জয়ন্ত সিনহার ছোটগল্প

    0
    15
    Spread the love

    পাতাল জীবন

    পেটটা ঢিস হয়ে আছে বাঞ্চোদ ঘন্টার। ঝেড়ে হাগলে একটু আরাম পাওয়া যেতো। কাল রাত্রের চাটটাতেই গন্ডগোলটা হয়েছে। মুখুজ্জি বাড়ির কচি ছেলেটার দিন চারেকের বাসি লাশটা টাঁড় জমিটা থেকে তুলে আনতে গিয়েই গেঁড়া আর সামলাতে পারলোনা। বাঞ্চোদ ঘন্টা পই পই করে সাবধান করেছিল গেঁড়াকে – আর শ’দুয়েক খা না বাল। নেশাটা আরেকটু না উঠলে মানুষ পচার গন্ধ সইবি কিকরে? বিকেলে একবার লাশটা দেখতে গিয়েছিল বাঞ্চোদ। ঐ অত নেশার কংক্রিট ভেদ করে শিউরে উঠেছিল সে। কি ভয়ঙ্কর মার্ডার! সে আর গেঁড়া কম লাশ দেখেনি জীবনে। গলার লুলি কাটা চারমাসের বাচ্চার লাশ থেকে নির্জন ঘরের কুয়োয় পড়ে মাথায় চোট পেয়ে দশদিন ধরে একটু একটু করে মৃত্যুর কাছে পৌছে যাওয়া পঞ্চাশোর্ধ গৃহবধূর বডি – কোন মৃত্যুই যেন এই মুখুজ্জি ছোঁড়াটার মতো ছিলনা। লম্বা পুরুষাঙ্গটা লম্বালম্বি বাঁশ চেরার মতো চিরে দিয়েছে খালি। সারা শরীর অক্ষত।  হাত দুটো পেছন দিকে বাঁধা। দুটো হাঁটুর মাঝখানে একটি শক্ত লাঠি টাইট করে বেঁধে রেখেছে পা দু’টোকে প্রয়োজন মতো ফাঁক করে। গায়ে নীল টিশার্ট। প্যান্ট তো নেই ই। জাঙ্গিয়াও নেই। শুধু রক্তপাতে মরে গেছে ছেলেটা। তারপর হয়তো মৃত্যু নিশ্চিত করতেই মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে দশ মাইক্রনের সরু ফিনফিনে স্বচ্ছ প্লাস্টিক। গত পরশুর বৃষ্টিটার পর গতকালকের কটকটে রোদে লাশটা যেন ফুলে গেছে তিনগুন। পেট আর জাঙের বেশ কিছু জায়গা ফেটে গেছে। কালো, হলুদ, ধূসর -, সব রঙবেরঙের পোকারা মহোল্লাসে ভুরিভোজ সারছে। ডান পায়ের পাতাটাতে শেয়াল- কুকুরের স্পষ্ট দাঁতের দাগ। বিকেলে সেই দৃশ্য দেখে আর গা গোলানো পচা গন্ধটা পেয়েই বাঞ্চোদ ঘন্টা সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। রাত্রে পুলিশের সামনে লাশটাকে ভ্যানে ওঠানোর আগে তাই শ চারেক কেরো মেরে আর আরো একটা সিক্সটির বোতল আর ভেজা ছোলা নিয়ে সে গেঁড়াকে সাথে করে চলে এসেছিল নির্জন  টাঁড়টায়। লাশটার থেকে একটু তফাতে বোতল আর ছোলা ভেজার ঠোঁঙাটা নামিয়ে রেখেছিল অন্ধকারে। নামাতে গিয়েই পায়ে নরম কাদার মতো কি যেন একটা লাগলো। বান্ডিল থেকে একটা বিড়ি বের করে ধরাতেই বাঞ্চোদ বুঝতে পারলো টাঁড়টায় লোকজনের যাতায়াত আছে। একদম গদগদে বিভিন্ন মাপের ল্যাড় পড়ে আছে যত্রতত্র। তারই একটাকে পা দিয়ে মাড়িয়েছে সে। সে যখন গুয়ের গাদালে মদ আর ছোলা রাখতে ব্যস্ত ততক্ষণে গেঁড়া আধমাপের নেশা নিয়েই লাশটার কাছে হাজির। তারপর যা হবার ছিল তাই – বমি। হড়হড় করে। আর করবি কর চাটটার ওপর? …

