spread the love

    পিডিএ কিংবা ভালবাসার ভাষা

    —পিডিএ-র জন্য মেরেছে। কী অবস্থা। দুটো বাচ্ছা ছেলেমেয়ে পিডিএ করেছে বলে মেট্রোতে কয়েকটা বুড়ো তাদের উদোম কেলিয়েছে।
    —-হোয়াট ইজ দিস বান্টি? এটা কী ভাষা?
    —– কিসের কী ভাষা??? আমি মোবাইল থেকে চোখ না সরিয়েই বলি।
    ——মায়ের মুখের ভাষা শুনেই বাচ্ছা শেখে। মনে রেখো।
    যাচ্চলে। এ লোকটা খামোখা জ্ঞানবাজির লাইনে চলে যাচ্ছে আজকাল। কী বলেছি কী। বুঝতেই পারছিনা।
    তবে মোবাইল থেকে চোখ উঠিয়ে দেখি, আমার পতিদেবতা পরীক্ষার খাতার স্তুপ থেকে কেমন একটা অবাক আর ভ্যাবলা চোখে তাকিয়ে আছে। আজকাল মাঝে মাঝেই এমন দৃষ্টি উপহার দিচ্ছে। ছেলে পাশের ঘর থেকে কার্টুন দেখে একা একাই হাসছে। ছেলে কী শিখবে ?
    —- কীসব বলছ আজকাল!! কেলিয়েছে, উদোম। এসব কী? উদোম মানে জানো?
    —– উফ। সবটাই শুনেছ তাহলে ঘটনাটা।
    —- না শুনে!!! পি ডি এ টা কী?
    —-আরেএএএ, পি ডি এর জন্যই মেরেছে দুটো ছেলেমেয়েকে।
    —- আজকাল ঝগড়া করাকে পিডিএ করা বলে নাকি!!!!
    আমার অধ্যাপক স্বামীশ্রী চিরকালই একটু হাবাগোবা টাইপ বলে আমার মনে হয়। নিজের ক্লাস, অংক, ছাত্রছাত্রী তার বাইরে ইচ্ছে করেই ঢুকতে চায়না। চিরকালই আমার মনে হয়েছে সময়ের থেকে ত্রিশ বছর পিছোনো। তাই বলে এতটা??? হাঁ করা মুখটার দিকে তাকিয়ে গা পিত্তি জ্বলে গেল। তাও বললাম— পিডিএ মানে ঝগড়া???? দুটো যুবক যুবতী মেট্রোতে ঝগড়া করছিল???
    —- কেন করতে পারেনা? তুমি আমার সঙ্গে কতবার মেট্রোতে ঝগড়া করেছ বলতো!!
    —- হা ঈশ্বর, হায় আল্লা। তোমার আর কিচ্ছু মনে নেই??
    —- কেন মনে থাকবেনা? তোমাকে এক ঘণ্টার ওপর দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম বলে তুমি রেগে আমাকে একবার প্রায় ঠেলে দিয়েছিলে। সেটা অবশ্য মেট্রোতে নয়, বাসস্ট্যান্ডে। ওহ, বুঝেছি পিডিএ মানে মারামারি? আজকাল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে বড্ড মারামারি করে। তবে তাই বলে অন্য লোকেরা ওদের মারবে কেন? বাড়াবাড়ি করছিল???
    আমি মোবাইল রেখে অবাক হয়ে লোকটার লেকচার শুনি। এই বুদ্ধি নিয়ে কলেজে পড়ায়???? এর পয়সায় আমি খাই??? চাকরি না করে???
    —-গম্ভীর হয়ে বলি —নাহ, এবার বদলাতেই হবে।
    —- কী?? এবার আবার খাতায় মগ্ন।
    —- তোমাকে।
    —- হাহ হাহ, আমাকে বদলাতে পারবেনা। আমি যা বলি সোজাসুজি।
    —- আমার খেয়েপরে কাজ নেই, তোমাকে বদলাবো??? আমি আমার লাইফ পার্টনার বদলে নেবো।
    —-এবার আবার খাতা থেকে মুখ তুলে—কী ভুলটা বলেছি!!
    —– ভেবেছিলাম ফেটে পড়বোনা। পড়তেই হল। চিৎকার করে বললাম—- দুটো নারী-পুরুষ রাস্তায় শুধু ঝগড়া-মারপিট করে?? এই তোমার জিকে ??
    —- আর কী করে??
    —- আমরা কী করি?? শুধু ঝগড়া???
    —- করনা?? সারাদিন তো তাই কর।
    —-উফফফ, আর কিচ্ছু করিনা???
    —-এবার একটু লজ্জা পেয়ে ছেলের ঘরের দিকে তাকিয়ে বলল—এত চেঁচাচ্ছো কেন?? মেট্রোতে ওসব কিকরে করবে কেউ??
    যাক, মোটা মাথায় ঢূকেছে। এতেও না বুঝলে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস নিতে হত।
    —- বোকারাম, মেট্রোতে অত কিছু কেউ করেনা। একটু আধটু করছিল।
    — অ।
    —-অ মানে ?
    —- একটু আধটুতে মন নেই আমার।
    —– ছি ছি ছি। তোমার মনের কথা কে জানতে চেয়েছে?? তুমি ইস্যুটা থেকে শুধু সরে যাচ্ছ। তোমার কি সমর্থন নেই এতে?
    কোনও উত্তর না দিয়ে ব্যাটা খাতা দেখে যাচ্ছে। আমাকে ইগনোর করা হচ্ছে!!
    আমিও গিয়ে রামঠ্যালা দিয়ে জানতে চাই—তুমি কি এটা সাপোর্ট কর??
    —- একদম একদম পুরো সাপোর্ট। পিডিএ মানে যদি ওইসব হয়, হোক । রোজ হোক। তবে ওরা কি আর আমাকে জিজ্ঞাসসা করে করবে? তাহলে বলতাম, মেট্রোর চেয়ে ময়দান ভালো। তবে আমরাও তো আর পিডিএ করতে ওদের জিজ্ঞাসা করছিনা, তাই না?
    চিরকাল দেখেছি, অধ্যাপক গোছের লোকেদের একটা পেটে পেটে শয়তানি থাকে, ওপর চালাকিও থাকে। শব্দটার মানে না জেনেই কী ওভার স্মার্ট হয়ে ব্যবহার করে দিচ্ছে।

