গল্পকথায় সম্পূর্ণা মুখোপাধ্যায়

অবজারভেশান

” আইনত …… ন্ডনীয়…….পরাধ”…….জায়গাটায় দাঁড়ালে প্রথমে এই লেখাটাই চোখে পড়ে। শব্দের বাকিটা উঠে গেছে বা হয়ত কেউ ইচ্ছে করেই তুলে দিয়েছে, যাতে আর নিষেধ না মানতে হয়। যাতে কেউ কিছু বল্লে এঁড়েতর্ক করে বলতেই পারে,কোথায় লেখা আছে দন্ডনীয়??
ওই খানটা যা খুসি হতে পারে।
এই জায়গাটাতে তার মানে কারো আসার কথা নয়।কিন্তু এই জায়গাটাতেই এক্স এসে থাকে।প্রায়ই, হামেশাই।তায় আবার হল্লা করতে করতে। দলবল বেঁধে। মাঝের পথের লোককে ঠেলে গুঁতিয়ে সরিয়ে এইখানে এসে আস্তানা গেড়ে, হু হু করে বইতে থাকা হাওয়া খেতে খেতে গলা ছেড়ে গল্প করার মজাই আলাদা।
এক্স হচ্ছে শার্লকিয়ান এবং পাঁড় থ্রিলার-আডিক্ট। ট্রেনের মিসিং বোর্ড , সাসপেক্ট লিস্ট , মেট্রোর ধরা পড়া অপরাধীর ছবি , এইসব চারপাশের ডিটেইলকে আশপাশের লোকজনের মত ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে মেনটালি ব্লক করে না,বরং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে।
মেট্রোয় ,বিশেষত অফিস্ টাইমে নানা জাতের নানা মতের মানুষ দেখতে তাই ওর বেশ লাগে। .দু একটাকে দেখে মনে হয় নির্ঘাত প্রাইম সাসপেক্ট , শ্রেফ এভিডেন্স এর অভাবে কিছু বলতে পারেনা।
যাই হোক,তো ,এই দু কামরার মধ্যিখানের জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই দিকের লোককে দেখতে খাসা লাগে ওর।
এক্স এর যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানোর স্বভাব।যেখানে সেখানে মানে যেখানে সেখানেই। এক দম সেই রাজার মত রাস্তায় বেরিয়ে প্রথম যে বাস,অটো বা রথ রিক্শা বা ব্রুম স্টিক , যা আসছে , তাতেই উঠে পড়ে মাঝে মধ্যেই ; দিয়ে আবার মা য়ের “কোথায় গেলি রে” চলভাষ এ ক্রিং ক্রিং শুনে বাড়ি ফেরে.।
এইর’ম একদিন , শীতটা সবে জাঁকিয়ে বসেছে সেদিন থেকেই, অন্ধকার আলো – আঁধারি রাস্তা দিয়ে দিয়ে অবশেষে মেট্রোতে এসে পৌঁছে এক্স ভাবলো বাঁচলাম।
দিব্বি ঝাঁ চকচকে মেট্রো স্টেশন। একদম লাইনের শেষে। ভেবেছিল হয়ত সাড়ে সাত টা মত বাজে , ও বাবা ,ঢুকে দেখে আটটা কুড়ি। এমনিতে আটটা কুড়ি হলে অন্য লোকের হয়ত অসুবিধে নেই , কিন্তু এক্স এমন জায়গায় থাকে যেখানে বারো মাসে তের বার রাস্তা খোঁড়া, বা কাটা বা পাইপ বসানো বা খাদ তৈরী চলতে থাকে। ফলে যে কোনো যান বাহনই আর সেদিকে যেতে চায়না। আজ আছে কপালে দুঃখ , ভাবতে ভাবতে এক্স এস্কেলেটার থেকে নেমেই দেখে , যে কবি সুভাষ- এর গাড়ি সুন্দর দরজা খোলা অবস্থা এ দাঁড়িয়ে আছে , ধুধু প্লাটফর্ম , সিটে টান হয়ে শুয়ে পড়লেও অসুবিধে নেই।
এক্স এর রোজ ট্রেন ধরাটা হয় সাধারণত উসাইন বোল্ট মার্কা একটা স্প্রিন্ট টেনে ,আর নামাটা হয় বাহুবলীর মত মারপিট করতে করতে। ফলে এমন চমত্কার ব্যাপার দেখে আনন্দে প্রায় উল্টে গিয়ে সিটের ওপর জাঁকিয়ে বসে। স্বভাব মত , একটু পরেই শুরু হয় অবজারভেশান ।
এদিক ওদিক জনা দু চার কাজফিরতি মানুষ , বিয়েবাড়ির যাত্রী , সেল ফোন দেখে চুল ঠিক করতে থাকা সাজুনি , এর চেয়ে বেশি আর কেউ নেই।
হঠাত চোখ পরে ভেস্টিবুল এ .ইশ , আজকে তো এখানে দাঁড়ালাম না !ভাবতে ভাবতেই দেখে ভেস্টিবুলটা হালকা হালকা দুলছে .
আর সেই দুলুনিতে পরের কামরাটা এই কামরার মাঝবরাবর এক্সিস থেকে সরে যাচ্ছে একটু একটু . ওই কামরা তেও লোক বসে .কিন্তু কে একটা চেনাচেনা , আগে কোথায় দেখেছি , ভাবতে ভাবতে এক্স কান চুলকায় .আবার চোখ পড়তেই দেখে , চেনা মত মেয়েটা আরো চেনা ভঙ্গিতে বসে কান চুলকাচ্ছে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।