               বমি যেন থামতেই চায়না গেঁড়ার। মনে হয় সারাজীবনের যত বাংলা, যত কেরো, যত সিক্সটি, যত চটপটি, যত পাঁঠার কুষি, যত পোড়া ইঁদুর সব বেরিয়ে আসবে আজ। আর টাল সামলাতে পারছেনা গেঁড়া। ধপ করে মুখটা গুঁজে শুয়ে পড়লো বমির ওপর। সন্ধ্যের বাদাম গুলো তক উঠে এসেছে বমিতে। দেশলাই জ্বালিয়ে ঘন্টা যেই নেভা বিড়িটাকে ধরাতে যাবে তখনই এখ ঝলক নজর পড়লো তার। কালচে রঙ পুরো- রক্ত বমি কিনা কে জানে? ভাতের গোটা গোটা দানা আর বাদাম গুলো উঠে আছে মুখ তুলে। মাথার সামনের চুলগুলো তক বমিতে ভিজে গেছে। গু পা টা দিয়ে ঘন্টা ওর কাঁধটা ঠেলে ঠেলে চিৎ করে দেয়। চোখ না খুলেই নেশা জড়ানো গলায় গেঁড়া কঁকিয়ে বলে ওঠে- আরো মদ দে বাঞ্চোদ। আস্তে আস্তে উঠে বসে ডান হাত দিয়ে চুলে লেগে থাকা বমিটাকে একটু ঝেড়ে নেয়। বাঁ হাতটা তুলতে গিয়েই বলে ওঠে- এ বাঞ্চোদ হাতে মাখনটার মতো এটা কি রে ক্যালা? ঘন্টা দেশলাইটা আরেকবার জ্বালিয়ে বলে- হাগা। পেয়ারার বিচে ভর্তি হাল্কা আম মেশানো ফ্যাকাশে হলুদ গুয়ে হাত পড়েছিল গেঁড়ার । বাঁ হাতটা মাটিতে ঘষে ঘষে গু পরিস্কার করতে করতে – এই  হারামির বাচ্চারা কোথাও আর হাগতে বাকি রাখবেনা। তুই যদি চাঁদেও মদ খেতে যাস বাঞ্চোদ এই শুয়োরের বাচ্চা মানুষের হাগা মাড়াবিই। লে ঢাল।

    – লে ঢাল ! বাল আমার, বমি করে তো চাটটার গাঁড় মেরে দিয়েছিস। দেখি আস্তে আস্তে ঠোঙাটা খুলে কটা দানা বেঁচেছে। এই নে শালা। লে খা।

          দু’টো প্লাস্টিকের গ্লাসে মদ ঢেলে একটা গেঁড়াকে এগিয়ে দিয়ে আরেকটাতে চুমুক দিয়েই সপসপে ভেজা ঠোঙাটা থেকে দুটো ছোলার দানা মুখে ছুঁড়ে ঘন্টা। পরক্ষণেই মুখ বিকৃত করে ‘থুঃ’ করে মুখেরটা ফেলে বলে ওঠে- শালা বাদাম বাল।

    গেঁড়ার মুখে একটা শয়তানি হাসি খেলে ওঠে।

               সিভিক পুলিশ দু’টো হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে- এই কুত্তার বাচ্চারা , জলদি হাত চালা। নইলে এই রুলটা দু’জনের গাঁড়ে ঢুকিয়ে পোঁদে পোঁদে সেট করে দোবো। তাড়া খেয়ে বাঞ্চোদ ঘন্টা আর গেঁড়া লাশটাকে ভ্যানের ওপর দড়াম করে ফেলে দেয়। ভ্যান‌ওয়ালাও নেশায় টং হয়ে ছিল – এই শালারা আমার ভ্যানটাকে কি মাগের পেটি পেয়েছিস? আস্তে চাপা। ভ্যান‌ওয়ালার কথাকে পাত্তা না দিয়ে গেঁড়া আবার হারামিগিরি করতে থাকে- “বাঞ্চোদ, যদি মুখুজ্জির পোয়ের ঠোঁটটা একবার আচ্ছাটি করে চুষে দিতে পারিস কাল রাত্রে চাঁপী তোর।” কোন কথা না বাড়িয়ে ঘন্টা ভ্যানের ওপর শোয়ানো কচি ছেলেটার মুখের দিকে হামলে পড়ে। এবং সাথেই আবিষ্কার করে এদিকটায় মাথা থাকার কথা নয়। সেই মুহূর্তে গেঁড়ার হাতে জ্বলে ওঠে একটা দেশলাই কাঠি। হারামির হাড় গেঁড়া খ্যাঁক খ্যাঁক করে জড়ানো গলায় বলে -” মুখ সরা বাল, ওটা লাশের যন্ত্র। যতই চোষ এ মাল আর খাড়া হবার নয়।” তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে জোরালো একটা লাথি চালায় গেঁড়ার পাছায়। গেঁড়া ছিটকে গিয়ে পড়ে ভ্যানটার ওপর আর সপ্তমে চড়ে যাওয়া নেশা আর উল্লাসে রাত্রির নির্জনতাকে খানখান করে বলে ওঠে -” চাঁপী আমার।”

