ওপার বাংলার কবিতায় জুয়েল মাজহার

    0
    11
    Spread the love

    মানুষের উপাখ্যান  

    ১.

    তোমার উদ্দেশে আমি বহুস্তর বুলাভা মিসাইল
    স্বপ্নে নয়, ঘুমে পাঠালাম
    অন্তরীক্ষে বায়ুসেনা
    শত্রুতার মোহে কতো র‌্যাপ্টর-সুখোই বিমান

    ২.

    মানুষ নিজের কাছে হয়ে যায় পর!
    আস্তিনে ছুরিকা নিয়ে। মর্মমূলে আত্মঘাত নিয়ে।

    ৩.

    মানুষেরা আপন খুলিতে আজ যাচ্ঞা করে লোহুর শরাব;
    নিজেই নিজের লেজ গিলে খায় আত্মগর্বী সাপ;
    শরীর পেঁচিয়ে মরে। শরীর পেঁচিয়ে শুধু মারে;

    ৪.

    মানুষের চিন্তা, প্রেম, স্নেহ ও ঘৃণার মর্মে
    ওত পেতে থাকে বুমেরাং ;
    দূষণমেঘের নিচে অবিশ্রাম কার্বনে কার্বনে
    মেদুসার-মনসার-হাইড্রার সকুণ্ডল নড়ে ওঠে সাপ

    ৫.

    লিথিজলে রাত্রি নামে। বিস্মরণ! তরী যায় ডুবে!

    ৬.

    মানুষ চাইছে শুধু জতুগৃহ, যুদ্ধ, হ্রেষা, রক্তহোলি, খুলি আর জয়।
    —-মধুমেহরোগীগণ যে নিয়মে ইনসুলিন চায়;
    হালাকু-চেঙ্গিস আজও ঘরে ঘরে কাটামুণ্ডু
    ঘরে ঘরে ঈর্ষা-মদ উপহার হিসেবে পাঠায়;
    সোনার থালায় ভরে, রুপার থালায় ভরে প্রেমের মোড়কে
    চুম্বনের ছদ্মবেশে মানুষেরা মানুষীকে পাঠায় ছোবল

    ৭.

    মহাশয়গণ শুধু শংসা চায়, দর্প চায়
    করতল লাল করে কুরুক্ষেত্রে দামামা বাজায়;

    ৮.

    মুর্খ ও গরিব লোক সামান্য তণ্ডুল পেতে
    করতালি দ্যায় কিংবা বাধ্য হয় দিতে;
    মূর্খ ও গরিব লোক আজীবন মুগ্ধ থাকে রঙিন ফানুসে

    ৯.

    ভয়ে কাঁপে বসুমতি। মনুষ্য-প্রেতের লোল জিভ;
    গর্জে ওঠে ধর্মাধর্ম, শকুনির হাসি আর হিংসার কামান
    মানুষের খিড়কিপথে মানুষ পাঠাতে থাকে সংখ্যাহীন রণ-বায়ুযান
    নখ-দন্ত-ভল্ল-তূণে মৃত্যুগামী মনুষ্যউত্থান

    ১০.

    কৃমিভরা পেট নিয়ে দরিদ্র লোকেরা সব নিরুপায় ক্রোধে
    মনুষ্যজাতির মুখে করে চলে অনন্ত পেচ্ছাপ

    Spread the love