কবিতায় প্রভাত ঘোষ

ঘূর্ণন

পৃথিবীর ভেতর পৃথিবী
কার কথা, কত কথা পাথরের খাঁজে
নর্তকীর সাজে,
মলাটের ভাঁজে…
যে বই লেখার চেয়ে মাঝে মাঝে পড়ে নেওয়া ভাল
ভেতরে ভেতরে৷
ঘূর্ণনে হারিয়ে যায় শোক;
কত হাত, বালির প্রণয়৷
এখন আর বিরহ আসে না৷
শ্লথ-প্রাণ অক্টোপাস চোখ
পৃষ্ঠা খুলে পড়ে ফেরে ঘরে
জোনাকি অক্ষরে
লিখেছে তাদের ভাল হোক৷

কণ্ঠরোধ

সিড়িটি পেরিয়ে এলে ঘর
মৃত্যু ও জ্ঞানের মাঝে ক্ষিদের শহর৷
জখমের কণ্ঠ পেষা গান
যা কিছু দেবার ছিল, বিদ্রোহী বয়ান
শান্তি প্রিয় কল্কের ধোঁয়ায়৷
মেধার ফসলে মূঢ় প্রাচীরের চিহ্ন পাওয়া যায়৷
দিকে দিকে লেহনের সুর
উল্লাসমধুর৷
আত্মহননের আগে লাথি খায় পঠনের স্তব
ক্ষিদের দুয়ার থেকে ফিরে গেলে সমুহ গৌরব৷

অতিক্রম

দুর্গম স্রোতের বুকে দর্পনের বড়োই অভাব৷ যে ডুবুরি আজীবন গভীরতা সন্ধান করেছে, তারই কাছে উন্মেষের রহস্য সাগর বহুকাল গোপনে সঞ্চিত৷
পথের সংসর্গে পথ বড়ো হয়ে যায়৷
কাছেই তো ছিল, তবু বুঝিনি কক্ষনো.. গীতা থেকে যুগান্তরে জন্মে গেছে সীতা৷
হে জ্ঞান প্রলয় আনো, ধুয়ে যাও ক্লেদাসক্ত দেশ৷ দ্বেষ যেন নিভে যায় কুয়াশা পেরিয়ে৷ এভাবেই বিবর্তন আনো৷ যাকে বার্তালাপ বলো তারই নাম নিজেকে পেরোনো৷
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।