    দেশলাইটা জ্বালাতেই বাঞ্চোদ ঘন্টা বিস্ফারিত চোখে দেখতে পায় শয়তানটা চুক চুক করে চুষে চলেছে পচা , দুর্গন্ধ ছড়ানো, পোকাভর্তি লাশটার ঠোঁটদুটো।

              এই শালা কুত্তার বাচ্চা। ভাগ এখান থেকে।- সিভিকরা দু’শো টাকা ঘন্টার হাতে গুঁজে দিয়ে ভ্যান‌ওয়ালাকে হুকুম করে – চল। ভ্যানয়ালা মুখুজ্জির পো কে নিয়ে মর্গের দিকে রওনা দেয়।

                  ঝেড়ে হাগতে পারলে শরীরটা চনমনে হতো ঘন্টার। সূর্য অনেক্ষণ ঢুবে গেছে। এক্ষুণি গেঁড়া আসবে। চাঁপীকে আজ সারপ্রাইজ দেবার প্ল্যান আছে দু’জনের।। একসাথে দু’জনেই হাজির হবে আজ। তাহলে ডাক্তারকে একবার দেখিয়ে নিলেই হয়। বিরাট গ্যাস হয়েছে পেটে। ভোর সন্ধ্যায় একবার যে পাদটা হলো তাতে তারই অন্নপ্রাশনের ভাত বেরিয়ে আসছিল। মালতী তো গন্ধে ঘরেই ঢুকতে চাইছিল না। ডাক্তার কে দেখিয়ে নেওয়াই বেটার। পাড়ার পঁচা ডাক্তারকে সবাই খুব সম্ভ্রম করে। তার সাথে ডাক্তারির সম্পর্ক হলো পঁচার মা “দুর্গা মেডিকেল” নামে যে ওষুধের দোকানটা আছে তার এক কর্মচারীর রাখনি। ঐ লোকটাকে পঁচা নিজের বাপের থেকেও বেশি মান্য করে‌ । একদিন তো মালের ঘোরে বলেই দিল – ন্যাপা কাকা আমার আপন বাপ হলে ল্যাওড়া আমি ঘরে অপারেশন থিয়েটার বানাতাম। কিভাবে যে নাম হয় কে জানে! পঁচা হয়ে গেছে ডাক্তার, ঘন্টা হয়ে গেছে বাঞ্চোদ। ঘন্টা সেবার বাঁধে মাছ চুরি করে হাতে নাতে ধরা পড়ার প‍র তার নাম হলো- বাঁধচোর। সেখান থেকে বাঞ্চোদ। অবশ্য এতে ঘন্টার আপত্তি নেই। সে বেশ গর্ব করেই বলে আমি কাকার বেটিটাকে কত দিয়েছি। বাঞ্চোদ তো আমি বটিই।

       ডাক্তার বললো একটা ডাইজিন খেয়ে চলে যা। সব ঠিক আছে। সময়মতো চলে এলো গেঁড়া।  তিনটে ক্যাপটেন দু’জন মিলে খেয়ে দুজনে একসাথে ঢুকলো চাঁপীর ঘরে। চাঁপীর বরটার প্যারালাইসিস হতে পারে কিন্তু মুখ তুখোড়। ঘন্টাকে ডাইরেক্ট বললো- তুই আমার সংসার ভাঙছিস বাঞ্চোদ, নিজের সংসারটাকেও সামলাতে পারবিনা। নেশায় চুর হয়ে যাওয়া ঘন্টা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে শুয়ে থাকা প্যারালাইসিস রুগিটার মুখে জোরে এক লাথ কষায়। দুটো দাঁত নড়ে যায় লোকটার আর মারাত্মক রক্তপাত। চাঁপী ছুটে এসে বলে- বাঞ্চোদ ওকে রেহাই দে ভাই। ওকে মারিসনা আর।

