শরীর টান টান করে দাঁড়িয়ে আছে প্রীতি । দূর থেকে দেখলে অনেকটা দাঁড় করিয়ে রাখা চেলোর মতো দেখতে লাগতেও পারে ! বুকের মাঝ বরাবর স্লিং ব্যাগের স্ট্র্যাপটা যেন চেলোর ছড়িটা .. ঘষলেই বেজে উঠবে ! এসব দেখাটেখা গুলো যার যার তার তার অবশ্য। কারও প্রীতিকে দেখে মনে হতেই পারে একটা পাম ট্রি । নিচের দিকে ইষৎ ভারী ।
প্লিজ টেক আ সিট …
কালো কাউচে প্রীতি তার সুগঠিত নিতম্ব ডুবিয়ে বসতে বসতে একবার চারধার দেখে নিল… নাঃ কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছে না ঘরে !
প্লিজ, রিল্যাক্স … টেক আ ডিপ ব্রেথ …
আবার সেই কন্ঠস্বর … একটা যান্ত্রিক স্বরক্ষেপনে প্রীতিকে চমকে আবার নির্দেশ আসে।
ঠাণ্ডা ঘরটায় আলো নেহাতই কম । সব কিছু দেখা যাচ্ছে অথচ কোনো কিছুই দরকারের থেকে স্পষ্ট নয় । প্রীতি পা বদল করে পরনের টি শার্টের কাঁধ টেনে দিতে ওর বুকের গঠন আরও উদ্ধত হয়ে উঠল । এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে একটা স্পটলাইট এসে পড়ল প্রীতির মুখে , এক হাতে ধাঁধিয়ে যাওয়া চোখ আড়াল করতেই প্রীতি টের পেলো লাইটটা অল্প নেমে স্থির হয়ে আছে ওর বুকে। প্রীতি একটা মৃদু শিরশিরানি টের পেল …
মিস, … আর ইউ ওকে !
প্রীতি কাঁধ ঝাঁকিয়ে দেখতে না পাওয়া কন্ঠস্বর কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল । ছটা সি সি টিভি ক্যামেরা নিরন্তর জরিপ করে যাচ্ছে প্রীতিকে। প্রীতির পিছনে একটা দরজা , যেটা দিয়ে ও ভিতরে এসেছে । আর একটা দরজা সামনে। ওই দরজার ওপারে কি কেউ আছে ! ঘরে একটা কাউচ , একটা টেবল একটা ফুলদানি আর রেকাবীতে রাখা সুসজ্জিত কিছু ফল … আপেল , আঙুর , বেদানা , পিচ …
মিস … প্লিজ স্ট্যান্ড আপ … উঠে দাঁড়ান সোজা হয়ে।
প্রীতি উঠে দাঁড়ায় । ঘরের আলোটা যেন পরিবর্তন হলো ! স্পট লাইটটার অবস্থান এখন ওর আঁটো জিন্সের কামড়ে আটকে থাকা সুঠাম নিতম্বে । ঘরটা যেন বড্ড ঠাণ্ডা হয়ে এসেছে , প্রীতি একটা আভ্যন্তরীন শীতল প্রবাহ টের পায় ওর শিরদাঁড়া থেকে পেলভিক অর্গান অঞ্চলে।
হঠাৎ আড়ালে থাকা স্পিকারে বেজে উঠলো … সুরটা খুব চেনা ! অথচ প্রীতি মনে করতে পারছে না এই মুহুর্তে ।
নাও … রিমুভ …যেমনটা কথা হয়েছিলো …
প্রীতি চমকে ওঠে … অথচ ওর চমকানোর কথা নয় ! কি কি করতে হতে পারে তা চুক্তির সময়েই লেখা ছিলো । প্রীতি ওর টি শার্টটা খুলে ফেলল ধীরে … বড্ড অস্বস্তি হচ্ছে ওর , কারও সামনে পোশাক খোলায় এমন হয় না ! কিন্তু অদৃশ্য কারও সামনে …
প্রীতি ওর অন্তর্বাস খুলে ছুঁড়ে দিলো কাউচে । উর্ধাঙ্গ উন্মুক্ত প্রীতিকে এখন অনেকটা ফলন্ত পেঁপে গাছের মতো লাগছে! নীলচে আলো পিছলে যাচ্ছে প্রীতির পরিচর্যার স্তনত্বকের মসৃনতায় …
মিস … এবার সামনে তাকান … রিল্যাক্স … গুনে গুনে সাত পা হেঁটে এসে ঘরের টেবলের কাছে গিয়ে দাঁড়ান ।
ওকে জরিপ করে চলা সব কটা ক্যামেরাই পুরুষ, ধরে নিয়ে প্রীতি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে , যদিও ওর অভিজ্ঞতা বলে বুকের দিকে তাকানোর ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৬০–৪০ … দুপক্ষ দুরকম উদ্দেশ্যে তাকায় । কিন্তু এখানে সবাই অদৃশ্য … তাই ওর বালিকাবেলা থেকে গড়ে ওঠা বোধ ওকে বলে, – এই সব ক্যামেরাগুলি পুরুষ , এবং তারা এখন প্রীতির সুডৌল বুকের দিকে তাকিয়ে।
টেবলের প্রান্তে একটা রেকাবিতে কিছু ফল রাখা আছে আগেই দেখা হয়েছে। প্রীতি ঠিক তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ।
নাও টেল মি … প্রথম কবে …!
