আজ শনিবার। সঙ্গীতা আন্টি এসেছে তোতনকে আঁকাতে। তোতনকে তার প্রিয় ছবি আঁকতে দিয়ে সঙ্গীতা মোবাইলে মগ্ন হয়ে গেল। তোতন আঁকতে শুরু করলো তার প্রিয় ছবি। ছবিতে একটি ঘর। ঘরের মাথায় এককোণায় দেখা যাচ্ছে কলাগাছের পাতা। ঘরের সামনের থেকে বেরিয়েছে একটি রাস্তা। রাস্তার একপাশে একটি পুকুর। অপর পাশে ধান খেত। পুকুরে দুটো হাঁস। রাস্তায় একটি গরুর গাড়ি। ঘরের একপাশে একটি তালগাছ। অপর পাশে ঝাঁকড়া পাতাওয়ালা একটি বড়ো গাছ। নীল আকাশ। চারটে পাখি উড়ছে। ঘরের একদম পিছনে পাহাড়। পাহাড়ের কোলে সূর্য। এটাই তার প্রিয় ছবি যা এঁকে সে যেন তৃপ্ত হয়। তৃপ্ত তার ঠোঁটের অস্ফুট হাসি।
ছবিটি সঙ্গীতার দিকে তুলে ধরে। এই ছবিটা সঙ্গীতা অনেকবার দেখেছে। প্রতিবারই বলেছে খুব ভালো। তবে আজকে তার চোখে একটি অদ্ভুত ঘটনা ধরা পড়লো। তোতন যে ঘরটা এঁকেছে তাতে কোনো জানালা-দরজা নেই। সে তাহলে আগে খেয়াল করেনি! পাতা উলটে আগে আঁকা সেই ছবির কয়েকটা দেখলো। হ্যাঁ, সত্যিই তো! প্রতিটি ছবিতে ওই ঘরের কোনো জানালা-দরজা নেই। সে তোতনকে প্রশ্ন করে – হ্যাঁরে তোতন, ঘরের জানালা-দরজা আঁকিসনি কেন?
নির্বাক তোতন একদৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল চোখে ঘরের দিকে তাকিয়ে থাকে যার দৃষ্টির ভাষা সঙ্গীতা পড়তে পারলে বুঝতে পারবে একজন স্পেশাল চাইল্ডের অনুভূতিতে বন্ধ ঘর তার যাপনচিত্র, খোলা পৃথিবী ব্রাত্য …