    – মাগীর দরদ একেবারে উৎলে পড়ছে। ভাত দেবার গতর নাই কিল মারার গোঁসাই। ল্যাওড়া আরেকটা কথা বললে মুখে বালিস চাপা দিয়ে মেরে ফেলবো খানকির ব্যাটাকে।

           চাঁপীর ব‍র চুপ করে যায়। রক্তটা ঝরতেই থাকে মুখ থেকে। বরং চাঁপী বলে উঠে- আজ দুজনে একসাথে কি ব্যাপার? গেঁড়া সাথে সাথেই বলে ঊঠে আমি আগে করবো। চাঁপীর প্যারালাইসিস বর ঠোঁটের রক্ত চেটে বলে- ভগবান,  দেখো। চাঁপী বলে – আগে পরের কিছু নেই। আমার শরীর খারাপ চলছে। হবেনা আজ। গেঁড়া সন্দেহের বসে কাপড় ওঠায়‌  চাঁপীর বর চোখ বন্ধ করে। গেঁড়া বলে – যাহ্ শালা। আজ তো পোঁদ মারা গেলো।  অনেকক্ষণ চুপ ছিল বাঞ্চোদ। ডান পা টা চাঁপীর শুয়ে থাকা বরের ঠোঁটে বোলাতে বোলাতে বলে- তোর সামনেই কি করি দ্যাখ  খোঁড়া। রক্ততে স্নান করবো আজ। গেঁড়ার বমির রোগ। সে ওয়াক করে বাইরে বেরিয়ে যায়।

    পরের দিন অনেক বেলায় সূর্য যখন যথেষ্ট চড়া হয়ে গেছে মালতির ফোঁপানোর শব্দে ঘুম ভাঙলো ঘন্টার।

    -এই মাগী, সাতসকালে মড়া কান্না জুড়েছিস কেন?

    ঘন্টার গলা পেয়ে মালতির ফোঁপানো বাঁধ ভাঙা খরস্রোতার মতো দু’কূল ছাপিয়ে দেয়। ঘন্টা বুঝতে পারে তার নেশা কেটে গেছে আর তাই পেটের মোচড়টা টের পাচ্ছে খুব। উঠে বসতে গিয়ে দেখে লুঙ্গিটার গিঁট খুলে গেছে । আর বিছানা জুড়ে ছড়িয়ে আছে পাতলা পায়খানা। ঘন্টার মাথা গরম হয়ে যায়। -সোহাগ হচ্ছে খানকির! একটু হাগলে কি তোর ভাতার পটল তুলবে? না মাগীর গুয়ে ভরা কাঁথাটা ধুতে হবে বলে শোক হচ্ছে?

     মালতি হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতেই মাথা নাড়ায়। বাঞ্চোদ ঘন্টা এবার নিজের পরিচিত ফর্মে ফেরে। সামনে বসে থাকা হাড় গিলগিলে বৌটার চুলের মুঠি ধরে নিজের দিকে টানতে টানতে বলে- আর যদি গলা পাই তো এই সব গু তোকে চাটিয়ে পরিস্কার করাবো। মালতি আঃ করে ছাড়িয়ে নিতে চায়। ঘন্টা সঠিক সময়ে ছেড়ে দেয় চুলের মুঠি। জাড্যতা এতই আবেগহীন, নিষ্ঠুর যে ঘন্টার এই মৃতপ্রায় ঘরনীটাকেও রেহাই দেয়না। সে পেছন দিকে উল্টে পড়ে একটা লোহা লক্কড়ের গাদায়। মাথার পেছনটা সজোরে আঘাত লাগে একটা লোহার রেলের সাথে। গলগল করে ব্লিডিং শুরু হয়। আর্তনাদ করে দু হাতে মাথা চেপে ধরে । ঘন্টা শাসিয়ে বলে- আর ন্যাকামো করতে হবেনা। ভাত দে। মালতির সারা শরীরে রক্ত‌। আস্তে আস্তে গোঁগাতে গোঁগাতে বলে- দুদিন ধরে চাল নেই। ভাত রাঁধবো কি দিয়ে?

