আমাজনের আগুন কি ‘ম্যানমেড’!

    0
    18
    Spread the love

    আমাজন জঙ্গল, দক্ষিণ আমেরিকা। প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত হয়। জঙ্গলটি পৃথিবীর সবচেয়ে আর্দ্র জায়গাগুলোর একটি। কিন্তু, শুধু মাত্র ২০১৯এই আমাজন জঙ্গলের ব্রাজিল অংশে ৭৪,১৫৫ টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আর্দ্র এ জঙ্গলের এত বেশি পরিমান আগুনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে কেন? এটা কি দাবানল? একটি রেইন ফরেস্টে এত বেশি দাবানলের আগুনের ঘটনা মোটেও যুক্তি সংগত নয়। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাজন অঞ্চল শুকনো থাকে। এই সময় গুলোতে আগুন লাগার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে, এবছর আগুনের ঘটনা নজিরবিহীন। বর্তমানে ২৫০০ এরও বেশি স্থানে আগুন জ্বলছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আমাজন জঙ্গলে আগুন লাগার তিনটি কারন চিহ্নিত করেছেন-
    প্রথম কারণ- বন উজাড়। ঘর বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মানের উদ্দেশ্যে মানুষ গাছপালা কেটে বন উজাড় করছে। কেটে ফেলা গাছ নিশ্চিহ্ন করার সবচেয়ে ভাল কৌশল কিছু দিন রোদে শুকিয়ে গাছ গুলোকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা! আর সেই আগুনই ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের জঙ্গলে।

    দ্বিতীয় কারণ- কৃষি উৎপাদন। কৃষি জমি ও গবাদি পশুর চারনভূমি তৈরি করতে জঙ্গলে সরাসরি আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে মানুষ। ডব্লিউ ডব্লিঊ এফ এর মতে বন উজাড়ের যে সকল ক্ষেত্রে যন্ত্র ব্যর্থ, সেখানেই লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন।

    তৃতীয় কারণ- খরা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন জলবায়ু পরিবর্তন খরার তীব্রতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। খরা রীতিমত একটি দুষ্টচক্র তৈরী করেছে। জলের সল্পতায় জঙ্গলের গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। শুকনো গাছে আগুন লেগে আরও বৃক্ষ নিধন ঘটছে। ফলে বাড়ছে খরার তীব্রতাও। তিনটি কারনে সম্মিলিত ফায়ার-প্রুফ রেইন ফরেস্টকে আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত করেছে। ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো জানুয়ারী থেকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাজনে আগুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ব্যবধানে আগুনের ঘটনা ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রাজিলের বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জঙ্গল উজাড় করতে উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে এন জি ও গুলো। বলসোনারো উল্টে এন জি ও গুলোকেই দায়ী করেছেন। আমাজন পৃথিবীর ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করে, এবং এক চতুর্থাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষন করে। আমাজন জঙ্গলের প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র ব্রাজিল বা দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোর জন্য নয়। আমাজন জঙ্গল বিনাশ হলে বিশ্ব উষ্ণায়ণ সমস্যা চিরতরে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে। শিল্পোন্নত দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে কার্বন নির্গমনেও। বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহের বিনিময়ে উন্নত দেশগুলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে কতটা বানিজ্যিক কৃষির জন্য বন উজাড় করা মানুষদের ভাগ্যেন্নয়নে পাশে দাঁড়িয়েছে কি বিলাশ বহুল দেশগুলো? আমাজন জঙ্গলে আগুন লেগে বনাঞ্চল হ্রাস ও উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আমাজন জঙ্গলে যা ঘটানো হচ্ছে তা অত্যন্ত বর্বর ও নিষ্ঠুর। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য যারা দায়ী, দায়বদ্ধতাও তাদের সবচেয়ে বেশি নয় কী? বৈশ্বিক উষ্ণতা একটি কৌতুক এটি একটি পয়সা কামানোর ব্যবসা।


    Spread the love