১৬ বছরে … বাসে একটা কাকু …প্রচন্ড ব্যথা করেছিলো!
হুম … আপনার সম্পদে আপনি সন্দিহান না সন্তুষ্ট ?
আই ফিল পারফেক্ট … সাইজ এবং সেপ কপিবুক , বৃন্ত ঊর্দ্ধমুখী।
বেশ, আপনি কি স্পর্শ ও লেহনের অনুভুতি পছন্দ করেন ?
না… আমি নিষিদ্ধ করে রেখেছি , ছুঁতে পর্যন্ত দিই না ।
আচ্ছা , আপনি আপনার সামনে টেবলে কি কি দেখতে পাচ্ছেন ?
প্রীতি ভালো করে তাকালো টেবলের উপরে । একটা রেকাবিতে ফল , দুটো প্লেট , দুটো কাপ , দুটো গ্লাস এবং কটা কাঁটা চামচ ও একটি ছুরি । ঘরে আলো একটু যেন বেড়েছে , নাকি ওর চোখ সয়ে এসেছে ! ওর শিরিশিরানিটাও যেন একটু কমে এসছে , ওর মনে হচ্ছে না ও অর্ধ নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে এবং কত গুলো অজানা চোখ , পুরুষ চোখ , ওকে নিরীক্ষন করে চলেছে এযাবত!
প্রীতি বেশ সহজ বোধ করছে এবার ।
মিস … আমরা আজকের সেশানের শেষ পর্যায় এসে পড়েছি , আপনি প্রস্তুত তো ?
হ্যাঁ … আমি প্রস্তুত । অজানার উত্তেজনায় প্রীতি টান টান হয়ে দাঁড়ালো
মিস … কোনো শব্দ ব্যবহার না করে আপনি সাংকেতিক ভাষায় আপনার সম্পদের বিবরণ দিন… আপনার সময় শুরু হচ্ছে এখন …
প্রীতি এরকম প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলো না একেবারেই ! স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল …
মিস … ক্লক ইস টিকিং !
প্রীতি স্থির হয়ে আছে , ওর চিন্তায় আসছে না কি ভাবে ও বিবরণ দেবে …
আচমকা ও রেকাবির দিকে তাকালো ! নিমেষে সবজে আপেলটা তুলে নিল … তৃপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী চোখে আনাচে কানাচে থাকা সি সি টিভি ক্যামেরা গুলোর উদ্দেশ্যে বাঁ হাত তোলা আপেলটা তুলে ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল।
গুড … পরবর্তী প্রশ্ন আপনার ২৩ বছরের নারী জন্মের উপলব্ধি—
এক মুহুর্ত কি ভাবে প্রীতি …তারপর ধীরভাবে তুলে নেয় ছুরিটা , হাতে ধরা আপেলটিকে নিখুঁতভাবে মাঝবরাবর কেটে ফেলে টেবলে রাখা প্লেটে সাজিয়ে রাখে দুটি খণ্ড দুটি প্লেটে … আপেলের সাদা শাঁসের মাঝে কালো বীজ গুলো চোখে পড়তেই ওর গা ঘিনঘিন করে ওঠে আচমকা।
ইওর টাইম ইস আপ… আজকের সেশান এখানেই শেষ হচ্ছে মিস প্রীতি । ইউ ক্যান লিভ …
প্রীতি ধীরে কাউচে ফিরে আসে , ছেড়ে যাওয়া অন্তর্বাস আর টি শার্ট পরে নেয় দ্রুততায় , ব্যাগটা আবার আড়াআড়ি বুকের মাঝ বরাবর ঝুলিয়ে যে দরজার দিয়ে ঢুকেছিলো সেটার দিকে এগিয়ে যায় ।
দরজার সামনে গিয়ে কি ভেবে থমকে দাঁড়ায় , যন্ত্রস্বর নিঃস্তব্ধ , দ্রুত পায়ে ফিরে আসে টেবলের দিকে … একটা কাঁটা চামচ তুলে নিয়ে প্লেটে রাখা এক খন্ড আপেলের গায় গেঁথে দেয় , ফুলদানী থেকে একটা টকটকে লাল গোলাপ নিয়ে মৃদু হাতে শুইয়ে দেয় প্লেটের পাশে।
…ফিরে এসে দরজা খুলে বাইরে আসে।
সেই পোকার মতো কালো বীজগুলো এখনও ওর মনে ঘিনঘিনে ভাবটা জাগিয়ে রেখেছে…।