            কথাটা শুনেই গায়ে আগুন ধরে যায় ঘন্টার। শালী খাঁচার টিয়াটার ছোলা কি করে পাস? ঘরে লোক ঢুকিয়ে?

    মালতি শুধু বলে – ছিঃ।

    – আবার ছিঃ? তেজ দেখানো হচ্ছে। দাঁড়া মাগী তোকে আর তোর পাখি দুটোকেই আজ দেখছি। লুঙ্গিটা টেনে পুরো খুলে দিয়ে আদুল গায়ে হনহন করে টালির মধুনের বাঁশটা থেকে খাঁচাটাকে নামিয়ে আনে ঘন্টা। খাঁচার ছোট্ট দরজাটা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পাখিটাকে মুঠোতে ধরে বের করে আনে।

    রক্ত তখনও বয়ে যাচ্ছে মালতির । শুধু মাথাটা একটু তুলে মৃদু স্বরে বলে – ওটাকে অত জোরে ধোরোনা। পাখিটা মরে যাবে। তারচেয়ে আ আমায় দাও। ওটাকে উড়িয়ে দি।

    ” আদিখ্যেতা হচ্ছে শালীর। দ্যাখ এটাকে কি করি। ছোলা খাওয়া বসে বসে। আর শালা আমার ভাত নেই! “

       – বলেই বাঞ্চোদ নিষ্ঠুর আক্রোশে পাখিটার সব পালকগুলো তুলতে থাকে। পাখিটা একটু ডানা ঝাপটায় ঠিকই। ঐ একটুই। মুখে একবার শুধু মানুষের স্বর নকল করে বলে- ভাত দে। সব পালক তুলে ঘন্টা পাখিটাকে পুরো ন্যাড়া করে দেয়। খালফোস করা মুরগির মতো পাখিটা পুট পুট করে চেয়ে থাকে,  মরেনা। মালতি কেঁদে চলে। তার আদরের মিকু শয়তান টার হাতে খুন হবে এক্ষুনি। অনেক দুঃখের মাঝে ঐ একটুকুই তো ভালোলাগা ছিল মালতির। মিকু প্রথম যেদিন কথা বলতে শিখে “ভাত দে” বলেছিল কি যে আনন্দ হয়েছিল মালতির তা বলে বোঝানোর নয়। মালতি হাত জোড় করে বলে – ক্ষমা করো। মিকুকে ছেড়ে দাও। ঘন্টা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলে- এই লে মাগী। আর সাথে সাথে পাখিটাকে মেঝেতে আছাড় মারে সজোরে। পাখিটা একবার “ক্যাঁ” শব্দ করে শুধু। তারপর উঠে গিয়ে পায়ে করে থেঁতলে থেঁতলে মেরে ফেলে মালতির মিকুকে। একটা দমকা বাতাসে টিয়াটার সবুজ পালকগুলো  ঘরময় উড়তে থাকে। আর মিকুর থেঁতলানো , নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসা দেহটা পড়ে থাকে মাথায় টানা ব্লিডিং হতে থাকা মালতির একেবারে সামনে। মালতি কান্না ভুলে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে মিকুর দিকে। কিন্তু সে আর নাচতে নাচতে “ভাত দে” বলেনা।

               মাথার পেছন থেকে সমানে রক্ত ঝরতে থাকা মালতি একহাতে মাথা চেপে মিকুর সবুজ পালক গুলো কুড়িয়ে কুড়িয়ে মেঝের একটা কোনায় জড়ো করে, যে কোনাটা বাঞ্চোদ ঘন্টার চুরির মালে ঠাসা।  রেলের পাতি, লোহার রড, ছাঁট, করগেট , ব্যাগ, সাইকেলের ব – কি নেই সেখানে? ঘন্টার আবার বেগ আসে । সে ছুটে লুঙ্গিটা জড়িয়ে নিতে গিয়েও “থু” করে মেঝেতেই ছুঁড়ে ফেলে দড়িতে টাঙানো একটা পুরানো রং ওঠা, তেলচিটে গামছা টেনে নেয়। মেঝেতে থুতু ছিটানোর সময় ঘন্টার সাথে মালতির এক মুহূর্তের জন্যে চোখাচোখি হয়ে যায়। মকর স্নানের সময় জ্বলতে থাকা শুকনো খেজুর পালার মতো মালতির চোখদুটো থেকে ঘন্টা দ্রুত চোখ সরিয়ে নিয়ে কুয়োতলার পাশের কাঁচা ড্রেনটার পাড়ে গিয়ে বসে।

