সাপ্তাহিক কোয়ার্কি ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৮৮)

অষ্টআসি

ঘরে ঢুকে দেখি লুলিয়া খাটের উপর বসার চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টার ফলে নাকে লাগানো অক্সিজেনের মাস্কে টান লেগে, অক্সিজেন সিলিন্ডার টা মাটিতে পরে গেছে। আমি তারা তারি লুলিয়াকে ধরে উঠে বসালাম। আমার পেছন পেছন ওরাও ছুটে এসেছে।জিজ্ঞাসা করলাম, “এখন কেমন বোধ করছ?”লুলিয়া জড়ানো গলায় বললো,”আগের থেকে বেটার। অর্ক প্লিজ আমায় তুমি ভুল বুঝোনা। তোমাকে আমার অনেক কিছু বলার আছে।”লুলিয়াকে আবেগপ্রবণ হয়ে যেতে দেখে বুঝলাম এখন ও কিছু বললে আমি অনেকেত ও বেতালদার সামনে অস্বস্তিতে পরে যাবো। তাই তাড়াতাড়ি ওকে বললাম “লুলিয়া আমি সব শুনবো। কিন্তু এখন নয়, পরে। আগে তুমি সেরে ওঠো। তোমার আরও রেস্ট দরকার। শুয়ে পড়ো প্লিজ।”লুলিয়া বাধ্য মেয়ের মতো শুয়ে পড়লো। অনিকেত আর বেতালদা কেউই বোকা নয়। পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে উনি বললেন,”স্যার আমরা তাহলে এখন আসি। ফোনে পরে আপনার সঙ্গে কথা বলে নেবো। যদি আরও কোনও তথ্য মনে পড়ে তাও জানিয়ে দেবে।”লুলিয়াকে শুনিয়ে বললাম “চলুন বেতালদা আপনাদের এগিয়ে দিয়ে আসি।”বেডরুম থেকে বেড়িয়ে ফ্ল্যাটের মেন দরজার দিকে যেতে যেতে বেতালদা বললেন,”স্যার আপনি তখন সোনার কোন বিখ্যাত মনুমেন্ট বা সৌধ বা মূর্তির কথা বলছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডএর বিখ্যাত সোনার বুদ্ধ মূর্তির কথা আমার মাথায় আসছে। থাইল্যান্ড এর রাজধানী ব্যাংককে Wang Traimit মন্দিরে সোনার এক বিশাল বুদ্ধ মূর্তি আছে। কিন্তু সেটার সাথে আপনার বলা জায়গা গুলোর কোনো মিল পাচ্ছিনা।”আমি বললাম,”হ্যাঁ ওই সোনার বুদ্ধ মূর্তির কথা আমি জানি। কিন্তু এই ব্যাপারে এর কিনো তাৎপর্য আছে কিনা দেখতে হবে। অনিকেত আমায় তুমি ড্রয়িংন গুলো কবে দিতে পারবে বলবে?।”অনিকেত বললো,”আমি বাড়ি গিয়ে,Autocad এ ফেলে দশ মিনিটের মধ্যে করে ফেলতে পারবো। আপনি যদি আমাকে মেল আই ডি দেন আপনার তাহলে আজি আপনাকে মেল করে দিতে পারি।”আমি আমার মেল আইডি দিয়ে অনিকেতকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে ফিরে এলাম।
বেডরুমে ফিরে এসে দেখি লুলিয়া বালিশে মুখগুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কান্নার আবেগে শরীর টা কেঁপে কেঁপে উঠছে। ওর প্রতি মনে যে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ জমে উঠেছিল আমার মনে, ওর এখনকার অবস্থা দেখে সেই বিদ্বেষ বা ক্ষোভ ভাবতে যেন সাময়িক কেটে গেছে। আমি ওর কাছে এসে দেখলাম, “লুলিয়া”। বোধহয় নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। বালিশে মুখ রেখে বললো,”আমি লুলিয়া নয় আমি শ্রীজা।”এবার বালিশ থেকে মুখ তুলে বললো,”আমি ঠগ, মিথ্যেবাদী, তবু তুমি আমায় ক্ষমা করে দিও অর্ক। কারণ আমি তোমায় ঠকাতে চাইনি। ঠকাতে বাধ্য করা হয়েছে আমাকে। আমি নিতান্তই অসহায় ছিলাম তখন।”এবার লুলিয়া মানে শ্রীজা চোখ নামিয়ে বললো,”অর্ক তোমার সঙ্গে অভিনয় দিয়েই শুরু করেছিলাম ঠিক কিন্তু তোমার দিব্বি বলছি আমি ধীরে ধীরে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমার কথা তুমি কত টুকু বিশ্বাস করবে জানিনা। তোমাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালো বেসেছি। প্রত্যেক রক্ত বিন্দু দিয়ে ভালো বেসেছি। আর তাই তোমার জন্য আমি বিদ্রোহ করেছি। সকল বাধা তুচ্ছ করে আমি সত্যিটা জানাতে চেয়েছিলাম। আর তার জন্য আমি মৃত্যুকেও স্বীকার করে নিয়েছিলাম। কিন্তু বোধহয় গত জন্মের পুণ্যের ফলে আমি মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আবার তোমার দেখা পাবো বলে। আমাকে সত্যি কথা বলার একটু সুযোগ দাও অর্ক। জানি আমি তোমার যোগ্য নয়। তাই ভালোবাসা চাওয়ার স্পর্ধা না দেখালেও ক্ষমা ভিক্ষা চাইতেই পারি।”অন্তরের অন্তস্থল থেকে ওই কথা গুলো উঠে আসছে মনে হলো। আমি লালিয়ার পাশে বসে ওর কাঁধে আমার হাত রাখলাম। আমার স্পর্শের মাধ্যমেই ও বোধহয় আমার মনের কথাটা বুঝে নিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে আবার ঝড় ঝড় করে কেঁদে ফেললো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।