    দুই 

    বিকেলে রুমিদিকে ফোন লাগালাম। এতবড় একটা পিডিএর ঘটনা নিয়ে একটু পিএনপিসি করব বলে। সে ব্যাটা আজ দুবছর ধরে একটা পরকীয়ায় লটকেছে। সাহিত্যিকেরা পরকীয়া বলতে যেসব আধো গান, কবিতা এদ্দিন লিখে গেছে এ কেস মোটেই সেরকম না। এ হচ্ছে ঝগড়া, ঝঞ্ঝাট, রাগারাগি, ফেসবুকে ব্লক-আনব্লক করার রোজকার প্রেম। তাই প্রেমভালবাসা র লাইনের যা কিছু আমি ওর সঙ্গে ই আলোচনা করি। ওর জীবনের থিওরিই হচ্ছে, যেখানে ঝগড়া,সেখানে প্রেম। সেইসব শোনার পর থেকে মাথা এমন গুলিয়েছে, বাসে ট্রামে ও আজকাল ঝগড়া করি ভয়ে ভয়ে। কেজানে এই উদো লোকের সঙ্গে পরে যদি সত্যিই প্রেম হয়। ওকে জিগ্যেস করলাম, —-ভালবাসার ভাষাটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত বলে তোমার মনে হয়? মানে কী ভাষায় প্রকাশ করা যায় আরকি। একদম গোড়া থেকে ধরতে চাইছিলাম পিডিএ ব্যাপারটা। অর্থাৎ পাবলিক ডিসপ্লে অফ এফেকশন। ব্যাপারটা তো সেই হল প্রেমের প্রকাশ। তা কেমন ভাবে প্রেম প্রকাশিলে লোকে বোঝে? রুমিদি প্রথমটা প্যাচাল পাড়ল— তার বক্তব্য হচ্ছে ভালবাসা মানেই ভুলের ভাষা।
     ভালবাসার সঙ্গে ভুলের সম্পর্ক নিবিড়। বা বলা যেতে পারে বেশ ঘন। এমন কেউ এই পৃথিবীতে নেই, যে ভালবেসে ভুল করেনি বা ভুল করে ভালবাসেনি। অন্তত একথা ভাবেনি। যদিবা এমন কেউ জোটে যে মনে করে সে ভালবেসে ঠিক করেছে, তখন দেখা যায় বিশ্বশুদ্ধু লোক মনে করছে-কী ভুল। কী ভুল। অর্থাৎ ভুল ভালবাসার পিছু ছাড়েনা।
    আর যে জিনিসটার গোড়াতে ভুল, শেষেও ভুল তার ভাষাও যে ভুলভাল হবে সেকথা বলাই বাহূল্য। খুব ছোট থেকেই সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান হয়েছে আমার, হয়ত সবারই হয়। তখন আমি ক্লাস নাইন। সবে শাড়ি পরে ইস্কুল যাচ্ছি। নিজেকে খামোখাই বেশ সুন্দরী লাগছে। মা সর্বদাই রাগী রাগী চোখে দেখছে আমার দিকে। তাও তো আমাদের সময়ে ফেসবুক ছিলনা, মোবাইল ছিলনা। তবু হাত ঢেকে কিছু লিখলেই বাড়ি শুদ্ধু সবাই উঁকি দিচ্ছে। সেইরকম আপতকালীন সময়ে আমার ক্লাস থ্রি তে পড়া বোন হঠাত মা কে খেতে বসে জিজ্ঞেস করল—মা, লাইন মারা মানে কী? মা এর হাতা ধরা হাত থমকে গেল। আমার ঠাম্মা বসে জপ করছিলেন। জপতপ থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। মা গম্ভীর হয়ে বোনকে জিজ্ঞাসা করলেন—এই কথাটা তুমি কোত্থেকে শিখলে ? বোন বলল—বলইনা তুমি। আমাকে দেখে রাকেশদা বলছিল,– লাইন মারা মানে জানিস? মা চোখ দুটো কটমট করে বলেন—লাইন মারা মানে ইলেকট্রিকের লাইন সারানো। আমাদের বসার ঘরের বাল্বটা কেটে গেছে, সেদিন ওরা দেখেছে। তাই বলছিল। কিন্তু বোনের উত্তরটা মনের মত হোলোনা। বেশ পাকাবুড়ির মত বলল—তাহলে কেন বলল যে তোর দিদির সঙ্গে লাইন মারব? ওর কি বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে মা?