        ভাঙা বাউন্ডারির টিনের দরজা ঠেলে ঢুকে ডানদিকের কলতলার দিকে তাকাতেই গেঁড়ার নজর পড়ে ভড়ভড়ে কাঁচা নর্দমাটার দিকে। পাছা ঝুলিয়ে বসে বাঞ্চোদ পুরপুর করে হেগেই যাচ্ছে।

    – কি, বে হাগাটা ধরেনি দেখছি। পঁচা ডাক্তারের কাছে যাবি না মাল খাবি?

    গেঁড়া হাতের প্লাস্টিকটার থেকে দুটো ক্যাপটেনের বোতল বার করে।

    – আরো দুটো আছে। ঝ্যাপ করে ধুয়ে চলে আয়।

    ঘন্টার ভালোবাসা বলতে মদ। সে পৃথিবীর একমাত্র এই জিনিসটাকেই হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। মদের মোহিনী আকর্ষণকে উপেক্ষা করা তার পক্ষে অসম্ভব। গেঁড়া ঘরে ঢুকে বোতল গুলো বের করতে করতে রক্তাক্ত মালতিকে দেখে। ঘন্টার জলছুঁচের ফাঁকেই মালতির কাছে সংক্ষেপে পুরো গল্পটা শুনে নেয়। যদিও মালতির নিত্যদিনের এই গল্পে মিকুর সবুজ পালকগুলো ছাড়া নতুন কিছুই নেই। একটা পুরানো কাপড় ছিঁড়ে মালতির মাথাটা ব্যান্ডেজের মতো বেঁধে দেয় গেঁড়া। ঘন্টার পায়ের শব্দ স্পষ্ট হতে শুরু করে। গেঁড়া গলার জোরটা যতটা সম্ভব বাড়িয়ে দেয়।

    – যা আর ঢং করতে হবেনা। চাল এনেছি। ভাত বসা। আর এই প্লাস্টিকের মাংসটা। কষা কষা করে জল্দি কর। একটু ঝাল দিবি। মালের চাটটা জম্পেস করে বানা, যা।

    ঘন্টা গামছাটা জড়িয়েই চলে এলো। মালতি রান্না ঘরে কেটে পড়লো। রক্তটা একটু ধরেছে বলেই মনে হচ্ছে। ঘন্টা পায়ে করে মেঝেতে পাতা বিছানাটা সরিয়ে দিয়ে চোকলা ছাড়া মেঝেটাতেই বসে পড়ে। গেঁড়া হাঁক পাড়ে- দু’টো গেলাস আর একটু জল দিয়ে যা এদিকে। রান্নাঘর থেকে মালতির আওয়াজ পাওয়া যায়- আমি পারবোনা। নিজেরা উঠে এসো। গেঁড়া ঘরটার থেকে বেরিয়ে ঘুপচি মতো ঝুল আর ভুষিকালি ঢাকা প্রায়ান্ধকার রান্নাঘর থেকে দুটো গেলাস আর একটা জলের জগ নিয়ে আসে। মাঝে মালতির সাথে ফিসফিস করে দুটো কথা বলাবলি করে। মালতির ফিসফিসানি এঘর থেকে শোনা যেতেই বাঞ্চোদ ঘন্টা গলা খাঁকরিয়ে ওঠে- কর মাগি, ভাতারের বদনাম কর। আমার গুষ্টির ষষ্ঠীপুজো না করলে তো তোর ভাত হজম হয়না। মালতি জবাব দেয়- ভাত হজম? চাল আনার মুরোদ আছে বিচীয়ালা মরদের?

    – মুখ ভেঙে দেবো মাগী। চিমসে গতরটাকে থাকতে দিয়েছি এই মাথায় হাত বোলা। আমি না থাকলে বেশ্যাবৃত্তি করতে হতোরে খানকি।

    গেঁড়া এতক্ষণ দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ছিল। বাঞ্চোদকে বললো

