অণুগল্পে চন্দ্রাণী বসু

চা এর কাপে

মুনিয়া সবে চাএর গ্লাসে মুখ দিতে যাবে হঠাৎ ওপর থেকে কিছু একটা পড়ে গরম চা ছলকে পড়ল হাতে। উফফ্ ! বলে চিৎকার দিয়ে পাঁচটা গালাগাল দেবার আগেই চারপাশের চিৎকারে থেমে গেল সে।
——-
স্বামী স্ত্রী দুজনেই তারা একই কলে মজদুরি করে। ঘরে আটটা পেট। পাশের বস্তিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই একঘরেই। তবু চারটে পেটের শত্তুর জন্মাতে বাধা হয় না। গতকাল মদ গিলে এসেছিল মরদটা। এদিকে কোলেরটার জ্বর, ওষুধ নেই। সকালে যখন মিনসে চা চেয়েছিল, শুনিয়েওছে আজ মুনিয়া মুখে যা এসেছে তাই। মেজাজটা বেধড়ক বিগড়েছে আজ। মিনসে কথা কয় নি যদিও।
——-
হসপিটালে বেডে জ্ঞান ফিরেছে সুকুলের। যন্ত্রণা প্রবল। পাশে মুনিয়া কেঁদেই চলেছে।
– বাঁচালি কেনে ? আমি তো জেনে বুঝেই… ট্যাকা পেতিস অনেকগুলান। তোর পেট বেঁচে যেত। কোলের গুলানও।
– ফুঁপিয়ে কাঁদে মুনিয়া
———
কলের মালিক ডেকে পাঠায় মুনিয়াকে ।
– তোর মরদ আর কাজ করতে পারবে না। কলের টাকা যা বাকি আছে নিয়ে যাস।
– বাবু আর কিছু টাকা !
– অ্যাঁ… ইচ্ছে করে আঙুল কেটেছে, সবাই জানে। আবার ট্যাঅ্যাকা চায় ! যা নিজের কাজে মন দে, নইলে ওটাও খোয়াবি।
——–
– টাকা কিছু পেলি না কি মুনিয়া ?
মুনিয়া দরজার সামনে বসে পরে থপ করে।
মরদ চায়ের কানা ভাঙা কাপে চা নিয়ে মুনিয়ার সামনে ধরে।
মুনিয়া ঘোলা চোখে যেন দেখতে পায় সুকুলের কাটা আঙুলটা চায়ে ভাসছে….
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।