    এই পর্যন্ত পড়ে সবাই বুঝেছেন যে সেদিন সত্যিই আমার বাল্ব কেটে গেছিল। মা ইস্কুল যাবার সময় টেঁপিদিকে পাহারা বসালো।

    তিন 

    এই অব্দি ভূমিকা শুনেই  থামিয়ে দিতে হল। তাড়াতাড়ি টপিক চেঞ্জ করে ফোন রেখে দিলাম। রুমিদির প্রেমের ইতিহাস ভূগোল এক ফোনে শেষ হবেনা। ভাবতে লাগলাম, কার সঙ্গে টপিকটা নিয়ে ভাটানো যায়।  পাশের ঘরে দেওর সারাদিন অনলাইন হয়ে কাজ করে। ওকে এব্যাপারে কিছু ফান্ডা দেওয়া উচিত। দুটো প্রেম কেঁচে যাবার পর কাজে মন দিয়েছে বেচারা। ওঁর এই প্রেমহীন জীবন আমার সহ্য হয়না। দেখি কানে মেশিন গুঁজে তিনি কার সঙ্গে প্রেমালাপ করতে করতে কাজ করছেন। প্রচুর আশা নিয়ে তার ঘরে ঢুকলাম। ও বাবা, প্রেম নয়। ইংরেজিতে কাজের ডেডলাইন নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে!! তাও অপেক্ষা করলাম। কথা শেষ হতেই ঝাঁপিয়ে বললাম— দীপু, তুমি কারোর প্রেমে পড়লে কী ভাষায় তাকে প্রকাশ করবে?
    —- এই মেরেছে, তুমি পড়েছো?? দাদার কি হবে গো !!
    —- ধুত্তোরি, তুমি আর তোমার দাদা আমাকে তো ওই ভাবো, সারাদিন আমি প্রেম নিয়েই থাকি
    —- থাকোনা??? ব্যাটা মুচকি মুচকি হাসি দিতে শিখেছে দাদার মত। এর হবে!! অনেকদূর ভবিষ্যত!!
    আমি এর সঙ্গে ভাটালেই ডুববো। তাই গম্ভীর হয়ে বললাম—ওসব ইয়ার্কি ছাড়ো। সোজাসুজি বল—তুমি তোমার প্রেমিকাকে এবং অন্যদেরও কিকরে বোঝাবে যে তাকে তুমি ভালবাসো?? শুনেছ তো মেট্রোতে কিসব হয়েছে, দুটো ছেলেমেয়ে ভালবাসছিল, লোকেরা ধরে কে,…পিটিয়েছে।
    —-দেওর হাহা করে খানিক হেসে বলল—আরে এসব আগেও ছিল। একবার আমাদের এক ন্যাকা বন্ধু তার সদ্য হওয়া বান্ধবীকে নিয়ে ভিক্টোরিয়া ঘুরে ফিরে রাত করে শিয়ালদা থেকে ট্রেনে উঠেছে গড়িয়া যাবে। কামরা ফাঁকা। কয়েকটা ছেলে শুধু বসে মস্তান গোছের। সঙ্গে মেয়ে দেখে ওকে জিগ্যেস করেছে—কে?? বন্ধুটা ঢোক গিলে টিলে সাহস নিয়ে জোর গলায় বলেছে—আমার ভালবাসার মানুষ। ব্যস। জোর একটা থাপ্পড়। একটা মস্তান রেগে আগুন হয়ে বলছে—অনেকক্ষ্ণ থেকে তোর ন্যাকামি দেখছি। এরপর এসব ভালবাসার মানুষ ফানুষ শুনলে আর আস্ত রাখবনা।
    সে ছেলে তো পরদিন অব্দি বুঝতে পারেনি ভুলটা কী সে বলেছিল!!
