মন্দিরা ঘোষের কবিতা

    0
    13
    জন্ম বর্ধমান জেলায় একটি সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে।শৈশব থেকেই বইয়ের আবহে বেড়ে ওঠা। শিক্ষা- বোলপুর ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা পাক্ষিক,কৃত্তিবাস,শিলাদিত্য সহ বেশ কিছু লিটিল ম্যাগাজিনে পরিচিত মুখ।বিবাহসূত্রে বর্তমান ঠিকানা হাওড়ার শিবপুর।
    Spread the love

    আমাদের পতাকাভোর

    একটি বর্ষাকালীন ছুটির দিন।
     সকালে টেলিভিশনে চোখ রাখাটা অভ্যাসবশত বাধ্যতামূলক  হলে
     বাকি অংশের মুখ বিনোদনের রাস্তায় হাঁটে।
    মাঝে মুখরোচক খাবার টেবিল….
     চাহিদায়  দুটি অস্থির হাত পরাধীনতার ফ্যান গেলে চলে অনন্তকাল,
    আমরা খেয়াল করি না।
    ঘেঁষাঘেঁষি ছাদে আবদারের কাটাছেঁড়ায় তিরঙ্গার ফাঁস খুলে
    গড়িয়ে পড়ে কালচে বাসি ফুলের রক্ত।ফাঁকা রাস্তার ওপর
    দুটি শীর্ণ শিশুর আঙুলে প্রত্যয়ের আড়ালে জেগে থাকে
     ছেঁড়া কাগজে অশোকচক্রের গাঢ় অভিমান।
    আমরা খেয়াল করি না।
    বাতাসে ভাসে ক্লিশে সুর। সেই সুরে দামাল হয় না বিপ্লবের  চোখ,
    রক্ত উন্মাদ হয় না লৌহকপাট  গুঁড়িয়ে  ফেলতে।
    শুধু বিপ্লবের ট্যাটু আঁকা কব্জি ডুবে থাকে
    লোভের লালা  চেটে নিতে।
    স্বার্থের ক্যানভাসে লাবডুব পতাকা শরীর।
    আমরা খেয়াল করিনা।
    এক জোড়া নিঃসঙ্গ চোখ গ্রিলের ফাঁক দিয়ে
    রক্তের ধার মাপে, মেপে যায়। আলো আঁধারের গায়ে
     দৃষ্টিঘর ঈশ্বরীভোর আঁকে যেখানে মেঠো রাস্তায়
    সাইকেলের ঘন্টা মোবাইলের রিং টোন হয়ে যায়।
     মাঠে সবুজঘাসের বদলে দামাল রক্তের চোখ
    আন্তর্জালিক বিনোদনের লাল নীল ছবিঘরে আটকে থাকে।
    আমরা খেয়াল করিনা।
    দৃষ্টি কেটে কেটে লোহারগ্রিল যখন একটা ফাঁকা রাস্তা ধরে হেঁটে যায়
    দ্যাখে উদ্বেগের সাদা শাড়ি আঁচলে বাঁধা আজও মাঙ্গলিক লাল সুতো।
    যাতে সুদূর বিপ্লবের কাজলের টিপ জেগে আছে ধ্রুবতারা হয়ে।
    আমরা খেয়াল করি না।
    কতটা গাঢ় ছিল সেই প্রেম যাতে  কালশিটে  শোকপৃষ্ঠা থেকে
    ছিঁড়ে নেওয়া যায় মাটির ভুগোল !স্বকীয়তার স্বাক্ষর
    এঁকে জ্বলজ্বলে  হয়ে ওঠে গোটা একটা জাতির ইতিহাস।
    আমরা খেয়াল রাখি না।
    এবার একটা নতুন বিপ্লব লেখা হবে। হয়ত আলোর বারুদ
    ক্লান্ত অকৃতজ্ঞ চোখে এঁকে দেবে তেজস্ক্রিয়তার জয়টিকা।
    আমাদের খেয়াল রাখা দরকার……

    Spread the love