     – চুপ করনা ক্যালা। এই নে মদ খা। আর তুইও চুপ থাক শালী।

               ক্যাপ্টেনের বোতলটা থেকে মদ ঢালতে ঢালতে গেঁড়া ওয়াক করে ওঠে। ওর তো রোগই ওই। যাক সামলানো গেছে। গ্লাসটা কেঁপে যেতেই একটু মদ ছলকে নিচে পড়ে। হাতের বোতলটা নামিয়ে এক চুমুকে গ্লাসটা শেষ করে পকেট থেকে একটা চানাচুরের প্যাকেট বের করে। প্যাকেটটার একটা কোণ দাঁতে করে ছিঁড়ে মুখে একটু নিয়ে চিবোতে চিবোতেই বলে- ল্যাওড়া কোথাও বাকি রাখিসনি! সারা ঘরটায় হেগে রেখে দিয়েছিস? কফ-থুতু .. এটা কি রে বাল , মুরগি বাচ্চা? অ, তোর মাগের টিয়াটা? পালকগুলো সব তুলেদিয়েছিস? আর এই এটা? পায়ে করে লুঙ্গিটা তুলতেই গেঁড়ার নজর পড়ে হালকা রঙের লুঙ্গিটা রক্তের বাসি দাগে ভরা।

    – মাগের মাথা ফাটিয়ে পোঁদের লুঙ্গি দিয়ে রক্ত মুছেচো গুরু? খ্যা, খ্যা, খ্যা। পিরীত যে উথলে উঠছে বে।

    ঘন্টার দু’ গ্লাস কমপ্লিট ততক্ষণে। মেজাজটা গরমই ছিল । গেঁড়ার মস্করায় সেটা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। – না রে বাল ঐ চিমসে মাগীটার আবার রক্ত ! ওর হাড়ে কাঁকালে পুঁজে ভর্তি।ওটা চাঁপীর মাসিকের …

    গেঁড়া আর পারলোনা । মেঝেতে যেটুকু ফাঁকা জায়গা ছিল সেটাও ভরিয়ে দিল বমিতে। এদিকে ঘন্টার স্বর তখন সপ্তমে।

    -মাগি আবার লাল চোখ দেখাচ্ছে। পেটে বোতল ভেঙে ঢুকিয়ে দেবো। একটু সামলে মুখে একটু জল নিয়ে কুলকুচি করে মুখের জল সরু করে ঐ লোহা লক্কড়ের দিকে ছিটিয়ে দেয়। তারপর আবার আরেকরাউন্ড শুরু করে। বাঞ্চোদ ঘন্টার তখন ছ’ গ্লাস চলছে। দ্রুত গ্লাসটা শেষ করেই টলতে টলতে ঝটিতে উঠে যায় ঘন্টা

    -আজ শালীকে মেরেই ফেলবো। আমাকে চোখ দেখানো? এতো সাহস শালীর? এই তল্লাটে বাঞ্চোদ ঘন্টাকে গরম দেখানোর কোন ব্যাটার সাহস নেই জানিস মাগী? পাখি সোহাগি, চল তোকে আজ তোর পাখির ঘাটেই তুলে দিয়ে আসি।

                  টলতে ঠলতে বাঞ্চোদ রান্নাঘরে ঢুকে মালতিকে চুলের মুঠি ধরে এঘরে টানতে টানতে নিয়ে আসে।

    -গরম? শালী আমাকে গরম দেখানো?

    একহাতে চুলের মুঠি ধরে অন্যহাতে এলোপাতাড়ি ঘুঁষি মারতে থাকে মালতির মুখে। মালতি ছিটকে পড়ে মেঝেতে। পরণের কাপড় আলগা হয়ে যায়। মেঝেতে শুয়েই হাতজোড় করে মালতি- আমাকে আর মেরোনা। আর পারছিনা আমি। ঘন্টার দিগ্বিদিক তখন জ্ঞানশূন্য।

    – শালিকে আজ ল্যাংটো করে মারবো। টেনে কাপড় খুলে দেয়। সায়া টান মারতেই সরকা ছিঁড়ে যায়। সেপ্টিপিন আটকানো ব্লাউজ পড়পড় করে ছিঁড়ে দেয় । একটা সেপ্টিপিন গেঁথে যায় মিলতির ডান স্তনে। মালতি আর্তনাদ করে কাঁদতে থাকে। গেঁড়া গ্লাস হাতেই জড়ানো গলায় মৃদু ভাবে একবার বলে শুধু- ছাড় না বাল। এসব বাওয়াল না করে মদ খা ল্যাওড়া। ঘন্টার কোন দিকে হুঁশ নেই। মালতির দিকে ঝুঁকে কন্ঠনালী টিপে ধরে দাঁড় করাতে থাকে। মালতি ছটপট করতে থাকে। হাত পা এলোপাতাড়ি ছুঁড়ে চলে সে। মাথা ঝাঁকায় দমবন্ধ হয়ে যাবার ভয়ে। প্রচন্ড ধস্তাধস্তিতে চূড়ান্ত নেশাগ্রস্ত বাঞ্চোদ হঠাৎই পিছলে যায় গেঁড়ার বমিতে পা দিতেই। টাল সামলাতে না পেরে লোহা লক্কড়ের স্তূপের ওপর ছিটকে পড়ে। একটা ছুঁচালো রড এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় ঘন্টাকে। মুখ থেকে বেরিয়ে ওঠে- মা গো।

    গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে পেট থেকে। রডটা ঘন্টার পিঠ দিয়ে ঢুকে পেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে বীভৎস ভাবে। মালতি ঘন্টাকে দেখেই বাকরুদ্ধ হয়ে যায়।  টলতে টলতে এবার উঠে দাঁড়ায় গেঁড়া। বাঞ্চোদ ঘন্টার হাজার হাজার অপরাধের ছায়াসঙ্গী সে। শয়তানি হাসিটা মুখে ঝুলিয়ে ঘন্টার সামনে গিয়ে বলে- বাঞ্চোদ, তাহলে তোর খেল খতম। এলাকার ত্রাস বাঞ্চোদ ঘন্টা পেটে রড ঢুকিয়ে পড়ে আছে। আর একটু পরেই তার ভবলীলা সাঙ্গ। হো হো করে হেসে ওঠে গেঁড়া। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ঘন্টা আর্তস্বরে আকুতি করে- আমাকে বাঁচা গেঁড়া।

    – তোকে বাঁচাবো? শালা নর্দমার পোকা। এলাকার কোন মেয়ে-বৌকে তুই ছেড়েছিস শয়তান? আমার বিধবা দিদিটাকে তক আমার সামনেই…. ভুলে গেছিস? আজ থেকে তোর এই হাড় গিলিগিলে মাগটা আমার রাখনি হবে। উলঙ্গ মালতির দিকে ঘুরে চকচকে চোখে তাকিয়ে বলে- কি গো মালতি সোনা, আমার রাখনি হবে তো?

    স্তম্ভিত মালতি এতক্ষণে নিচে পড়ে থাকা কাপড়টাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। কাপড়টাকে পা দিয়ে চেপে ধরে গেঁড়া। সহসা পেন্ট খুলে মালতির উলঙ্গ শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে ফড়ে গেঁড়া। বিধ্বস্ত, ক্লান্ত, ক্ষতবিক্ষত মালতি গেঁড়াকে আটকাতে চায়। তার সব প্রতিরোধ ব্যর্থ করে গেঁড়া তার লকলকে পুরুষাঙ্গ ঢুকিয়ে দেয় মালতির গভীরে। আর্তনাদ করে ওঠে মালতি। সামনেই পড়ে আছে তার স্বামী। ঘন্টার দিকে জলভরা চোখে তাকায় সে। ঘন্টা একটু নড়েচড়ে উঠে, ক্ষীণ স্বরে বলে- গেঁড়া…

    গেঁড়া শুয়ে থাকা অবস্থায় একটা লাথ ছোঁড়ে ঘন্টার পেটে। রডটা আরেকটু বেরিয়ে পড়ে সামনের দিকে। ঘন্টার মুখ দিয়ে একবার শুধু “আঃ” শব্দ উঠে চোখদুটো বাইরে বেরিয়ে এসে স্থির হয়ে যায়। মালতি  কোনক্রমে গেঁড়াকে ঠেলে সরিয়ে দিতেই মরা পাখিটার জড়ো করা পালকের ওপর পড়ে। গেঁড়া সরু চোখ করে আবার মালতির দিকে তাকায়। মিকুর পালক উড়তে থাকে। অতর্কিতে একঝাঁক বাতাস এসে আরো ভালোকরে উড়িয়ে দেয় পালক। ঘরময় শুধু সবুজ পালক উড়ে চলে। মালতি একদৃষ্টে চেয়ে থাকে তার মিকুর পালক গুলোর দিকে। তার কাছে একটা আস্ত সাদাকালো পাতালের মধ্যে ঐটুকু শুধু পৃথিবীর নিজস্ব রংয়ের ছবি


    Spread the love