অমিতাভ দাসের অণু-বীক্ষণ

0
9
অমিতাভ দাস । কবি , গল্পকার ও প্রাবন্ধিক । অবগুণ্ঠন সাহিত্য পত্রের সম্পাদক । প্রকাশিত বই ২৪টি । সদ্য প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ " বিষাদ-সুন্দরী ও লালপদ্ম " । পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মান ।
Spread the love

বাঘা

সরকারদের বিশাল পুকুরটা ভরাট হচ্ছে । কী একটা কারখানা হবে । সমস্যা হয়েছে শিয়ালগুলোর । বাঁশবাগান আর পুকুরের আশেপাশে গর্ত করে নিশ্চিন্তে থাকত । ওরা আশ্রয় -চ্যুত হয়ে ভারী সমস্যায় পড়েছে । ঘন্টুদের ছোট্ট বাগানখানাই যা ভরসা । নাগরিক জীবনের আগ্রাসী খিদে এইসব ছোট ছোট গ্রামের দিকেও ধেয়ে আসছে ।
সেদিন পেপারে খবরটা পড়ে চমকে উঠেছিলেন লাইব্রেরিয়ান রতনবাবু । তাঁদের গ্রামের একটা ঘটনা– নদীর ওই দিকটায় । একটা বাচ্চাকে শিয়ালরা নাকি ছিঁড়ে খেয়েছে । শোকে পাথর হয়ে ওই বাচ্চার মা-বাবা আত্মহত্যাও করেছে ।কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে পথে-ঘাটে খুব শেয়ালের উৎপাত ।
 মিনি উঠোনে মাদুর পেতে ছবি আঁকছিল । ও এখন ক্লাস ফাইভ । পাশে শুয়ে আছে বাঘা । সে মিনির ঠিক পোষা না হলেও ন্যাওটা বলা চলে । মিনি গত পাঁচ-ছয়মাস ধরে খেতে-টেতে দেয় । আবার নামটাও দিয়েছে বাঘা । বাঘের মতো সাহস কি না , তাই বলে মিনি । রাতে ও পাড়াতেই থাকে এদিক-ওদিক ।
খবরটা শুনে মিনির খুব ভয় হল । কারণ ও তো সন্ধ্যাবেলা নুপূরদির কাছ থেকে পড়ে একাই ফেরে । একটু খানি রাস্তা , তবু । দিদিমণি একটু এগিয়েও দেয় । রতনবাবু বললেন , মিনি কাল থেকে একা আর আসবে না । আমি বা তোমার মা গিয়ে নিয়ে আসব । নুপূরদির বাড়িতেই বসে থাকবে ।শিয়াল কিন্তু ভীষণ ধূর্ত– প্রথমেই শিকারীকে ঘায়েল করে গলার টুটি কামড়ে দিয়ে ।তাই খুব সাবধান ।
আজ অনেক ক্ষণ পড়া হয়ে গেছে । নুপূরদি বড়দের পড়াচ্ছে । মিনি দেখলে মা-বাবা কেউ আসছে না । দিদিমণিকে কিছু না বলেই সে বাড়ির পথ ধরল । কিছুটা এগোনোর পর দেখল রাস্তার পোস্টে আজ আলো নেই । ঘোলাটে অন্ধকার । আর দু-মিনিট হাঁটলেই তো বাড়ি । এমন সময় বাঘা থাকলে ভালো হত । কেউ তো সঙ্গে থাকত ।হঠাৎ দেখল পথের ওপর দুটো চোখ জ্বলজ্বল করছে— ভয় পেল মিনি । এক পা, দু পা করে পেছনে হাঁটতে থাকল । হঠাৎ ঝুপ করে কী যেন ঝাপিয়ে পড়ল ঘোলাটে অন্ধকারের ভিতর । দুটো জন্তুর জান্তব আওয়াজ ।ধস্তাধ্বস্তি । সঙ্গে মিনির চিৎকার ।ছুটে এলো লোকজন । অন্ধকারে টর্চ ফেলে দেখল একটা আধ মরা রক্তাক্ত শিয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাঘা— জুলজুলে চোখে জয়ের আনন্দ প্রকাশ করছে লেজ নেড়ে ।

Spread the love