    আমাদের হাসি ঠাট্টায় দেখি আমার শাশুড়ি ও গুটিসুটি এসে বসেছে। তিনি আগে সারাদিন টিভি পাবলিক ছিলেন, এখন ফেসবুক পাবলিক। যদিও এনাকে ফেসবুকের ভুয়ো ব্যাপার স্যাপার বোঝাতে ঝাড়া একবছর লেগেছে আমার। টেকনোলজি বুঝে যাচ্ছে ঠিক, কিন্তু গালগল্পগুলো বুঝছেনা। মেট্রোর ঘটনা নিয়ে আমার মতই চিন্তিত। তাই বিনা ভূমিকাতে বলতে থাকলেন—আমাদের সময়ে ছিল সব উলটো। তোর বাবা আমার থেকে সাত হাত এগিয়ে হাঁটত। পাশে হাঁটতে তার নাকি লজ্জা করত। আমার ও সেটাই অব্যেস হয়ে গেছিল। পাশে হাঁটলে আমিই পিছিয়ে যেতাম।
    — কোনোদিন তোমরা পাবলিক প্লেসে একসঙ্গে হাঁটোনি অব্দি? বেড়াতে টেড়াতে গেলে?
    আমিও এবার অবাক। শাশুড়িমা মিটি মিটি হেসে বলে—সে একবারই চেষ্টা করেছিলাম। বিয়ের পর এসে থেকে দেখি  তিনি তো সারাদিন ব্যস্ত। তা আমার বোনেরা সব খুব রাগাত—দিভাই, জামাইবাবু তোকে কোথাও নিয়ে ঘোরায়না। সে কি রে!! অমুকদিদি এখানে গেছিল, তমুকদিদিরা এই ঘুরলো। শেষে আমি তোমার শ্বশুরের কাছে কাঁদলাম। আমাকে কোথাও ঘোরায়না বলে। তা তিনি দুম করে বললেন—ঠিক আছে, কাল আমি তোমাকে নিয়ে হেদোর পার্কে যাব। হল??
    পার্ক? তাইই সই। সক্কাল থেকে উঠে বাড়ির বড়দের পারমিশান নিয়ে রাখলাম। তাড়াতড়ি খেয়ে সিল্কের শাড়ি পরে দুপুর রোদে তার সঙ্গে বেরোলাম। দেখি কি তাড়া। ভাবলাম, মনে মনে নিশ্চয়ই সিনেমা দেখার প্ল্যান আছে। তাই এত তাড়া। যাই হোক বাস থেকে নেমে ওরকম সাত হাত পিছিয়ে হেঁটে পার্কে গেলাম। আমাকে একটা বেঞ্চে বসিয়ে দেখি নিজে পায়চারি করছে আর ঘড়ি দেখছে। বুঝতেই পারছিনা কেসটা কী। ভাবছি পাশে বসতে লজ্জা পাচ্ছে। কিন্তু খানিক পরে মনে সন্দেহ হল। তারপর না থাকতে পেরে বললাম—কী হল? দেখি এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে বলছে—উকিলবাবু আসার কথা। বল—তিনটের মধ্যে আসবে। এতগুলো সই করার আছে !!!
    আমাদের হাসির মধ্যেই শাশুড়িমা হাসতে হাসতে বলল—ভ্যাঁ করে কেঁদে দিয়েছিলাম সেদিন। পরে অবশ্য ফিসফ্রাই খাইয়েছিল। উকিলবাবু চলে যাওয়ার পর।
    তাই তো বলি, আজকালকার ছেলেমেয়েরা একটু ভাব ভালবাসা করলে ক্ষতি কী। আমাদের সময়ে ছিলনা বলে এখনো থাকবেনা ?
    আমার ছেলে দেখি আমাদের আড্ডায় এসে বলছে,– মা, পিডিএ কী ?
    আমি তার গালে একটা হামি দিয়ে বলি—এটা পিডিএ। পাবলিক ডিসপ্লে অফ এফেকশন। সে লজ্জা পেয়ে ঠাকুমার সঙ্গে বেরিয়ে গেলে আমার দেওর উদাস হয়ে বলল— শালা, বিপ্লব করার জন্যও তো প্রেমিকা চাই। আমিও সব্বাইকে বোঝাতে পারতাম পিডিএ কত ভালো। আমার কাছে পিডিএ মানে প্রেম দে আল্লা। আল্লা দিলে আমি ও পিডিএ করবো।

    Spread the love